কাব্যপ্রেরণার দিক থেকে বাঙলার বৈষ্ণব পদাবলি ও শাক্তপদাবলিকে একই উৎস থেকে জাত বলা যায় কিনা যুক্তিসহকারে সে বিষয়ে তোমার অভিমত প্রতিষ্ঠিত করো।
মধ্যযুগীয় বাংলা পদাবলি সাহিত্যে দুই প্রধান ধারা– (১) বৈষ্ণব পদাবলি (২) শাক্তপদাবলি। এই দুই পদসাহিত্যের মূল বৈশিষ্ট্য ভক্তিসংগীত। কিন্তু ভক্তসাধকদের কাছে ভক্তির রসভাবনা তাঁদের সাধনার লক্ষ্য হিসাবে অনেকখানি পৃথক। বৈষ্ণবপদের ধারা যখন অন্তর্হিত প্রায়, তখনই আবির্ভাব ঘটে শাক্তপদের। এই শাক্তপদের উদ্ভবের পিছনে বৈশ্বব পদাবলির প্রভাবকে অস্বীকার করা যায় না। সমালোচক শ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন – “বৈষ্ণব ...
‘মুসলমানদিগের শ্রেণিবিভাগ’ ও ব্রাহ্মণগণের অংশে কবিকঙ্কন মুকুন্দের সমাজচেতনার ভিন্নতর মাত্রা উপলব্ধ হয়— আলোচনা করো।
চণ্ডীমঙ্গল কাব্য সামাজিক পটভূমিতে সৃষ্ট। মুকুন্দরামের কাব্যের ‘গুজরাট নগর পত্তন’ অংশে কালকেতুর আদর্শ সমাজ গঠনের কথা পরিস্ফুট হয়েছে। সম্পূর্ণ শোষণ মুক্ত এক সমাজ সে গড়েছে। বলা বাহুল্য জমিদারের পীড়নে জর্জরিত মুকুন্দরাম কল্পনায় এক আদর্শ শোষণমুক্ত রাজ্যের স্বপ্ন দেখেছিলেন। তাই কালকেতুকে দিয়ে সে স্বপ্ন বাস্তবায়িত করতে চেয়েছিলেন। গুজরাট নগর পত্তনের পর নানা জাতির নানাবৃত্তির বহুলোক সেখানে ...
‘কবিকঙ্কন চণ্ডী’ কাব্যে ‘চণ্ডীকে ফুল্লরার প্রশ্ন’ ও চণ্ডীর প্রতি ফুল্লরা উপদেশ অবলম্বনে ফুল্লরার চরিত্র আলোচনা করো।
চরিত্র সৃষ্টিতে কবিকঙ্কন জীবন্ত রূপদান করেছেন। দেবী চণ্ডিকার আর ফুল্লরার কথোপকথনে গ্রাম বাংলার গৃহবধূর রূপ ফুটে উঠেছে। দেবী পার্বতী মর্ত্যে পূজা পাবার জন্য ইন্দ্রপুত্র নীলাম্বরকে কালকেতুর রূপে মর্ত্যে পাঠিয়ে দেবীর পূজা প্রচার করতে চান। কালকেতু ব্যাধ সম্ভান, পশুশিকারও মাংস বিক্রি করে সংসার চালাতে হয়। তার অত্যাচারে বনের পশুরা ক্রন্দনমুখর। পশুগণ দেবীর কাছে তাদের দুঃখ বণর্না ...
কবিকঙ্কন-চণ্ডী অবলম্বনে নদনদীগণের কালিঙ্গদেশে যত্রার বিবরণ দাও। ‘কলিঙ্গ রাজ কর্তৃক বর্ষার শান্তি’ কেমন করে হয় নির্দেশ করো।
দেবী প্রদত্ত অঙ্গুরী নিয়ে কালকেতু মুরারি শীলের কাছ থেকে সাত কোটি টাকা নিয়ে গুজরাট নগর স্থাপন করল। নগর, মন্দির মসজিদ প্রভৃতির নির্মাণ এবং অসংখ্য পুকুর, কৃপ কাটান হল। বিশ্বকর্মাও হনুমানের সহায়তায় বীরের পুরী এবং চণ্ডীর দেউল নির্মিত হল। কিন্তু কালকেতুর মনে দুঃখ ঘুচল না। নগর পত্তন হল, কিন্তু প্রজাহীন নগর। কালকেতু দেবীর শরণাপন্ন হল। দেবীর ...
ফুল্লরার নিকট ভাঁড়ু দত্তের কপটবাক্য এবং কালকেতুর প্রতি ভাঁড়ু দত্তের কপট বাক্য অবলম্বনে ভাঁড় দত্তের চরিত্র বৈশিষ্ট্য আলোচনা করো।
সমগ্র চণ্ডীমঙ্গল কাব্যে ভাঁড়ু দত্ত স্বতন্ত্র এক মানব চরিত্র। ভাঁড়ু দত্ত সমগ্রকাব্যে স্বাতন্ত্রের দাবিদার তার কৌতুক প্রবণতার জন্য, দ্বিচারিতার জন্য, ষড়যন্ত্রের জন্য, কূটকৌশলের জন্য। ভাঁড়ু চরিত্রের মধ্যে প্রকাশ পায় স্বার্থরপতা, আত্মসুখ, যার জন্য অনায়াসে সে অন্যের ক্ষতি করতে প্রস্তুত। তার চরিত্রেও কপটতা ও অভিনবত্বের স্বাদ পাওয়া যায়। ফুল্লরার নিকট ভাঁড়ু দত্ত : ভাঁড় দত্ত কূটকৌশলী, ...
