“মধ্যযুগীয় ধারা অনুসরণ করিয়া কবিকঙ্কণ মুকুন্দ তাহার চণ্ডীমঙ্গল কাব্যে প্রচুর অলৌকিক ক্রিয়াকলাপকে প্রশ্রয় দিলেও তাঁহার কাব্যে খাঁটি সম্পদ যে জীবন-রস-রসিকতা তাহা অস্বীকার করা যায় না।” কালকেতুর উপাখ্যান হইতে অলৌকিক ক্রিয়াকলাপ ও জীবন রস-রসিকতার দৃষ্টাত্ত উদ্ধৃত করিয়া এই মন্তব্যের যথার্থতা সমর্থন অথবা খণ্ডন করো।

চণ্ডীমঙ্গল কাব্যে অলৌকিকত্ব ও জীবনরস রসিকতা ভারতে আর্য-অভ্যাগমের পর অনার্যদের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ এবং সংমিশ্রণ যুগপৎ চলতে থাকে। তার ফলে প্রভূত পরিমাণ অনার্য ধ্যান-ধারণা, আচার-আচরণ, ধর্মীয় বিশ্বাস এবং দেব-দেবী আর্য সমাজেও প্রবেশ লাভ করে। এই অনার্য প্রভাবকে স্বাঙ্গীকরণ করে নিয়ে আর্যগণ নতুন ক’রে আবার সাহিত্য রচনায় প্রবৃত্ত হন এবং তারই ফলস্বরূপ অসংখ্য পুরাণ উপপুরাণ রচিত ...

Read more

কালকেতু উপাখ্যানে কাহিনী ও চরিত্রাঙ্কণ-কুশলতার সূত্র অনুসরণ করা কবিকঙ্কণের জীবনবোধের পরিচয় দাও।

কবিকঙ্কণের জীবনবোধের পরিচয় প্রাচীন ও মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান ধারাটিই ‘মঙ্গলকাব্য’ নামে অভিহিত হয়ে থাকে। রাষ্ট্রনৈতিক ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার ঘটনা সংঘাতে সমকালের সমাজজীবনে বিপুল বিপর্যয় হেতু আত্মরক্ষার প্রয়োজনে প্রাচীনপন্থী রক্ষণশীল সামাজিকগণও অনার্য-সমাজকে অনেকটা কাছে টেনে নিয়ে তাদের ধ্যান-ধারণা, আচার-আচরণ, দেব-দেবী এবং ধর্মবোধকেও কিয়ৎ পরিমাণে আত্মস্থ করতে চেষ্টা করেছিলেন। এরই প্রত্যক্ষ ফল—মঙ্গলকাব্যগুলির উদ্ভব। মূলত কোনো কোনো অনার্য ...

Read more

কবিকঙ্কণ-অঙ্কিত মুরারিশীলের একটি চরিত্র-চিত্র অঙ্কন করো।

কবিকঙ্কণ-অঙ্কিত মুরারিশীলের চরিত্র ‘বাণ্যা বড় দুঃশীল    নামেতে মুরারি শীল  লেখা-জোখা করে টাকাকড়ি।’ কবিবঙ্কণ মুকুন্দ এভাবেই মুরারিশীল নামক বেনেকে সর্বপ্রথম কাব্যে উপস্থিত করলেন। মুরারিশীলের প্রকৃত চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য কবির এই সংক্ষিপ্ততম উক্তিতেই ধরা পড়েছে। দেবী চণ্ডী ব্যাধসন্তান কালকেতুর দুঃখ-দুর্দশা মোচনের অভিলাষে তাকে একটি মাণিক্যের অঙ্গুরী দিয়ে বলেছিলেন যে এর মূল্য সাতকোটি তঙ্কা। তিনি বলেছিলেন যে কালকেতু যেন ...

Read more

ভাঁড়ুদত্ত মধ্যযুগের বাঙলা সাহিত্যে তার আচরণগত বৈশিষ্ট্যর জন্যে একটি উজ্জ্বল মানব চরিত্র– আলোচনা করো।

ভাড়ুদত্তের চরিত্র সমগ্র প্রাচীন ও মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে কবিকঙ্কণ মুকুন্দ চক্রবর্তী অঙ্কিত ‘ভাড়ুদত্ত’ সজীব চরিত্র হিসেবে এক অনন্য দৃষ্টান্তরূপে পরিচিত। একালের সাহিত্য সমালোচকদের প্রায় সকলেই মন্তব্য করেছেন যে একালে জন্মালে কবিকঙ্কণ একজন কবি না হ’য়ে ঔপন্যাসিক হ’তেন। কারণ উপন্যাসের প্রধান দু’টি লক্ষণ–বাস্তবতা ও চরিত্র সৃষ্টি– কবির চণ্ডীমঙ্গল কাব্যে এত সুস্পষ্টভাবে ধরা পড়েছে, তার তুলনা ...

Read more

শুধু মধ্যযুগ নয়, সমগ্র বাংলা সাহিত্যে ফুল্লরা এক অনন্য সাধারণ নারী চরিত্র- এই উক্তির পক্ষে বা বিপক্ষে তোমার যুক্তি বিন্যস্ত করো।

ফুল্লরা চরিত্র অবলম্বন করে মধ্যযুগীয় সাধারণ বাঙালী মেয়ের দুঃখ-সহিষ্ণুতার স্বরূপটি বুঝিয়ে দাও। ফুল্লরা চরিত্র রবীন্দ্র-স্বীকৃতিধন্য কবিকঙ্কণ-অঙ্কিত ‘ফুল্লরা’ চরিত্রটি সমগ্র মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে এক অনবদ্য সৃষ্টি রূপে পরিচিত। কবিকঙ্কণ খলচরিত্র-চিত্রণে অবশ্যই সিদ্ধহস্ত ছিলেন, তার বাইরে এই ফুল্লরা-চরিত্রেই তিনি বাস্তবতাবোধ এবং নির্মমতার সাহায্যে প্রাণ আরোপ করে চরিত্রটিকে জীবন্ত করে তুলতে পেরেছেন। ফুল্লরা শাপভ্রষ্টা দেবী ফুল্লরা স্বর্গজীবনে ছিল ...

Read more