‘একেই কি বলে সভ্যতা’ প্রহসনটির নামকরণের সার্থকতা বিচার করো।
মধুসূদন তাঁর সৃষ্টি কর্মের নামকরণের ক্ষেত্রে যে সকল বিষয়ের প্রতি বিশেষ জোর দিয়েছেন তাহল চরিত্র এবং ঘটনা। তিনি যে দুটি প্রহসন লিখেছিলেন সেদুটির মধ্যে একটিতে প্রধান চরিত্রকে ‘বুড়ো শালিক’ বলে উল্লেখ করে নাম দিয়েছেন—’বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ’ এবং অন্যটিতে তৎকালীন যুগের একশ্রেণির উচ্ছৃঙ্খল যুবকদের লাম্পট্য, বেশ্যাসক্ত ও নানা কেচ্ছা কাহিনির বর্ণনা করে নাম দিয়েছেন—’একেই কি ...
হাস্যরস সৃষ্টিতে ‘একেই কি বলে সভ্যতার অনন্যতা বিচার করো।
প্রহসন মাত্রেই হাস্যরসাত্মক, আর হাসির সঙ্গে থাকে নাট্যকারের সমাজচেতনা— তাই সে হাসি একটু উদ্দেশ্যমূলক ও ক্ষুরধার হয়ে দেখা দেয়। ‘একেই কি বলে সভ্যতায় মধুসূদনের হাস্যরস সৃষ্টি উদ্দেশ্যমূলক হলেও এতে অনাবিল পরিচ্ছন্ন কৌতুক হাস্যের উপাদানও যথেষ্ট। আসলে সাধারণ লঘু কৌতুক নাট্য এবং প্রহসন দুয়েরই লক্ষ্য থাকে একটি দিকেই বক্তব্য বিষয়ের অসংগতিকে তুলে ধরা। স্থিতিস্থাপকতার মধ্যে উৎকেন্দ্রিক ...
প্রহসন রূপে ‘একেই কি বলে সভ্যতার সার্থকতা নিরূপণ করো।
অস্বাভাবিক পরিস্থিতি, উদ্ভট আতিশয্য বা চরম হাস্যজনক পরিস্থিতি সৃষ্টির মধ্য দিয়ে রূপায়িত হয় ফার্স বা প্রহসন। তবে আলোচ্য নাটকের কায়াগঠন কিন্তু তেমন ভাবে হয়নি, বরং স্বাভাবিক যুক্তিসঙ্গত ঘটনা সন্নিবেশই ‘একেই কি বলে সভ্যতায়’ বেশি লক্ষিত হয়। ইয়ং বেঙ্গল শ্রেণির প্রতিনিধি নবকুমার তার বৈশ্ববভক্ত পিতার কলকাতা-আগমনে স্বাধীনভাবে ফুর্তি করার ব্যাপারে একটু অসুবিধায় পড়েছিল। কিন্তু বন্ধু কালীনাথ ...
একেই কি বলে সভ্যতা’ ও ‘বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ’ প্রহসন দুটির তুলনামূলক সমালোচনা করো।
বাংলা নাট্যসাহিত্যের সফল প্রহসন রচয়িতা মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘একেই কি বলে সভ্যতা?’ এবং ‘বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ’ প্রহসন-দুটি প্রকাশিত হয় ১৮০০ খ্রিস্টাব্দে। প্রথম প্রহসনটিতে নাট্যকার শিক্ষিত সমাজকে সম্ভবত এই প্রশ্ন করেছিলেন যে, সভ্যতার নামে যে শিক্ষা আচার-ব্যবহার নৈতিক চরিত্র তারা গড়ে তুলছে তা কি সভ্য জাতি রূপে বাঙালিকে গড়ে তুলতে সমর্থ হবে? ‘একেই কি বলে ...
‘একেই কি বলে সভ্যতা?’র নামকরণগত সার্থকতা আলোচনা করো।
যে-কোনো সৃষ্টিশীল রচনা সম্পূর্ণতা লাভ করে তার নামকরণের মাধ্যমে। নামকরণ ঘটনাকেন্দ্রিক, স্থানকেন্দ্রিক, ব্যক্তিকেন্দ্রিক, বিষয়কেন্দ্রিক, ভাবাদর্শকেন্দ্রিক ইত্যাদি নানা বিষয়ক হতে পারে। নামকরণের মূলত তিনটি অভিমুখ ঘটনাকেন্দ্রিকতা, চরিত্রাভিমুখিনতা ও ব্যঞ্জনাধর্মিতা। মধুসূদন নামকরণের ব্যাপারে ব্যঞ্জনাধর্মী নামকরণের পক্ষপাতী ছিলেন না। তাঁর পদ্মাবতী, শর্মিষ্ঠা, কৃষ্ণকুমারী নাটকের নামকরণ এই বক্তব্যের পক্ষে রায় দেয়। তবে ‘একেই কি বলে সভ্যতা?’ নামকরণটি ব্যক্তি, ঘটনা ...
