‘বণিকসহ কালকেতুর কথোপকথন’ এবং ‘কালকেতুর অঙ্গুরী বিক্রয়’ উপাখ্যান দুটির বর্ণনায় কবির কৃতিত্ব বিচার করো।

স্বর্গলোকে দেবী পার্বতীর সঙ্গে মহাদেবের কলহ হলে পার্বতীকে পরামর্শ দেন সখী জয়,–মর্ত্যলোকে নিজের পূজা প্রচার করতে। এরপর দেবী মহাদেবের সহায়তায় ইন্দ্রপুত্র নীলাম্বরকে শাপ দিয়ে কালকেতু ব্যাধরূপে মর্ত্যে প্রেরণ করলেন। দেবীর উদ্দেশ্য, কালকেতুর মাধ্যমেই মর্ত্যে তিনি পূজিত হবেন। অতঃপর কালকেতু নাম নিয়ে ব্যাধের ঘরে জন্ম নিল নীলাম্বর। শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করে সে। একদিন বনে গিয়ে ...

Read more

‘বুলান মণ্ডলের প্রতি কালকেতুর’ এবং কালকেতুর প্রতি ফুল্লার উপদেশ অংশদুটির মধ্যে মুকুন্দরামের কবি প্রতিভার কোন্ কোন্ বৈশিষ্ট্য ফুটে উঠেছে, তা আলোচনা করো।

চরিত্র সৃষ্টি করতে গিয়ে মুকুন্দরাম যে কত বাস্তব অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়েছেন তা তাঁর কাব্য ‘চণ্ডীমঙ্গল’—স্পষ্ট ধরা পড়ে। জমিদার ও প্রজার পারস্পরিক সু-সম্পর্ক দেখানোর জন্য তৎকালীন কৃষি নির্ভর অর্থনীতিটিকে জীবন্ত করে তুলেছেন কবি। বুলান মণ্ডলের সঙ্গে কালকেতুর কথোপকথন কালে তা অনুভত হয়- “শুন ভাই বুলান মণ্ডল। আমার নগরে বৈস    যত ইচ্ছা চাষ চষ  তিন সন ...

Read more

‘কালকেতুর ভোজন’ এবং ‘কালকেতুর নিকট ভাঁড়ু দত্তের আগমন’ অংশ দুটির মধ্যে কবিকঙ্কনের কবি বৈশিষ্ট্যের কোন্ কোন্ দিক প্রকাশ পেয়েছে তা আলোচনা করো।

গ্রাম্য জীবনের সঙ্গে, দারিদ্র্যের সঙ্গে কবিকঙ্কণ যে খুবই ঘনিষ্টভাবে পরিচিত ছিলেন তা ‘কালকেতুর ভোজন’ ও হাস্যরসিকতায় স্বতন্ত্র ‘কালকেতুর সমীপে ভাঁড়ু দত্তের আগমন’ অংশে প্রকট। এই দুই অংশের রচনা মুকুন্দরামকে সুদক্ষ শিল্পীর পরিচয়ে পরিচিত করেছে। কালকেতুর ভোজন-  “শয়ন কুৎসিত বীরের ভোজন বিটকাল।  ছোট গ্রাস তোলে যেন তেয়াটিয়া তাল।।” মুকুন্দরাম নির্মল শুদ্ধ সংযত হাস্যরসের সৃজন ঘটিয়েছেন কালকেতুর ...

Read more

শুধু মধ্যযুগ নয়, সমগ্র বাংলা সাহিত্যে ফুল্লরা এক অনন্য সাধারণ নারী চরিত্র—এই উক্তির পক্ষে বা বিপক্ষে তোমার যুক্তি বিন্যস্ত করো।

আধুনিক যুগে কাহিনী কেন্দ্রিক রচনায় চরিত্র প্রাধান্য প্রধান লক্ষণ। প্রার চারশত বৎসর পূর্বে আবির্ভূত কবিকঙ্কণের রচনাশৈলীতে এই আধুনিকতার স্পর্শ পাওয়া যায়। দেবী অপেক্ষা মর্ত্যের মানব চরিত্রাঙ্কনে তিনি যে সহানুভূতি, বাস্তবজ্ঞান ও তাঁর সূক্ষ্ম পর্যবেক্ষণ শক্তির পরিচয় দিয়েছেন তার জন্যেই তাঁকে মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের কবিকুল চূড়ামণির দুর্লভ সম্মানে ভূষিত করা হয়েছে। চরিত্র-চিত্রণে দক্ষতা কবি দেখিয়েছেন ফুল্লরার ...

Read more

“মধ্যযুগীয় মানুষ হলেও—ব্রাহ্মণ এবং ভূস্বামীর আশ্রয়ে কাব্যরচনা করলেও আমাদের কবি ঠিক সামন্ততান্ত্রিকতাগ্রস্ত হননি।”—তোমাদের পঠিত কাব্যা অবলম্বনে এই অভিমতের পক্ষে বা বিপক্ষে তোমার নিজের মতটি যুক্তি দিয়ে প্রতিষ্ঠিত করো।

সাহিত্যে আমরা সমাজের একটা সুস্পষ্ট ছবি দেখতে পাই। কারণ মানুষ সামাজিক জীব। কবিরাও মানুষ, সমাজকে এড়িয়ে তাঁরা সাহিত্য রচনা করতে পারেন না। সাহিত্যের মধ্য দিয়েই সমাজ জীবনের ছবি চিত্রিত হয়। সাহিত্যই সমাজ জীবনের দর্পণ। বাস্তববাদী কবিরা সমাজকে পরিবেশকে বাদ দিয়ে সাহিত্য রচনা করতে পারেন না। মধ্যযুগের কবি মুকুন্দরাম ব্রাহ্মণ, ভুস্বামীর আশ্রয়ে কাব্য রচনা করেছেন সামন্ততান্ত্রিকতার ...

Read more