“মুকুন্দরামের কাব্যে যে সমাজসচেতনতা, বাস্তবজীবন-চেতনা ও কৌতুকরস সৃষ্টিনৈপুণ্য লক্ষ্য করা যায়, তাহাই তাঁহাকে মধ্যযুগের বাঙলা মঙ্গলকাব্যের শ্রেষ্ঠ কবির সিংহাসনে বসাইয়াছে।”- পাঠ্য ‘চণ্ডীমঙ্গল’ কাব্য প্রথম খণ্ড অবলম্বনে মন্তব্যটি বিচার করো।
চণ্ডীমঙ্গল কাব্য গ্রন্থ উৎপত্তির কারণ অংশটি আশ্রয় করে মুকুন্দরামের সমাজ-সচেতনতার পরিচয় দাও। চণ্ডীমঙ্গল কাব্যে সমাজচিত্র অনেক মনীষীই আক্ষেপ করে বলেছেন বাংলা দেশ বা বাঙালীর কোনো ইতিহাস নেই। এটা অবশ্য বাস্তব সত্য যে, সেকালে বাঙালী বা ভারতবাসীর এ কালের অর্থে বিশেষ কোনো ইতিহাস-চেতনা ছিল না। একালে সাধারণত রাজা-রাজড়াদের ধারাবাহিক কাহিনীকে ইতিহাস বলা হয়। এই অর্থে প্রাচীন ...
“মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যে মুকুন্দরাম বাস্তবতার প্রবর্তক নহেন, কিন্তু তাহার কাব্যে ইহার শ্রেষ্ঠ সাবলীলতম প্ৰকাশ।” প্রসঙ্গ ও দৃষ্টান্ত উল্লেখ করে মন্তব্যটির সমর্থন অথবা খণ্ডন করো।
চণ্ডীমঙ্গল কাব্যে বাস্তবতা চণ্ডীমঙ্গল কাব্য তথা অভয়ামঙ্গল কাব্যের রচয়িতা কবিকঙ্কণ মুকুন্দ চক্রবর্তীর আবির্ভাব ঘটে ষোড়শ শতকের মধ্যভাগে। চৈতন্যদেবের প্রভাব তখন বহু-ব্যাপ্ত, বৈষ্ণব কবিতার তখন ভরা জোয়ার— এই পটভূমিকায় এলেন মুকুন্দ চক্রবর্তী। মনে হয়, তিনি বৈষ্ণব ভাবধারায় নিত এবং চৈতন্যদেবের প্রতি ভক্তিমান হ’লেও নৈষ্ঠিক গৌড়ীয় বৈষ্ণব ছিলেন না। তাই তিনি বৈষ্ণব পদ রচনায় আগ্রহ বোধ করলেন ...
‘চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের প্রধান দেব-দেবী চরিত্রগুলি বিশ্লেষণ করে তার মধ্যে মানবিক উপাদানের পরিমাণ নির্ধারণ করো।
বাংলা দেশের বিশেষ একটি যুগসন্ধিক্ষণে একটি সামাজিক প্রয়োজনেই সম্ভবত সৃষ্টি হয়েছিল মঙ্গলকাব্যধারার। বাঙালী তখন একটি রাষ্ট্রীয় বিপর্যয়ের মুখে পড়ে প্রধানত আত্মরক্ষার তাগিদেই চিরকালের উপেক্ষিত অবজ্ঞাত অনার্য সমাজকে টেনে নিয়েছিল বুকের কাছাকাছি। তার ফলে ঐ অনার্য সমাজের অনেক দেব-দেবী, ধ্যান-ধারণা, ধর্মীয় বিশ্বাস ও আচার-আচরণ স্বাঙ্গীকৃত হয়েছিল উচ্চতর সমাজ জীবনে। আর এই সুযোগেই অনেক নোতুন নোতুন দেব-দেবীর ...
‘কালকেতু’ কাহিনীতে দেবী চণ্ডীর ভূমিকা অলোচনা করো | দেব-দেবী-চরিত্রে মানবীয় উপাদান
দেব-দেবী-চরিত্রে মানবীয় উপাদান দেবী চণ্ডী পুরাণ-প্রোক্ত দেবী আদ্যাশক্তি ভগবর্তীর একটি বিশেষ রূপভেদ মাত্র। ‘চণ্ডের কপালে পড়ে নাম হৈল চণ্ডী’— হনি ভীষণামূর্তিতে চণ্ডাসুরকে বধ করেছিলেন। এটি হল ধর্মবিশ্বাসী ভক্তদের কথা। সমাজবিজ্ঞানী এবং ঐতিহাসিকগণ মনে করেন যে আর্য-প্রাগার্য সমন্বয়ের ফলে এক প্রাগার্য দেবীহ পরে বাংলা মঙ্গলকাব্যে ও সংস্কৃত পুরাণে রূপান্তর লাভ করে। অনেকে এর পশ্চাতে বৈদিক যুগের ...
কবিকঙ্কণ মুকুন্দ চক্রবর্তীর ‘চণ্ডীমঙ্গল’ গ্রন্থটির কাহিনী
ভূমিকা : কবিকঙ্কণ মুকুন্দ চক্রবর্তীর গ্রন্থটি ‘চণ্ডীমঙ্গল’ নামে একালে পরিচিত হলেও কবি নিজে কোথাও এই নামটি ব্যবহার করে নি। গ্রন্থমধ্যে ‘নৌতুন মঙ্গল’ বা ‘নুতন মঙ্গল’ নামেই এর পরিচয়, কোথাও বা একে বলা হয়েছে ‘অভয়া মঙ্গল’। মূল গ্রন্থটি দুই খণ্ডে বিভক্ত—প্রথম খণ্ডের নাম ‘আখেটিক খণ্ড’ বা ‘কালকেতু-ফুল্লরার কাহিনী এবং দ্বিতীয় খণ্ডের নাম ‘বণিক খণ্ড’ বা ধনপতি-লহনা-খুল্লনা-শ্রীমস্ত ...
