‘বৈষ্ণব কবিতা’ কবিতার কাব্যশৈলী বিচার করো।
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘সোনার তরী কাব্য’ তাঁর সৌন্দর্য পর্বের ফসল। জমিদারি তদারক করার জন্য রবীন্দ্রনাথ দশ বছর ঠাকুরবাড়ির অন্দরমহল থেকে বেরিয়ে পদ্মার জনজীবনের সঙ্গে মিশেছিলেন। এইসময় তাঁর মনে ভীড় করেছিল নিরুদ্দেশ সৌন্দর্য আকাঙ্ক্ষা ও সুখ দুঃখ বিরহমিলন পূর্ণজীবনে প্রবেশের ইচ্ছা। সোনার তরী কাব্যের প্রতিটি কবিতায় এর ইঙ্গিত বর্তমান। তাঁর ‘বৈষ্ণব কবিতা’ এক অপূর্ব প্রেমমনস্তত্ত্ব মূলক ...
‘বৈষ্ণব কবিতা বর্ণাঢ্য চিত্রকল্পে সজ্জিত’ –আলোচনা করো।
রবীন্দ্রনাথ এই কবিতায় তাঁর মর্ত্যপ্রীতিকে প্রতিষ্ঠা দিয়েছেন। বলতে চেয়েছেন রাধাকৃষ্ণের স্বর্গীয় প্রেমের শিকর বিস্তৃত রয়েছে এই ধরণীতে— ‘কৃষ্ণের যতেক লীলা সর্বোত্তম নরলীলা নর বপু তাহার স্বরূপ (চৈতন্যচরিতামৃত ১১ পরিঃ)। ডেভিড ওফ ওইলিয়াম একটি কবিতার মূলরসে এই একই অভিব্যক্তি আছে—“Come with me to the birch tree church, to slase in piety of the culkoo amid the ...
‘বৈষ্ণব কবিতায় রবীন্দ্রনাথ বৈষ্ণব পদাবলীর বিচারে যে নতুন মানদণ্ড উপস্থাপিত করলেন তা কতখানি গ্রহণযোগ্য বলে তোমার মনে হয়।
মধ্যযুগের বৈষ্ণব সাহিত্যকে কেন্দ্র করে উত্তরকালের কবি শিল্পীর চিত্রে জেগেছে নানা জিজ্ঞাসা। বৈষ্ণব কবিতা মধ্যযুগের রোমান্টিক প্রেমকবিতা হলেও এর মধ্যে একই সঙ্গে দেবী চেতনা এবং মানবিক ভাবনা প্রোজ্জ্বল হয়েছে। বৈষ্ণব কবিতার ধর্মীয় নামাবলির আচ্ছাদন সরিয়ে দিলে তার মধ্যে আমরা মানবিক জীবন রসের প্রেমচ্ছবিকে সুস্পষ্টরূপে প্রত্যক্ষিত হয়। রবীন্দ্রনাথ বৈষ্ণব পদাবলীর দ্বারা ব্যাপকভাবে প্রভাবিত হয়েছিলেন, বৈষ্ণব সাহিত্যকেন্দ্রিক ...
‘সোনার তরী’ কাব্যগ্রন্থের ‘বৈষ্ণব কবিতা’ অবলম্বনে রবীন্দ্রনাথের মর্ত্যপ্রীতি ও অমত্যময়তার পরিচয় দাও।
বৈষ্ণব পদাবলীর মধ্যে কিছু বৈষ্ণুব ভক্ত অলৌকিকত্ব দেখালেও রবীন্দ্রনাথ তা স্বীকার করেন না। তাই— ‘শুধু বৈকুণ্ঠের তরে বৈষ্ণবের গান’। এই কথায় প্রতিবাদ কবি না জানিয়ে পারেন না। বৈব পদে চিত্রিত প্রেমিক-প্রেমিকার লজ্জা শঙ্কা মিশ্র আবেগ সুললিত দৃষ্টিপাত কী দেবতাদের জন্য তা নিয়ে কবির মনে প্রশ্ন জেগেছে। বৈষ্ণব মহাজন বৃন্দ রচিত প্রণয়ের সংগীত ধারা প্রেম পিপাসাকে ...
‘শুধু বৈকুণ্ঠের তরে বৈষ্ণবের গান’—রবীন্দ্রনাথের এই বিস্ময় বা জিজ্ঞাসার তাৎপর্য নির্ণয় করো।
রবীন্দ্রনাথের জিজ্ঞাসা শুধু দেবতার জন্যেই কি বৈষ্ণবদের গান রচনা ? এটা সত্য নয় মনে করেন বলেই হয়তো তাঁর বিস্ময়ও। কবি বিশ্বাস করেন না যে, শ্রীরাধার পূর্বরাগ অনুরাগ, মান-অভিমান, বিরহ-মিলন, যমুনা নদীতীর, চারি চক্ষুর মিলন এ-সবই কল্পলোকের সামগ্রী। ভক্ত কবিরা ধ্যান দৃষ্টির এ চিত্র দেখেননি। বৈষ্ণব কবিদের সৃষ্ট এই তথাকথিত স্বর্গীয় প্রেম কি মর্ত্যবাসী নরনারীর আবেগপূর্ণ ...
