নিজের সময়ের প্রত্যক্ষ সমস্যা জুড়ে দিয়ে রামপ্রসাদ শক্তিতত্ত্বে নতুন মাত্রা যোগ করেন – উদ্ধৃতিসহ আলোচনা করো।
সাধক কবি রামপ্রসাদ তাঁর আধ্যাত্মসাধনায় দুঃখ থেকে মুক্তি পেতে চেয়েছেন। তাঁর অধিকাংশ গানেই দুঃখ থেকে সেই মুক্ত হবার বাসনা প্রকাশ পেয়েছে। পার্থিব জগতের দুঃখ, নিজের জীবনের চরম সমস্যার সম্মুখীন হয়ে তাঁর অভিমান, অভিযোগ মায়ের কাছে, কখনও একেবারে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন– “এবার কালী তোমায় খাব, রামপ্রসাদে এই ভনে; দ্বন্দ্ব হবে মায়ের সনে।” মায়ের কাছে অভিযোগ “কোনো ...
শাক্তপদাবলির শ্রেষ্ঠ কবি হিসাবে তুমি কাকে ও কেন মনে করো ? তাঁর রচনা কীভাবে পাঠকদের মনে রসানন্দ জাগিয়ে তোলে তা লেখো।
শাক্তপদাবলিতে রামপ্রসাদের সমশ্রেণিভুক্ত না হলেও রামপ্রসাদের পরেই যাঁর স্থান দেওয়া উচিৎ তিনিই হলেন কমলাকান্ত ভট্টাচার্য। তিনি ছিলেন যুগপৎ কবি ও সাধক। কমলাকান্ত মূলত সঙ্গীতকার। তিনি কবিপ্রতিভার শিখরদেশ আরোহণ করেছেন আগমনী বিজয়ার পদগুলির মধ্য দিয়ে। সম্ভবত অষ্টাদশ শতাব্দীর পূর্বে আগমনী বিজয়াকে বিষয়বস্তুরূপে গ্রহণ করে কোনো গীতিকাব্যের ধারা বাংলাদেশে প্রচলিত ছিল না। রামপ্রসাদই প্রথম এবং প্রায় সমসাময়িক ...
শাক্তপদাবলিতে আগমনী ও বিজয়া পর্যায়ের মূল রসটি কী? সেই রস সৃষ্টিতে শাক্তপদকর্তাদের কৃতিত্ব পাঠ্যপদ অবলম্বনে আলোচনা করো।
ভূমিকা : ‘কাব্যদ্বারা যে অর্থসমূহ প্রকাশিত হয়, তাহাদের সম্মেলনে আত্মস্বরূপ যে আনন্দ সমুদ্ভুত বা সমুদিত হয়, তাহাই স্বাদ অর্থাৎ রস। বিদ্যাপতি ও চণ্ডীদাসের মতো কবি প্রতিভা কিংবা পঞ্চদশ শতকে চৈতন্যদেবের আবির্ভাবে বৈষ্ণুব কবিতায় যে কুল প্লাবিত জোয়ার দেখা দিয়েছিল অষ্টাদশ শতাব্দীতে এসে তাতে ভাঁটা পড়ে। সেইক্ষণে শ্যামাসঙ্গীতের যুগন্ধর কবি রামপ্রসাদের আবির্ভাব। শ্যামাসঙ্গীতের দ্যুতিময় ঐশ্বর্য নিয়ে ...
“শাক্তপদাবলির সর্বত্র মাধুর্য ও ঐশ্বর্যভাবের একাত্মতা লক্ষ্য করা যায়।” –তোমাদের পাঠ্য পদ অবলম্বনে মন্তব্যটির যৌক্তিকতা বিচার করো।
শস্য-শ্যামল, কোমল বাংলার আবহাওয়াতে শাক্তপদাবলি রচিত। সমগ্র শাক্ত পদাবলিতে ঐশ্বর্য ও মাধুর্য রূপের একাত্মতা লক্ষ করা যায়। শাক্ত পদাবলি শক্তিসাধনার সঙ্গীত, যেখানে শক্তির মাহাত্ম ও গুণকীর্তি কীর্তিত্ব হতে হতে ধীরে ধীরে ঐশ্বর্য ভাব মাধুর্যে পর্যবসিত হয়েছে। ঐশ্বর্যের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ‘তৎকর্ম’, ‘তদ্দ্ভাব’, ‘ঈশ্বরের কর্ম বা ভাব’। শাক্ত পদাবলিতে পুরাণের শক্তিদেবীর রুদ্র ভীষণ। ভয়ংকরা, অট্টহাসিনী রূপের মধ্যে ...
“আগমনী ও বিজয়া গানে আমাদের আঁতের কথা, ঘরের ছবিই বড়ো হয়ে উঠেছে।” –তোমাদের পাঠ্যপদ অবলম্বনে মন্তব্যটি বিচার করো।
মধ্যযুগের বাংলা কাব্য সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথ একদা বলেছেন – বৈষ্ণব কাব্য রাধাকে অবলম্বন করে গৃহের বাহিরে গেছে আর শাক্ত গান উমাকে অবলম্বন করে গৃহের ভিতরে প্রবেশ করেছে। তাই বৈষ্ণব পদাবলি “মাটির ওপর দাঁড়াইয়া আকাশের দিকে মুখ করিয়া গান।” কিন্তু শান্তগীতি গৃহের মঙ্গলগীতি। বৈষ্ণব পদাবলিতে গার্হস্থ্য জীবন ছবি নেই কিছু শাক্ত কবিগণ সংসার সঙ্গীত রচনা করতে গিয়ে ...
