“মধ্যযুগের বাঙালী সমাজের একটা বড়ো অংশের বাস্তব ছবি ধরা পড়েছে শ্রী কবি কঙ্কনের রচনায়।” – তোমাদের পঠিত অংশ থেকে উদ্ধৃতি দিয়ে মন্তব্যটি যথার্থ পতিপন্ন করো।
বাস্তব চিত্রাঙ্কনে কবি মুকুন্দরামের কৃতিত্ব প্রসঙ্গে ড. সুকুমার সেন বলেছেন— “লোক ব্যবহার, ছেলে ভুলানো, ছেলেখেলা, মেয়েলি ত্রিয়াকাণ্ড, ঘরকন্নার ব্যবস্থা, রাঁধা বাড়া ইত্যাদি বিভিন্ন অনপেক্ষিত সামাজিক ও সাংসারিক ব্যাপারেও তিনি বিস্ময়কর অভিজ্ঞতার পরিচয় দিয়েছেন।” চণ্ডীমঙ্গল কাব্য কবি মুকুন্দের মৌলিক সৃষ্টি নয়, এমন কি কাব্যে বাস্তবতার জন্য কবির যে শীর্ষারোহন সে উপাদানও কবির নিজস্ব নয়। নানা উপকরণকে ...
“মানবধর্ম ও সামাজিক বোধই মুকুন্দের রচনার মর্মকথা”–তোমাদের পাঠিত কাব্যাংশ অবলম্বনে উদ্ধৃতি সহযোগে মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।
সাহিত্য হল দর্পণ বিশেষ। এখানে যেমন ব্যক্তির চিত্র ফুটে উঠে তেমনই সমাজের, মানববোধের চিত্র চিত্রিত হতে পারে। মধ্যযুগের সাহিত্যগুলি পড়লে তারমধ্যে তৎকালীন সমাজজীবনের ও মানবধর্মের চিত্র মেলে। ‘মঙ্গল কাব্য’- এ সমসাময়িক বাঙালী জীবনের বিভিন্ন চিত্র লক্ষ্য করা যায়। এ বিষয়ে উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ কবি কঙ্কণ মুকুন্দরাম চক্রবর্তী রচিত ‘চণ্ডীমঙ্গল কাব্য’। বাংলা দেশের বিশেষ যুগসন্ধিক্ষণে একটি সামাজিক ...
“কবি কঙ্কণ মুকুন্দরাম তাঁর কাব্যে প্রত্যক্ষরূপে ইতিহাস-সচেতন।” তোমাদের গঠিত কাব্যাংশ অবলম্বনে উদ্ধৃতি সহযোগে মন্তব্যটি আলোচনা করো।
চণ্ডীমঙ্গল-এ আছে দুটি কাহিনি, আখেটিক খণ্ড ও বণিক খণ্ড, দুটি খণ্ডই স্বতন্ত্র। চণ্ডী শব্দটি আসলে অনার্য ভাষা সঞ্জাত-অস্ট্রিক বা দ্রাবিড় ভাষা থেকে এসেছে। দ্রাবিড় ভাষা গোষ্ঠীরা চণ্ডী নামক এক শক্তিদেবীর পূজা করত যে দেবী শিকারী ও যোদ্ধাদের বিজয়দাত্রী। চণ্ডীমণ্ডলের আখেটিক (ব্যাধ) খণ্ডের নায়ক কালকেতুর আরাধ্যা দেবীর সঙ্গে এই চণ্ডীর বহু সাদৃশ্য বর্তমান। দ্রাবিড় ওরাওঁ জাতির ...
“শুধু কালকেতু নয়, ফুল্লরা, মুরারিশীল বা ভাঁড়ু দত্ত পরিবেশের উপযোগী সত্যতায় স্পন্দমান।”— তোমাদের পাঠ্য কাব্যাংশ অবলম্বনে মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।
মধ্যযুগের সমগ্র মঙ্গলকাব্য জুড়ে একজন মাত্র স্রষ্টা আপন বৈশিষ্ট্য ও গুণে ধ্রুবতারার ন্যায় উজ্জ্বল হয়ে আছেন তিনি হলেন কবিকঙ্কণ মুকুন্দরাম। তিনি বাস্তব অভিজ্ঞতাকে কেন্দ্র করে যে চরিত্রগুলি অঙ্কন করেছেন তা বড়ই বিস্ময়কর। মর্তের মানব চরিত্র অঙ্কনে তিনি যে দক্ষতা, বাস্তবজ্ঞান এবং দর্শনশক্তির পরিচয় দিয়েছিলেন তাতে তাঁকে মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের ‘কবিকূল চূড়ামণি’ রূপে আখ্যাত করাই শ্রেয়। ...
কালকেতুর অভিযানের ফলে আরণ্যক পশুজগতে তুমুল তোলপাড়ের কাহিনী বর্ণনায় কবির (ক) বর্ণনার যথাযথতা, (খ) মানবিকতার সার্থক আরোপ ও (গ) কৌতুকরস সৃষ্টি দক্ষতার নিদর্শন দেখাইয়া আখ্যায়িকার মধ্যে এই কাহিনী প্রবর্তনের উদ্দেশ্য সম্বন্ধে আলোচনা করো।
কিরাত নগরে অত্যন্ত দরিদ্র অবস্থার মধ্যে কালকেতু ফুল্লরাকে নিয়ে বাস করে। কালকেতু প্রত্যহ বনে গিয়া পশু শিকার করে আনে, ফুল্লরা পশুর মাংশ পাড়ায় ঘুরে বিক্রয় করে। তাতে যৎসামান্য যা কিছু পাওয়া যায় তাহাতেই তাদের দরিদ্র সংসার কোনমতে চলে যায়। কালকেতু প্রত্যহ বনে যায় এবং শিকার করে। এই পশু শিকার প্রসঙ্গে মুকুন্দরাম যে শিল্পনৈপুণ্যের পরিচয় দিয়েছেন ...
