শাক্ত পদাবলী ও বৈষ্ণব পদাবলীর পারস্পরিক সাদৃশ্য ও বৈসদৃশ্য আলোচনা করো।

শাক্ত ও বৈষ্ণব পদাবলী : পারস্পরিক প্রভাব ও পার্থক্য মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের সর্বশেষ উল্লেখযোগ্য সৃষ্টি শাক্তপদাবলী। চৈতন্যদেবের মহান্ প্রভাব অস্তমিত প্রায়, মঙ্গলকাব্যের দেবীগণের মাহাত্ম্যও নিঃশেষিত প্রায় সমগ্র গৌড়বঙ্গের রাজনৈতিক আকাশ ঘনমেঘে সমাচ্ছন্ন, এমন সময় একটা নতুন ভাবধারায় উদ্বুদ্ধ হয়ে শুকতারার মতো আত্মপ্রকাশ করলেন সাধক কবি রামপ্রসাদ সেন। তিনি যে শ্যামাসঙ্গীত রচনা দ্বারা সেই ক্রান্তিকালের উদ্বোধন ...

Read more

শাক্তপদাবলীর ‘আগমনী’ ও ‘বিজয়া’ পর্যায়ের পদগুলিতে বাঙালি সমাজ-জীবনের‌ যে পরিচয় পাওয়া যায় তা আলোচনা করো।

‘ভক্তের আকৃতি পর্যায়ের পদে প্রতিবিম্বিত সামাজিক চিত্রের বিস্তৃত বিবরণ লিপিবদ্ধ করো। বৈচিত্র্য ও জটিলতার দিক হইতে উভয়ের মধ্যে কোনো পার্থক্য দৃষ্টিগোচর হয় কী। শাক্তপদাবলীর সমাজচিত্র সাহিত্যকে বলা হয় সমাজ জীবনের দর্পণ। যে ব্যক্তিমানুষ সাহিত্য রচনা করেন, তিনি সমাজেরই সৃষ্টি, সমাজ পরিবেশই তার ব্যক্তিমানস গঠন ক’রে থাকে। কাজেই রচনার বিষয় যদি একান্তভাবে বস্তুনিষ্ঠ না হয় এবং ...

Read more

‘ভক্তের আকৃতি’ শীর্ষক পদণ্ডলির বৈশিষ্ট্য আলোচনা করো। এই পদ রচনায় কবিগণ যে রূপকগুলি ব্যবহার করেছেন সেগুলির সঙ্গে লোকজীবন ও লোকভাবনার সম্পর্ক বুঝিয়ে দাও।

ভক্তের আকুতির বৈশিষ্ট্য ও রূপক-প্রতীক কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক প্রকাশিত ‘শাক্তপদাবলী’ নামক সঙ্কলনের সম্পাদক শাক্ত পদাবলীকে বহু শ্রেণীতে বিভক্ত করলেও তার প্রধান বিভাগ তিনটি বাল্যলীলা ও আগমনী-বিজয়ার গান নিয়ে ‘উমাসঙ্গীত’। দ্বিতীয় বিভাগটি স্থূলভাবে ‘শ্যামাসঙ্গীত’-এর দুটি ভাগ—একটিকে ‘উপাস্যতত্ত্ব বলা চলে, এতে প্রধানত বর্ণিত হয়েছে জগজ্জননীর রূপ’ এবং এর মধ্যে আছে ‘ব্রহ্মময়ী না, ইচ্ছাময়ী মা, লীলাময়ী মা, করুণাময়ী ...

Read more

শাক্তপদকর্তাগণ ‘ভক্তের আকৃতি’ শ্রেণীর পদগুলিতে কীভাবে ভারতীয় দর্শনের শক্তিতত্ত্ব ও তন্ত্রসাধনার মূল কথাকে জনপ্রিয় গীতিকায় রূপান্তরিত করেছেন তা’ উদ্ধৃতিসহ আলোচনা করো।

“শাক্ত পদাবলী কোনো আনুষ্ঠানিক ধর্মের কাব্য নহে, ভক্ত-হৃদয়ের আন্তরিক অনুরাগেই স্বচ্ছন্দ প্রকাশমাত্র।”—’ভক্তের আকৃতি পর্যায়ের পদসমূহ হইতে প্রয়োজনীয় উদ্ধৃতিসহ তাৎপর্য বুঝাইয়া দাও। শাক্ত কবিমাত্রেই ভক্ত এবং তাদের সব পদেই এক জাতীয় আকৃতির প্রকাশ ঘটেছে। ভক্তের আকৃতি পর্যায়ের পাঠ্যপদগুলি অবলম্বনে এই আকৃতির স্বরূপ ব্যাখ্যা করো। শাক্তপদে ভক্তিরস অষ্টাদশ শতকের ঘোরতর সঙ্কটময় পরিবেশের মধ্যে সাধককবি রামপ্রসাদ সেন ভক্তের ...

Read more

“পুরাণের শক্তিদেবীর শাক্তপদাবলীতে আসিয়া কল্যাণী জননীর রূপ পরিগ্রহ করিয়াছেন।’—’ভক্তের আকৃতি’ পর্যায় হইতে রামপ্রসাদের পদ-অবলম্বনে ইহার সমর্থনযোগ্যতা বিচার করো।

‘ভক্তের আকৃতি’তে শক্তিদেবীর কল্যাণী জননীতে রূপান্তর ভারতীয় সাধনায় শক্তির আবির্ভাব প্রথম কবে ঘটেছিল, এ বিষয়ে ঐতিহাসিকগণ অভিন্নমত নন। প্রাগার্য-যুগ হরপ্পা-মোহেন্-জো দড়োর ভগ্নাবশেষে শক্তি সাধনার নিদর্শন পাওয়া গেছে—কোনো কোনো ঐতিহাসিকের এই অভিমত গ্রহণযোগ্য এবং তা আর্য ধ্যান-ধারণার বহির্ভূত বলেই স্বীকার ক’রে নিতে হয়। তবে বেদ-উপনিষদেও যে শক্তি-মাহাত্ম্য স্বীকৃত হয়েছে–এর নিদর্শনও দুর্লভ নয়। প্রমাণ স্বরূপ বেদের ‘দেবীসৃক্ত’ ...

Read more