ভক্তের আকৃতি কী? এই পর্যায়ের পদ অবলম্বনে কবিদের মনস্তত্ত্বের স্বরূপ নির্ণয় করো।
আকুতি শব্দের আভিধানিক অর্থ অভিলাষ বা অভিপ্রায়। ‘ভক্তের আকুতি’-র অর্থ তাহলে দাঁড়ায় আধ্যাত্মিক জগতের প্রতি ভক্তের আন্তরিক আকাঙ্ক্ষা। শাক্তসাধক কেউ রাজা, কেউ মাতা, কেউ ভক্ত, কেউ প্রেমিক। কিন্তু জগতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে কেউ বদ্ধ, কেউ মুক্ত, কেউ বিমর্ষ। এদের প্রত্যেকের আর্তিও বিভিন্ন ধরনের। এদের প্রার্থনার মধ্যে একটা সারবস্তু লক্ষ্য করা যায়, যার বিষয়বস্তু একই। প্রত্যেকের কামনা ...
‘ভক্তের সংশয়’ ও অভিমান শেষপর্যন্ত ‘ভক্তের আকৃতি’ পর্যায়ের পদে কীভাবে ভক্তের পরিণতি পেয়েছে তা দৃষ্টান্ত দিয়ে বুঝিয়ে লেখো।
রামপ্রসাদ বাংলাদেশে শক্তিতান্ত্রিক সাধনাকে মাতৃসাধনায় রূপান্তরিত করেছেন। রামপ্রসাদের মাতৃসাধনা হল ভাবের সাধনা- সে যে ভাবের ভাবী, ভাব ব্যতীত অভাবে কী ধরতে পারে? শক্তিতান্ত্রিক সাধনা ছিল ক্রিয়া-প্রক্রিয়ামূলক। এই ক্রিয়া-প্রক্রিয়ামূলক তান্ত্রিকসাধনা থেকে সম্পূর্ণ আলাদা ভাবসাধনা। তাই দেহগত যোগসাধনা থেকে হৃদয়ের ভক্তিসাধনাই প্রধান। এই ভক্তিসাধনাতে ভক্তসাধকগণ মাতৃচরণে আশ্রয় পাওয়ার জন্য কাতর প্রার্থনা করেছেন। তাঁদের সাধনা বাৎসল্য প্রতিবাৎসল্যের মধ্য ...
“হরগৌরীর কথায় আমাদের বাংলাদেশের একটা বড়ো মর্মের কথা আছে।” – আগমনী ও বিজয়া পর্যায়ের পাঠ্যপদ অবলম্বনে আমাদের দেশের উক্ত মর্মের স্বরূপ বিশ্লেষণ করো।
বাংলাদেশের বিশেষ আর্থ-সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক প্রেক্ষিতে যে পদগুলি রচিত হত তা বাঙালির জীবনের নানান দিক নিয়ে রচিত। শাক্ত পদাবলিতে বাংলাদেশের একটা মর্মবাণী প্রকাশ লাভ করেছে। প্রসঙ্গত হর- গৌরীর কাহিনি উল্লেখও হয়েছে। শাক্তপদাবলিতে তন্ত্রসাধনার সাথে বাঙালির জীবনের মর্মকথাও অঙ্কিত হয়েছে। এই মর্মকথাটির দুটি ভাগ – (১) ‘দেবতারে প্রিয় করি প্রিয়েরে দেবতা’ বাঙালির এই – সমন্বয়ধর্মী মানসিকতা ...
“শাক্ত কবি মাত্রেই ভক্ত এবং তাদের সব পদেই এক ধরনের আকুতির প্রকাশ ঘটেছে।” – ভক্তের আকুতি পর্যায়ের পাঠ্যপদ থেকে উপযুক্ত উদ্ধৃতি দিয়ে এই আকুতির স্বরূপ ব্যাখ্যা করো।
শাক্ত পদাবলির দুটি ধারা– একটি ‘উমাসঙ্গীত তথা আগমনী বিজয়ার গান, অপরটি ‘শ্যামাসঙ্গীত’। একটিতে জগজ্জননীর রূপ অপরটিতে ভক্তের আকৃতি বর্ণিত হয়েছে। সমস্ত শাক্ত পদাবলিতে মাতা-সন্তানের পারস্পরিক সম্পর্কটিই প্রকাশিত। সস্তানের প্রতি মাতার স্নেহ ‘বাৎসল্যরস’ এবং জননীর প্রতি সন্তানের ভালোবাসা প্রতিবাৎসল্যরস’ মূলত ভক্তিরসেরই আধার তা ভক্তের আকৃতি পর্যায়ের পদগুলি বিশ্লেষণ করলে তার প্রমাণ পাওয়া যাবে। বিশেষত ‘আগমনী-বিজয়া’ পদে ...
“রামপ্রসাদই শাক্তগানের গোমুখী উৎস।”—উক্তিটির আলোকে তোমাদের পঠিত পদ অবলম্বনে রামপ্রসাদের কৃতিত্ব দেখাও।
বৈষ্ণব পদাবলিতে চণ্ডীদাসের যে স্থান, শাক্তপদাবলিতে রামপ্রসাদের সেই স্থান। এমন কথা বহু আলোচক বলেছেন। কাব্যের প্রসাদগুণের মানদণ্ডে ও হৃদয়াবেগের গভীর গাঢ় উচ্চারণে রামপ্রসাদ চণ্ডীদাসের মতোই সার্থক ভক্ত কবি। হৃদয়ভাবের অকৃত্রিম প্রকাশ যদি শ্রেষ্ঠ কবিতার সংজ্ঞা হয়, তবে রামপ্রসাদ মধ্যযুগের বাঙালি কবিদের মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি বলে স্মরণীয়। দেবতা ও ভক্তের মধ্যে ব্যবধান ঘুচিয়ে রামপ্রসাদই প্রথম ...
