‘গৃহিণী’ অর্থাৎ নবকুমারের মাতার চরিত্রটি সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোচনা করো।
নবকুমারের জননী সমালোচ্য নাটকটিতে রক্তমাংসের স্বাভাবিক রমণী, তিনি স্নেহশীলা জননীরূপেই চিত্রিতা। রক্ষণশীলা এই নারী উচ্চ-মধ্যবিত্ত সংসারের গৃহকর্ত্রী রূপেই আমাদের সামনে উপস্থাপিত হয়েছেন। কন্যা, পুত্রবধূ, চাকর-চাকরানীরা তাঁকে যুগপৎ ভয় ও ভক্তি করে, মেয়েদের গল্পগুজব আলস্যতা বা তাসখেলা তিনি মোটেই পছন্দ করেন না। গৃহকর্ত্রী আসছে দেখে মেয়েরা সঙ্গে সঙ্গে তাস লুকিয়ে রেখে নবকুমারের বিছানা তৈরি করতে ব্যস্ত ...
নবকুমারের স্ত্রী হরকামিনীর ভাগ্য বিড়ম্বিত জীবন সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোকপাত করো।
হরকামিনী নবকুমারের স্ত্রী হরকামিনীর ভাগ্যবিড়ন্বিত জীবন আমাদের বিষাদগ্রস্ত করে তোলে। অন্তঃপুরের এই গৃহবধূ নারীকে যে লাঞ্ছিত জীবন ভোগ করতে হয়েছিল তা হল তৎকালীন উচ্চ-মধ্যবিত্ত পরিবারের নারীদের বিধিলিপি মাত্র। আধুনিকতার অন্ধমোহে তখনকার নব্যযুবকরা সীমাহীন লাম্পট্য ও ভোগবিলাসের স্রোতে গা ভাসিয়ে দিয়েছিল। সেই জীবনের সঙ্গে এই অস্তঃপুরিকাদের কোনো যোগ ছিল না। গল্পগুজব, তাসখেলা ও আলস্যের মধ্যে দিয়ে ...
কালীনাথের চরিত্রটির বৈশিষ্ট্য লিপিবদ্ধ করো।
কালীনাথ নবকুমারের ইয়ার বন্ধুদের অন্যতম। ‘জ্ঞানতরঙ্গনী সভার অন্যান্য সদস্যদের তুলনায় সে নবকুমারের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ, প্রায় তার নিত্য সঙ্গী। ধনী বংশে তার জন্ম, কিন্তু নবকুমারের মতো সেও এক কুলাঙ্গার। নবকুমারের মতো বিশাল পরিমাণে না হলেও ‘জ্ঞানতরঙ্গিনী সভার ব্যয়ভারের একটা অংশ সে বহন করে। নবকুমারের মতোই ইংরেজি জ্ঞান তার সামান্যই অথচ নিজের ইংরেজি বিদ্যে নিয়ে সে বড়াই ...
বাবাজি চরিত্রটির স্বরূপ উদ্ঘাটন করো।
‘একেই কি বলে সভ্যতা’ প্রহসনে বাবাজির চরিত্রটি নানা কারণে উল্লেখযোগ্য। সৎ আদর্শনিষ্ঠ ভক্ত বৈক্ষ্ণব কর্তামশায়ের বিপরীতে মধুসূদন ভণ্ড লোলুপ ও উৎকোচ গ্রহণে পটু এই চরিত্রটিকে উপস্থাপিত করেছেন। সে কর্তামশায়ের আশ্রিত তার বিশ্বাসভাজন কিন্তু এই বিশ্বাসের মর্যাদাস রাখতে চেষ্টা করেনি। নবকুমার কালীনাথের সঙ্গে জ্ঞানতরঙ্গিনী সভায় চলে গেলে কর্তামশায়ের মনে সন্দেহ হয়, এবং তিনি বাবাজিকে পাঠান সিকদার ...
কর্তামশাই চরিত্রটি বিশ্লেষণ করো।
প্রহসনে নবকুমারের পিতা কর্তামশায়রূপে উল্লিখিত। তিনি পরম ভক্ত বৈষ্ণব। নবকুমার নিজেই বলেছে—“বোধ করি কলকাতায় আর এমন ভক্ত দুটি নাই।” কণ্ঠামশাই বৃন্দাবনেই বাস করেন, কখনো কখনো কলকাতায় এসে নিজ গৃহে থাকেন। কলির কলকাতা সম্পর্কে তাঁর ভীতি ছিল প্রচণ্ড। কারণ—‘কলকাতা শহর বিষম ঠাঁই – পাপ ও দুর্নীতির কেন্দ্রভূমি। নিষ্ঠাবান বৈব বলেই শ্রীমদ্ভাগত ও গীতগোবিন্দ নাম শুনেই তাঁর ...
