মুরারি শীল ও ভাঁড়ুদত্ত এই দুইটি চরিত্র অবলম্বন করিয়া মুকুন্দরামের চরিত্রাঙ্কন নৈপুণ্যের পরিচয় দাও এবং এই দুইটি চরিত্রের হাস্যকরতা যে উহাদের জীবন্ত করিয়া তুলিতেও যথেষ্টা সহায়তা করিয়াছে তাহা আলোচনার সাহায্যে বুঝাইয়া দাও।
চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের গতানুগতিক কাহিনীর মধ্যে মুকুন্দরাম কিছুটা বৈচিত্র্য সম্পাদন করেছেন বটে কিন্তু তাঁর প্রতিভার পরিচয় পাওয়া যায় এই কাব্যের কয়েকটি চরিত্রাঙ্কনের মধ্যে। তিনি একদিকে যেমন দেবচরিত্রগুলি মনুষ্যধর্মে রূপায়িত করেছেন অন্যদিকে তেমনি মনুষ্যচরিত্র রূপায়ণে তীক্ষ্ণ পর্যবেক্ষণ শক্তির পরিচয় দিয়েছেন। মনুষ্য চরিত্রগুলির মধ্যে স্ত্রী ও খল চরিত্রগুলির রূপায়ণেই মুকুন্দরাম অসাধারণ নৈপুণ্যের পরিচয় দিয়েছেন। খল চরিত্রগুলির মধ্যে মুরারি ...
মুকুন্দরামের রসিকতা যে জীবনের লঘু ও গম্ভীর সর্বক্ষেত্রেই সমভাবে স্বতঃস্ফূর্ত ও উহার বিকাশ যে কেবলহাসির উপলক্ষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, তাহা তাঁহার চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের আলোচনার দ্বারা প্রতিপন্ন করিতে চেষ্টা করো।
বাস্তব রসের কবি হিসাবে মুকুন্দরামের কৃতিত্ব ‘চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের প্রচলিত আখ্যায়িকা এবং চণ্ডীদেবীর চরিত্র পরিকল্পনার মধ্যেই জীবনবোধ এবং বস্তুনিষ্ঠার যেথষ্ট পরিচয় মিলে। মুকুন্দরামের কৃতিত্ব এই যে, তিনি রসিক শিল্পীর সামঞ্জস্যবোধ ও সূক্ষ্ম রসবোধ লইয়া, কোথাও বা নিজের কল্পনা জুড়িয়া দিয়া উহার মধ্যে বাস্তবরসের সঞ্চার করিতে সক্ষম হইয়াছেন।— আলোচনা করো। মধ যুগের সমাজব্যবস্থা এবং জীবনবোধ এমনই ছিল ...
মঙ্গলকাব্য রচয়িতাদের মধ্যে মুকুন্দরামের কল্পনার মৌলিকতা ও জীবন-পর্যবেক্ষণের স্বাতন্ত্র্যের যে পরিচয় মিলে তাহা তাঁহার চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের বিষয়বস্তু ও চরিত্রচিত্রণের সাহায্যে বুঝাইয়া দাও।
‘কবিকঙ্কণ-চণ্ডীতে দেবদেবী এবং নানা অলৌকিক ঘটনা আমদানি করা হইয়াছে, কিন্তু জীবনরসিক কবি এই সকল বাস্তব-বিরোধী উপাদানের সাহায্যে যে জগৎ ও জীবন অঙ্কিত করিয়াছেন, তাহা আমাদের চোখে দেখা বাস্তব জগৎ।- আলোচনা করো। মঙ্গলকাব্যের কাহিনী দেবমাহাত্ম্যমূলক। স্বর্গের দেবতা মর্ত্যে আসিয়া কি ভাবে তাঁহার পূজা প্রচার করেন মঙ্গলকাব্যের কাহিনীর মধ্যে তাহার সবিস্তার বর্ণনা আছে। দেবতার শক্তি অলৌকিক, সেই ...
‘কবিকঙ্কণ চণ্ডী’-র কয়েকটি প্রধান চরিত্র অবলম্বন করিয়া মুকুন্দরামের মানবচরিত্রাভিজ্ঞতা, এবং জীবনরস উপভোগের বৈশিষ্ট্য সম্বন্ধে আলোচনা করো।
মুকুন্দরামের মানবচরিত্রাভিজ্ঞতা, এবং জীবনরস উপভোগের বৈশিষ্ট্য চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের কাহিনী ব্রতকথার আকারে মুকুন্দরামের আবির্ভাবের বহু পূর্ব হতেই সমাজে প্রচলিত ছিল। কাহিনীর পরিবেশনায় কিছুটা বৈচিত্র্য সম্পাদন করলেও মুকুন্দরামের প্রকৃত বৈশিষ্ট্য এই কাব্যের আখ্যানাংশে ততটা লক্ষিত হবে না। মুকুন্দরামের প্রতিভার পরিচয় নিহিত আছে এই কাব্যের কয়েকটি চরিত্রাঙ্কনের মধ্যে। ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে চরিত্রসৃষ্টি এবং সেই চরিত্র সৃষ্টিতে নিরপেক্ষ উদার দৃষ্টিভঙ্গী ...
“মুকুন্দরামের সম-সাময়িক বা পরবর্তী বহু কবি চণ্ডীমঙ্গল আখ্যান অবলম্বন করিয়া কাব্য রচনা করিয়াছেন। কিন্তু মুকুন্দরামের চণ্ডীমঙ্গল আপন বৈশিষ্টে সমুজ্জ্বল।” এই মন্তব্যটির বিচার করো।
মুকুন্দরামের চণ্ডীমঙ্গলের বৈশিষ্ট্য মঙ্গলচণ্ডী দেবীর ব্রতকথা অবলম্বনে কাব্য রচনা মধ্যযুগের মঙ্গলকাব্যশাখার একটি বিশিষ্ট ধারা। মাণিকদত্তকে চণ্ডীমঙ্গলের আদিকবি বলে ধরা হয়। মুকুন্দরাম পূর্ববর্তী কবি মাণিকদত্তকে তাঁর কাব্যে শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলিয়াছেন- মাণিকদত্তের আমি করিয়ে বিনয়। যাহা হৈতে হৈল গীতপথ পরিচয় ৷ মাণিকদত্তের কাব্য বিশেষ কোনো গৌরব দাবী করতে পারে না। তার ভাষা ও ছন্দের ত্রুটি অতিশয় ...
