পূর্বরাগের সঙ্গে অনুরাগের যে সূক্ষ্ম তাত্ত্বিক পার্থক্যের পরিচয় আছে, দুটি পর্যায়ের দুটি পদ বিশ্লেষণ করে তার স্বরূপ নির্ণয় করো।
অনেকে পূর্বরাগ এবং অনুরাগকে সমার্থকবাচক ভেবে গুলিয়ে ফেলেন। কিন্তু পুর্বরাগ ও আনুরাগ এক নয়। ‘রস কলিকা’ গ্রন্থে নন্দকিশোর দাস পূর্বরাগ ও অনুরাগের পার্থক্যকে সুন্দরভাবে উপস্থিত করেছেন। “সঙ্গ নহ রাগ জন্মে কহি পূর্বরাগ। সঙ্গ পরে রাগ যেই সেই অনুরাগ।” পূর্বরাগ বিপ্রলম্ভ শৃঙ্গারের অন্তর্গত। শ্রীরূপ গোস্বামী ‘উজ্জ্বলনীলমণি’ গ্রন্থে পূর্বরাগের সংজ্ঞায় জানিয়েছেন- “রতির্যা সংগমাৎ পূর্বং দর্শনশ্রবণাদিজা। তয়োরুম্মীলতি প্রাজ্ঞৈঃ ...
‘এসখি হামারি দুখের নাহি ওর’—পদটি যে পর্যায়ের তার সংজ্ঞা ও বৈশিষ্ট্য নির্দেশ করে পদটির কাব্যসৌন্দর্য বিশ্লেষণ করো।
আলোচ্য পদটি বিদ্যাপতি কর্তৃক ব্রজবুলি ভাষায় রচিত ‘মাথুর’ পর্যায়ের অন্তর্ভুক্ত। বৈষ্ণব রস-শাস্ত্রে বিপ্রলম্ভ শৃঙ্গারের চারটি বিভাগের ‘প্রবাস’ হল অন্যতম। বৈষ্ণব পদাবলীতে শুধু নায়কের প্রবাস গমনই বর্ণিত হয়েছে। পূর্বে মিলিত নায়ক-নায়িকার মধ্যে কেউ যদি দেশান্তরে গমন করেন তখন তাকে বলে প্রবাস। শ্রীরূপ গোস্বামী ‘উজ্জ্বল নীলমণি’ গ্রন্থে প্রবাসের সংজ্ঞা জানিয়েছেন- “পূর্বসঙ্গতয়োয়ুনো ভবন্দোশান্তরাদিভিঃ। ব্যবধানস্ত যৎ প্রাজ্ঞৈঃস প্রবাস ইতীর্যতে।।” ...
“প্রেমবৈচিত্ত’ কথাটির গূঢ়ার্থ বিশ্লেষণ করো। প্রেম বৈচিত্র্যের সঙ্গে আক্ষেপানুরাগের সম্পর্ক কি? আক্ষেপানুরাগের শ্রেষ্ঠ কবি জ্ঞানদাসকে বলা যায় কিনা সে বিষয়ে যুক্তি দাও।
প্রেমবৈচিত্ত্য বা অক্ষেপানুরাগ বৈষ্ণব পদাবলীর এক বিচিত্র। ব্যাপার এর স্বরূপ নির্ণয় করতে গিয়ে শ্রীরূপ গোস্বামী ‘উজ্জ্বল নীলমণি’ গ্রন্থে বলেছেন- “প্রিয়স্য সন্নিকর্ষ হপি প্রেমোৎকর্ষ স্বভাবতঃ। যা বিশ্লেষণ ধিয়াতিসঙ প্রেমবৈচিত্র্য্য মমুচ্যতে।” অর্থাৎ প্রেমের উৎকর্ষ বশত প্রিয়ের সন্নিধানে তাহার সহিত বিচ্ছেদ ভয়ে যে বেদনার উপলব্ধি তাহার নাম প্রেমবৈচিত্র্য। প্রেমবৈচিত্তের মূলকথা প্রেমের উৎকর্ষ এবং প্রেমের উৎকর্ষের জন্য নিজের ভাবের ...
“দূতর পথ গমন ধনি সাধয়ে’ কোন পর্যায়ের পদে কার কোন সাধনার কথা বলা হয়েছে? পর্যায়টির তত্ত্বগত বৈশিষ্ট্য আলোচনা সূত্রে উল্লিখিত পদটির তত্ত্বগত ও কাব্যগত সৌন্দর্য বিচার করো।
আলোচ্য পদটি গোবিন্দদাস কবিরাজ কর্তৃক ব্রজবুলি ভাষায় রচিত ‘অভিসার পর্যায়ের পদ। অভিসার পর্যায়ের পদরচনায় গোবিন্দদাসের শ্রেষ্ঠত্ব অবিসংবাদিত বলেই উক্ত পর্যায়ের পদে গোবিন্দদাসকে ‘রাজাধিরাজ’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে। আলোচ্য পদটি তিমিরাভিসার ও তমসাভিসারের অন্তর্ভুক্ত। আসলে এটি অভিসার নয়, অভিসারের প্রস্তুতি পর্বরূপে বর্ণিত হয়েছে। অন্ধকার বর্ষা-রজনীতে পথ চলার পক্ষে রাধাকে যে সকল দুস্তর বাধার সম্মুখীন হতে হবে বলে ...
গোষ্ঠী দর্শনের আশ্রয় ছাড়াই ব্যক্তিগত জীবনদর্শনের আলোকে উজ্জ্বল হয়ে আছে বিদ্যাপতির প্রার্থনা বিষয়ক পদ। প্রাসঙ্গিক পদ অবলম্বনে মন্তব্যটির যৌক্তিকতা বিচার করো৷
বিদ্যাপতির প্রার্থনার পদগুলির পটভূমিকারূপে জনৈক বিশেষজ্ঞের মত উদ্ধৃত করা হল – “প্রার্থনা পদে বিদ্যাপতি যে অভিনব কবি-ভাবনার কথা বলিতে ছিলাম, আমার নিজের বিশ্বাস, এগুলির মধ্যে কবির ব্যক্তি ও সমাজরূপের ছায়াপাত ঘটিয়াছে।” যে গভীর আন্তরিকতা এবং সুতীব্র আকৃতির সুরে পদগুলি রচিত তাতে এমনি সন্দেহ স্বাভাবিক। ‘আধজনম হাম নিন্দে গোঙায়লু, জরা শিশু কতদিন গেলা। নিধুবনে রমণী রসরঙ্গে ...
