‘কালকেতুর বিবাহের অনুবন্ধ’ ও ‘কালকেতুর বিবাহ অবলম্বনে সে কালের সমাজের বিবাহ পদ্ধতি ও স্ত্রী আচারের পরিচয় দাও।
সমগ্র মধ্যযুগে যে সকল কারণে কবিকঙ্কণ অন্যতম শ্রেষ্ট কবি হিসাবে চিহ্নিত তাঁর মধ্যে তার সমাজচেতনার ব্যাপারে উল্লেখযোগ্য। ‘চণ্ডীমঙ্গল’ কাব্যে আমরা কবির বাস্তববোধ, তৎকালীন সমাজের জীবন যাত্রার একটা স্বচ্ছ ধারণা লাভ করতে পারি। ভারতীয় হিন্দুদের দশবিধ সংস্কারের মধ্যে বিবাহ সংস্কার প্রধান। বিবাহ ব্যাপারে স্ত্রীআচার প্রাধান্য পেয়েছে বরাবর। কবিকঙ্কন ষোড়শ শতকের কাব্যে যে বিবাহের বর্ণনা দিয়েছেন বর্তমান ...
“বাংলার আগমনী ও বিজয়া পর্যায়ের পদগুলিতে শাক্তসাধনা ও ভক্তিবাদকে ছাপিয়ে বড়ো হয়ে উঠেছে মানবিক আবেদন।” – উদ্ধৃতি সহযোগে অভিমতটি পর্যালোচনা করো।
মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্য ছিল ধর্মকেন্দ্রিক। ধর্মকে বা পৌরাণিক দেবদেবীকে কেন্দ্র করে তথাকার কবিরা তাঁদের জীবনকথাই ব্যক্ত করেছেন। মধ্যযুগের অন্য সব সাহিত্যের মতো শাক্তপদেও মানবিক আবেদন দেবতার অন্তরালে কীর্তিত হয়েছে। সেখানে দেবতারা তাদের দেবত্ব বিসর্জন দিয়ে মর্ত্য মানবের আত্মার নিগূঢ় মনস্তাত্ত্বিকতাতে পর্যবসিত হয়েছে। বাঙালি মনের “দেবতারে প্রিয় করি প্রিয়রে দেবতা” এই সমন্বয়ধর্মী মানসিকতা শাক্তপদে জীবন্ত হয়ে ...
শাক্ত পদাবলিকে সার্থক গীতিকবিতা বলা যায় কিনা তা এই কাব্যের ধর্মনিরপেক্ষ আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আলোচনা করো।
সুর নির্ভরতা মধ্যযুগের কাব্যের ধর্ম। অষ্টাদশ শতকে মাতৃসাধনার যে ধারার সূত্রপাত হল তার ভাষা কবিতার ভাষা হলেও, সঙ্গীতের সুরই তার মুখ্য বাহন। শাক্ত সঙ্গীতের পূর্ব নাম ছিল মালসী অর্থাৎ মালবশ্রী রাগাশ্রিত ভবানী বিষয়ক গান। অনেকের মতে মালসী আসলে লোকসঙ্গীত। শাক্ত সঙ্গীতে শাস্ত্রীয় সঙ্গীত ও লোকসঙ্গীত উভয় ধারার সমাবেশ ঘটেছে। বিষয়ানুযায়ী শ্যামাসঙ্গীত, শাক্তসঙ্গীত, আগমনী বিজয়া প্রভৃতি ...
শাক্ত পণবলির ‘আগমনী’ ও ‘বিজয়া’ শীর্ষক পদগুলির মধ্যে বাঙালির সামাজিক ও ধর্মনৈতিক চেতনার বিকাশ কীরকম ঘটেছে উদাহরণ দিয়ে বুঝিয়ে লেখো।
সাহিত্য ও সমাজের মধ্যে একটা যোগসূত্র বর্তমান, তা বিচ্ছিন্ন হবার নয়। মানবমনের ক্রিয়াকলাপের রূপই সাহিত্য। কিন্তু মানুষের কোনো আচরণই পরিবেশ নিরপেক্ষ নয় সহেতু প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে হলেও পরিবেশের প্রভাব সাহিত্যে থাকবেই। মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্য মূলত ধর্মাশ্রিত। কিন্তু তারই মধ্যে সংলাপ, চিত্রকল্পে সমাজ জীবনের অনেকটাই প্রতিফলিত। লীলাতত্ত্ব এবং শক্তিতত্ত্বের কথা থাকলেও তাঁদের রচনায় সমাজ জীবনের গভীর ...
“পটভূমি যাই হোক আগমনী ও বিজয়া সঙ্গীত বাঙালির গার্হস্থ্য জীবনেরই সঙ্গীত।” –তোমাদের পাঠ্যপদ অবলম্বনে মন্তব্যটি বিচার করো।
“বাঙালি ঘরের কথাই বড়ো হয়ে দেখা দিয়েছে শাক্তপদাবলিতে।”- তোমাদের পাঠ্যপদ অবলম্বনে মন্তব্যটির যথার্থ প্রতিষ্ঠিত করো।আগমনী ও বিজয়া সঙ্গীতগুলিতে বাঙালি জীবনের পারিবারিক চেহারাটা কীভাবে ধরা পড়েছে, তা উদ্ধৃতি সহযোগে দেখাও। মধ্যযুগের বাংলা কাব্য সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথ বলেছেন— বৈষ্ণব কাব্য রাধাকে অবলম্বন করে গৃহের বাহিরে গেছে আর শাক্তগান উমাকে অবলম্বন করে গৃহের ভিতরে প্রবেশ করেছে। তাই বৈশ্বব পদাবলি ...
