‘বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ’ গ্রহসনের নাট্যাঙ্গিকের পরিচয় দাও।
‘বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ’ এর নাট্যাঙ্গিক লক্ষ্য গোচর। ‘একেই কি বলে সভ্যতা’য় গল্প গঠনের ত্রুটি ছিল কেননা নক্সাধর্মের কাহিনী গ্রন্থনকে ব্যহত করেছিল। কিন্তু ‘বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁতে মধুসূদন সে বিচ্যুতি অতিক্রম করে একটি পূর্ণদেহ গল্প গঠনে সাফল্য অর্জন করেছেন। আলোচ্য প্রহসনের গল্পটি জটিল নয়, প্রহসনের গল্পে জটিলতা প্রত্যাশিতও নয়। জীবনকে নানাদিক থেকে সম্পূর্ণ দেখবার দাবি ...
‘বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ’ প্রহসনে প্রতিফলিত সমাজ-বাস্তবতার পরিচয় দাও।
‘বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ’ প্রহসনের ভিত্তিতে সমাজ বাস্তবতা আছে কিনা সে প্রসঙ্গে মতভেদ আছে। কিন্তু সমকালীন সমাজ ইতিহাসে এর বাস্তবতা অভ্রান্ত বলে প্রমাণিত হয়েছে। যোগীন্দ্রনাথ বসু লিখেছেন- “কেবল ইংরাজী শিক্ষিত, নব্য সম্প্রদায়েরই অনাচারে হিন্দু সমাজ-ক্ষতিগ্রস্ত হয় নাই, চরিত্রহীন বকধর্মী প্রাচীন সম্প্রদায়ের কুব্যবহারে তদপেক্ষা শতগুণ অধিক ক্ষতিগ্রস্ত হইয়াছে। মধুসূদনের সময় এই শ্রেণীর কতকগুলি লোকের কলিকাতায় ও ...
“নাটকীয়তার প্রধান বৈশিষ্ট্য ঘটনার প্রত্যক্ষতা ও সংঘর্ষে ‘বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ’ বিশেষভাবে সমৃদ্ধ”- আলোচনা করো।
কেন্দ্রীয় ঘটনাদ্বন্দ্ব নাট্যকাহিনীর প্রাণস্বরূপ এই প্রধান দ্বন্দ্বের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হয়েছে ভক্তপ্রসাদ-বাচস্পতির সংঘর্ষ। ভক্তপ্রসাদ বাচস্পতিকে ব্রহ্মত্র থেকে বঞ্চিত করেছে, হানিফের সঙ্গে পরামর্শ করে সুযোগ বুঝে বাচস্পতি তার শোধ তুলেছে। ভক্তপ্রসাদের চরিত্রের ব্যাপকতর পরিচয় বাচস্পতির সংস্পর্শে আসায় পাঠক লাভ করেছে। বাচস্পতির কাহিনী হানিফ প্রসঙ্গ থেকে যথেষ্ট স্বতন্ত্র। যদিও দুটি সূত্রেরই মূল ভক্তপ্রসাদের চরিত্রে- তার জমিদারী শোষণ ও ...
প্রহসনের সংজ্ঞা ও বৈশিষ্ট্য নির্ণয় করে ‘বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ’-কে কতখানি সার্থক প্রহসন বলা যেতে পারে আলোচনা করো।
খ্রিস্টীয় পঞ্চম শতাব্দীতে গ্রীসে প্রহসনের উৎপত্তি হয়। কোরিয়ান গ্রীকদের মধ্যে বিশেষ করে মোগারা প্রদেশের অধিবাসীদের মধ্যে প্রহসন জনপ্রিয় ছিল। মনে হয়, গ্রীকদেবতা ডায়োনীসিয়াসের উদ্দেশে নিবেদিত অনুষ্ঠানাদিতে এর আত্মপ্রকাশ। সম্ভবত মদ্যদেবতা ও তাঁর উর্বরাশক্তির আনুষ্ঠানিক আবাহনের জন্য দেবতা, বীরগণ, এমনকি স্থানীয় চরিত্রসমূহের হাস্যকর অনুকরণ প্রয়োজন ছিল। হাস্যরস সামাজিক অনাচার এবং অব্যবস্থা দূরীকরণে শক্তিশালী হাতিয়ার রূপে পরিগণিত ...
মধুসূদন দত্তের প্রহসনে মাঝে মধ্যে অসতর্ক মুহূর্তে যে অশ্লীলতা দোষ যুক্ত হয়েছে তা ব্যাখ্যা করো।
আধুনিক সাহিত্য সমালোচকদের কয়েকজন মধুসূদনের প্রহসন দুটি সম্পর্কে কিছু বিরুদ্ধ অভিমত পোষণ করেন। তবে দুটি প্রহসন সম্পর্কে শুধু বিরুদ্ধ অভিমত পোষণ নয়, প্রশংসা ও সুখ্যাতিও বিশেষভাবে উত্থাপিত হয়েছে। অবশ্য মধুসূদনের প্রদর্শিত বিষয়ের মধ্যে অশ্লীলতা বা রুচিদুষ্টতা আছে, কিংবা নাট্য দৃশ্যগুলি নিতান্তই অতিরঞ্জিত, এমন কথাও কেউ কেউ বলেছেন। রামগতি ন্যায়রত্ন মহাশয় বঙ্গভাষা ও সাহিত্য বিষয়ক একটি ...
