“বাদার ভাত খেলে তবে তো সে আসল বাদাটার খোঁজ পেয়ে যাবে একদিন।” -উদ্ধৃত অংশটির অর্থ পরিস্ফূট করো? অথবা, বাদার ভাত খেলে তবে তো সে আসল বাদাটার খোঁজ পেয়ে যাবে একদিন।”- ‘বাদা’ কাকে বলে? উদ্দিষ্ট ব্যক্তির এরকম মনে হওয়ার কারণ কি?
‘বাদা-র অর্থ ‘বাদা’ কথাটির অর্থ জঙ্গলময় নিচু জায়গা। নিচু জলা জমিতে ধান চাষ হয়। ‘ভাত’ গল্পে মহাশ্বেতা দেবী আবাদি জমিকে ‘বাদা’ বলে উল্লেখ করেছেন। কারণ মহাশ্বেতা দেবীর ‘ভাত’ গল্পে উচ্ছব সুন্দরবনের বাদা অঞ্চলের বাসিন্দা। মনিবের জমিতে ধান মোরগ লাগা থেকে তার অভুক্ত থাকার সূত্রপাত। এক ঝড় জলে রাতে তার গোটা পরিবার মাতলা নদীতে তলিয়ে যায়। ...
“চন্নুনীর মা কখনো তাকে এমন সুখ দিতে পারেনি।”-চন্নুনীর মা কে? ‘তাকে’ বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে? উদ্দিষ্ট ব্যক্তি ‘সুখ’ কিভাবে লাভ করেছিল?
চন্নুনীর মা মহাশ্বেতা দেবী রচিত ‘ভাত’ গল্প থেকে উক্ত উদ্ধৃতিটি নেয়া হয়েছে। এখানে ‘চন্নুনীর মা’ হল উচ্ছব নাইয়ার স্ত্রী। সাধারণ বাঙালি পরিবারের সন্তানের নামে পিতা মাতাকে পরিচিত করার যে রীতি প্রচলিত রয়েছে, তা অনুযায়ী উচ্ছব তার স্ত্রীকে কন্যার পরিচয় ‘চন্নুনীর মা’ বলে ডাকত। তাকে আলোচ্য অংশে ‘তাকে’ বলতে গল্পের মুখ্য চরিত্র উচ্ছব নাইয়ার কথা বলা ...
“দাঁতগুলো বের করে সে কামটের মতই হিংস্র ভঙ্গি করে।” -কে কার প্রতি এরূপ আচরণ করেছিল? তার এরূপ আচরনের কারণ বিশ্লেষণ কর?
যে, যার প্রতি মহাশ্বেতা দেবীর লেখা ‘ভাত’ নামক ছোটগল্পে ক্ষুধার্ত উচ্ছব নাইয়া তার গ্রাম সম্পর্কিত বন ও বড় বাড়ির পরিচারিকা বাসিনির প্রতি প্রশ্নে প্রদত্ত আচরণটি করেছিল। ঘটনা দীর্ঘদিনের অভুক্ত উচ্ছব বাসিনি সাহায্যে বড় বাড়িতে ভাতের বদলে কাজ করতে আসে। কিন্তু বড় বাড়ির বুড়ো কর্তা মারা গেলে বাড়ির বুড়ো পিসিমা সমস্ত রান্না ফেলে দেওয়া নির্দেশ দেন। ...
“উচ্ছবের মাথায় এখন বুদ্ধির স্থির, সে জানে সে কি করবে।” – উচ্ছবের করণীয় কাজের মধ্যে দিয়ে যে সমাজ সত্যটি উঠে এসেছে-আলোচনা করো?
সামাজিক অবহেলা মহাশ্বেতা দেবীর রচিত ‘ভাত’ গল্পের প্রধান চরিত্র উচ্ছব নাইয়া। সে সমাজের নিম্নতম অর্থনৈতিক বৃত্তের মানুষ। বাদা অঞ্চলের বাসিন্দা হয়েও দুবেলা পেট ভরে ভাত জোটে না উচ্ছবের মতো মানুষদের পরের জমিতে মুনিষ খেটে কোনক্রমে দিন গুজরান করা এই মানুষগুলোর সামান্য ভাতের প্রত্যাশী। এরপর প্রাকৃতিক দুর্যোগের আঘাত নেমে এলে উচ্ছবরা শুধু বাড়িঘর, পরিবারেকে হারাই ...
“অন্ন লক্ষী, অন্ন লক্ষী, অন্নই লক্ষী, ঠাগমা বলত।”-বক্তার এই উপলব্ধির কারণ ব্যাখ্যা করো?
ভূমিকা মহাশ্বেতা দেবীর ‘ভাত’ ছোট গল্পের প্রধান চরিত্র উচ্ছব নাইয়ার পরশুর মত বেঁচে থাকা প্রান্তিক মানুষের মুখপাত্র। তার ঠাকুমা বলত -‘রন্ন হল মা নক্কঈ।” এই কথায় জীবন দিয়ে বুঝিয়েছেন উচ্ছব। আলোচ্য উদ্ধৃতিটি উচ্ছবের স্বতোক্তি। ‘ভাত’ গল্প আসলে অন্নহীন মানুষের দুর্ভাগ্যের গল্প। সমাজের উচ্চবিত্ত মানুষের প্রাচুর্যের পাশাপাশি ভাগ্যহীন দরিদ্র মানুষের অসহায়তার চিত্র প্রদীপের নিচে অন্ধকার এর ...
