রবীন্দ্রনাথের ‘সোনার তরী’ কাব্যগ্রন্থের মর্ত্যমমতা ও মানবপ্রীতির পরিচয় দাও।
পৃথিবী যে বাস্তবিক কত সুন্দর রবীন্দ্রনাথ তা আবিষ্কার করেন ‘সোনার তরী’ পর্বে এসে। জমিদারির কাজ দেখাশোনার জন্য তাঁকে আসতে হয়েছিল পদ্মাপারের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ৷ শিলাইদহ, পতিসর, কালীগ্রাম, সাজাদপুর প্রভৃতি স্থানে থাকার সময় প্রকৃতিকে নিবিড়ভাবে উপলব্ধি করেছিলেন। বাল্যকালে যেমন ভৃত্য। রাজতন্ত্রের জন্য প্রকৃতি থেকে দূরে থাকতে ঠিক তেমনি বড়ো হয়ে প্রকৃতির সান্নিধ্যে এসে মুগ্ধ হয়ে গিয়েছিলেন। ...
‘সোনার তরী’ কাব্যের প্রকৃতি প্রীতি আলোচনা করো।
বিশ্ব সাহিত্যের ইতিহাসে প্রকৃতি প্রেমিক কবি হিসাবে রবীন্দ্রনাথ অদ্বিতীয়। বাল্যকালে প্রকৃতিকে তিনি দেখেছিলেন আড়াল আবডাল থেকে। প্রকৃতি তাঁকে হাতছানি দিয়ে ডাকলেও তিনি বন্ধ ঘরের জানালা দিয়ে আকাশের নীলিমা, বাতাসের স্নিগ্ধতা উপলব্ধি করলেও তাদের স্পর্শে আসতে পারেননি। তাই ‘জীবন স্মৃতি’তে বলেছেন— “বাড়ির বাহিরে আমাদের যাওয়া একান্ত বারণ ছিল, এমনকি বাড়ির ভিতরেও….সে ছিল মুক্ত আমি ছিলাম বন্ধ—মিলনের ...
সোনার তরী (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর)
রবীন্দ্রনাথের সাধারণ আলোচনা : রবীন্দ্রনাথ কবি সার্বভৌম, তাঁকে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ কবি বললে মোটেই অত্যুক্তি হয় না। তাঁর জন্ম সাল ১৮৬১ খ্রিস্টাব্দ এবং তিনি লোকান্তরিত হন ১৯৪১ সালে। দীর্ঘ আশি বৎসর তিনি সাহিত্যসেবা করেছেন। বলা বাহুল্য বাংলা সাহিত্যের তিনিই প্রধান পুরুষ ; তিনিই বাণীমূর্তি স্বরূপ বিরাজমান ছিলেন। তিনি একাই একটি যুগ, বাংলা সাহিত্যের পূর্ণাঙ্গ এবং সর্বশ্রেষ্ঠ ...
‘সোনার তরী’ কাব্যের প্রথম ও শেষ কবিতায় (‘সোনার তরী’ ও ‘নিরুদ্দেশ যাত্রা’) ‘বিদেশিনী’ রূপে কবি কাকে সম্বোধন করেছেন? এই কবিতা দুটির মধ্যে ভাবগত কোনো সাদৃশ্য থাকলে তা পরিস্ফুট করো।
‘সোনার তরী’ কাব্যের প্রথম কবিতাটির নাম ‘সোনার তরী’ আর শেষটির নাম ‘নিরুদ্দেশ যাত্রা’। এই দুটি কবিতায় নিজের সকল কর্মপ্রচেষ্টা ও কাব্যপ্রচেষ্টার অন্তরালে কবি এক চালিকা শক্তির প্রভাব অনুভব করেছেন। প্রথম কবিতায় নৌকা বেয়ে এক নেয়ে আবির্ভূত হয়ে কবির আবেদনে সোনার ধান অর্থাৎ কবির সৃষ্টি কাব্যসম্ভার তরণীতে তুলে নেন, কিন্তু নৌকায় কবির স্থান হয় না। শেষ ...
‘নিরুদ্দেশ যাত্রা’ কবিতাটি বিশ্লেষণ করে কবির মনোভঙ্গির বৈশিষ্ট্য বুঝিয়ে দাও।
কবি-জীবনের প্রভাতকালে কোনো এক বিদেশিনী কবিকে ডেকেছিল এবং কোন্ দূর কল্পলোকের উদ্দেশ্যে তিনি তাঁরই তরণীতে যাত্রা করেছিলেন। কিন্তু সেই ‘সোনার তরী’ বহু পথ অতিক্রম করলেও যাত্রা সমাপ্তির কোনো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। কবি জানেন না, তরী তাঁকে কোথায় নিয়ে চলেছে। তরীর নাবিককে প্রশ্ন করে কোনো উত্তর পাওয়া যায় না। সে শুধু অঙ্গুলি তুলে অকূল সমুদ্রের ...
