‘মুক্তধারা’ নাটকে যে দুই ভাব জগতের সংঘাতের কথা বর্ণিত আছে তা ব্যাখ্যা করো।

‘মুক্তধারা’ নাটকের সূচনাতেই দুটি ভাবকে রবীন্দ্রনাথ দুটি প্রতীকের সাহায্যে উপস্থাপিত করেছেন— “দূরে আকাশে একটা অভ্রভেদী লৌহ যন্ত্রের মাথাটা দেখা যাইতেছে এবং তাহার অপরদিকে ভৈরব মন্দির চূড়ার ত্রিশূল।…আজ অমাবস্যায় ভৈরবের আরতি।” চতুর্দিকের অন্ধকার যন্ত্রদানবের সৃষ্ট অন্ধকার। এই অন্ধকার প্রতীকী অন্ধকার। মানুষের মনেও সে অন্ধকার সৃষ্টি করেছে। শিবতরাই-এর মানুষ অজ্ঞানতা এবং অন্ধকারের অত্যাচারে নিমজ্জিত উত্তর কূটের মানুষের ...

Read more

‘মুক্তধারা’ নাটকের নামকরণের সার্থকতা নিরূপণ করো।

‘মুক্তধারা’ (১৯২২) নাটকের পূর্বপরিকল্পিত নাম ছিল ‘পথ’। ‘পথ’ নামটি পরবর্তীকালে পরিত্যক্ত হলেও এটি নামকরণের দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পথের ওপরেই নাটকটি অভিনীত হয়েছে। মানুষ পথে নেমেছে। কারুর পথচলা আদর্শ অনুযায়ী, কেউ বা পথে নেমেও অন্ধকারে পথ হাতড়ে মরে। পথের গোলকধাঁধায় তারা হতকচিত। এক পথের পথিক বিভূতি, যন্ত্র সভ্যতার রথে চড়ে সে পথে বার হয়েছে। আর ...

Read more

‘মুক্তধারা’ নাটকের ঘটনা প্রবাহে চরিত্রের যে অন্তরঙ্গ ও বহিরঙ্গের দ্বন্দ্ব নিপুণভাবে বিশ্লেষণ করা হয়েছে তা লেখো।

নাটকের কথাবভু বিশ্লেষণে দেখা যায়, রাজার আদেশে যন্ত্ররাজ বিভূতি লৌহযন্ত্রের বাঁধের সাহায্যে মুক্তধারার গতি রুদ্ধ করেছেন। তাঁর এই অসামান্য স্মরণীয় কীর্তিকে পুরস্কৃত করার জন্য সমস্ত উত্তরকূটবাসী ভৈরব মন্দিরে উৎসব করতে চলেছে। যে দুটি প্রতিবেশী রাজ্যের সম্ভাবে, প্রীতিতে, মৈত্রীতে সৌহার্দ্যপূর্ণ অবস্থায় থাকার কথা ছিল, তাদের মধ্যে ভেদাভেদের অনৈক্যের সূচনা হয়েছে। আর এরজন্য দায়ী বিভূতি। শিবতরাইয়ের চরম ...

Read more

একদিকে একটা অভ্রভেদী লৌহ যন্ত্রের মাথা অন্যদিকে ভৈরব মন্দির চূড়ার ত্রিশূল।”—এই দুটি প্রতীক নাটকে মূলতত্ত্ব রূপে প্রতিভাত হয়েছে, ব্যাখ্যা করো।

‘মুক্তধারা’ নাটকে বাঁধের অভ্রভেদী লৌহযন্ত্রের মাথা এবং ভৈরব মন্দির চূড়ার ত্রিশূলের প্রতীকের মধ্যে নাটকের মূলতত্ত্ব বিধৃত। অভ্রভেদী লৌহযন্ত্রের মাথা যন্ত্রবাদ, যন্ত্রসভ্যতার দন্ত ও মদমত্ততার প্রতীক। মন্দির চূড়ার ত্রিশূল দেববাদ ও অধ্যাত্ম শক্তির প্রতীক। এই দুই প্রতীক কীভাবে নাটকের মূল তত্ত্বকে ব্যাখ্যা করেছে তার যথার্থ আলোচনা করেছেন—রবীন্দ্র বিশেষজ্ঞ প্রমথনাথ বিশী— “উত্তরকূটের দেবতা মানুষের জন্য যে ঝর্ণা ...

Read more

‘মুক্তধারা’ নাটকে ধনঞ্জয় বৈরাগী চরিত্রটি বিশ্লেষণ করো।

পৃথিবীর নিপীড়িত, অত্যাচারিত মানবগোষ্ঠীর মধ্যে চেতনা সঞ্চারিত করা এবং তাদের উদ্বোধিত করাই ছিল ধনঞ্জয় বৈরাগীর মূল আদর্শ। সে বিজিত অত্যাচারিত জাতির আত্মিক প্রতীক। এ সম্পর্কে সমালোচক কনক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিমত— ”ধনঞ্জয় বৈরাগী অত্যাচারিত জাতির অপরাজেয় আত্মার প্রতীক। আত্মার শক্তি যে অত্যাচার অপমানে নিঃশেষিত বা নিষ্পেষিত হইবার নয় তাহা প্রমাণ করিয়াছেন ধনঞ্জয়। তিনি সত্যের পূজারি, আনন্দময় পুরুষ, ...

Read more