‘বৈষ্ণব পদাবলী বৈষ্ণবতত্ত্বের রসভাষ্য’—এই উক্তির সমর্থনে তোমার মতামত প্রদর্শন করো।
বৈষ্ণব পদাবলী বৈষ্ণবতত্ত্বের রসভাষ্য বৈষ্ণব পদকর্তাগণ ছিলেন সকলেই ভক্ত মহাজন। তাঁদের কাছে বৈষ্ণবীয় তত্ত্ব তথা গৌড়ীয় বৈষ্ণবদর্শন অধ্যাত্মসাধনার মূল ভিত্তিস্বরূপ ছিল। কাজেই বৈষ্ণব পদাবলীতে অতি সহজেই এই অধ্যাত্মতত্ত্বের প্রলেপ লেগেছে। বলা বাহুল্য, বৈষ্ণব পদাবলীর মূল রস হল মধুর রস। কৃষ্ণ আপন আনন্দশক্তির আস্বাদনের জন্যই জীব ও জগৎকে সৃষ্টি করেছেন। বৈষ্ণব দর্শন মতে, জীবমাত্রেই নারী পুরুষ ...
“বিদ্যাপতি রাধার বিরহ হাহাকারকে লৌকিক স্তর থেকে উত্তীর্ণ করিয়ে অলৌকিক রসে প্রতিপন্ন করেছেন”—এই উক্তির উপর নির্ভর করে বিদ্যাপতির বিরহ পদের আলোচনা করো।
বৈষ্ণব পদাবলী সাহিত্যে বিদ্যাপতির ‘মাথুর’ পর্যায়ের পদ রচনায় শ্রেষ্ঠত্ব বৈষ্ণব পদসাহিত্যে বিদ্যাপতি বিরহের শ্রেষ্ঠ কবি। ভাব-ভাষা প্রকাশ-ভঙ্গীর গুরুত্ব, এক কথায় মৌলিক প্রকরণগত দিক দিয়ে দেখলে একথা স্বীকার করতেই হয় যে মাথুর বা বিরহ পর্যায়ের পদে বিদ্যাপতি কবি প্রতিভার বিজয়কেতন উড়িয়েছেন। শ্রীকৃষ্ণের মথুরা গমনের ফলে রাধার হৃদয়ে যে চিরবিরহের অন্ধকার ঘনিয়ে এসেছিল তার করুণ্যবাহক পদগুলিই মাথুর। ...
গোবিন্দদাস ও বিদ্যাপতির পদাবলীর পার্থক্য কি এবং কোথায়? আলোচনা করো।
গোবিন্দদাস ও বিদ্যাপতির পদাবলীর পার্থক্য গোবিন্দদাসকে বিদ্যাপতির কবিশিষ্য বলা হয় নানা কারণে। উভয়ের কাব্যেই শব্দের ঝঙ্কার, ছন্দের দোলা এবং অলঙ্কারের প্রচুর প্রয়োগ লক্ষ্য করা যায়। উভয়েই রূপমুগ্ধ কবি। কবি বল্লভদাস সমকালীন মানুষের মনোভাবকে বুঝে নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন— ব্রজের মধুর লীলা যা শুনি দরবে শিলা গাইলেন কবি বিদ্যাপতি ৷ তাহা হৈতে ন্যূন গোবিন্দের ...
চন্ডীদাসের পদাবলীর ভাব, ভাষা ও প্রকাশ ভঙ্গির বৈশিষ্ট্য আলোচনা করো।
মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের সর্বপ্রধান কবিব্যক্তিত্বের অধিকারী চন্ডীদাস। তিনি হলেন বাঙালীর ভাব সাধনার আদি কবিগুরু। কিন্তু দুর্ভাগ্য এই যে চন্ডীদাস কে, কোথায় জন্ম, চন্ডীদাস কজন— সে সম্বন্ধে আজও পাঠকরা বিভ্রান্ত। এই সমস্যার সমাধান যেমন এককথায় সম্ভব নয়। কোনও একজন কবি নিশ্চয়ই ছিলেন যিনি নিজের জীবনে ও সাধনায় বাঙালীকে তাঁর পবিত্রতম কাব্যাধিকার দিয়েছেন। বিমানবিহারী মজুমদারের মতে এক ...
গৌরবিষয়ক পদের প্রধান পদকতাদের পরিচয় দিয়ে তাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ কে তা নিরূপণ করো।
গৌরাঙ্গবিষয়ক পদকতাদের মধ্যে যাঁরা প্রধান তাঁরা প্রায় প্রত্যেকেই চৈতন্য সমসাময়িক বা তাঁর ঈষৎ পরবর্তীকালের পদকর্তা। চৈতন্যদেবের জীবন, তাঁর লৌকিক রূপ ও অলৌকিক ভাবসম্পদ তাঁরা প্রত্যক্ষ করেছেন বা যাঁরা প্রত্যক্ষ করেছেন, তাঁদের জীবন্ত স্মৃতি থেকে তা শুনে ও তাঁদের কবিমন সাক্ষাৎ-দর্শনের দিব্য উন্মাদনায় উদীপ্ত হয়ে উঠেছেন। মহাপ্রভু চৈতন্যের এই প্রত্যক্ষতাই ছিল তাঁদের কাব্য প্রেরণা। গৌরাঙ্গবিষয়ক পদকতাদের ...
