মুক্তধারা তাৎপর্য [মান–৫ নম্বর, শব্দ সংখ্যা – ১০০টি]
১। “ওটাকে অসুরের মতো দেখাচ্ছে, মাংস নেই, চোয়াল ঝোলা।” উঃ উদ্ধৃত অংশটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘মুক্তধারা’ নাটকের প্রথম অংশে কোনো এক পথিকের কণ্ঠে ধ্বনিত হয়েছে। পার্বত্য প্রদেশ উত্তরকূটের উত্তর ভৈরব মন্দিরের অদূরেই প্রবহমান মুক্তধারা ঝর্ণার গতিকে রোধ করার জন্য যন্ত্ররাজ বিভূতি রাজা রণজিতের পরামর্শক্রমে অভ্রভেদী লৌহমন্ত্র প্রতিস্থাপিত করেছেন। উদ্দেশ্য এই মুক্তধারাকে বেঁধে ঝর্ণার জলে প্রবুদ্ধ শিবতরাই ...
মুক্তধারা’ নাটকের গঠনরীতি সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোচনা করো।
‘মুক্তধারা’ নাটকে ঘটনার স্বল্পতা সংলক্ষ্য। পরস্পর অসংলগ্নতা ঘটনার ঘাত-প্রতিঘাত সৃষ্টিতে অক্ষম ; ফলে কাহিনিতে পরিবর্তনের মাধ্যমে পরিণতিতে উপনীত হওয়া সম্ভব হয়। এই জাতীয় নাটকের গঠনকৌশল কালগত ও কার্যকারণ সম্পর্কে গ্রথিত ঘটনা ধারা থেকে উৎসারিত হয় না। তত্ত্বের পরিপ্রেক্ষিতে ঘটনা ও চরিত্র কল্পিত হওয়ায় তত্ত্বের বিভিন্ন দিক তারাই অর্থাৎ ঘটনা এবং চরিত্র তুলে ধরে। সামগ্রিক কাহিনির ...
যে আবহমণ্ডল তথা পরিবেশ ‘মুক্তধারা’ নাটকখানিকে প্রাণবন্ত করে তুলেছে তা সবিস্তারের বর্ণনা করো।
সমালোচক প্রমথনাথ বিশী মন্তব্য করেছেন—“মুক্তধারায় আবহাওয়ার গুরুত্ব বেশি, কবির বক্তব্যের অধিকাংশই আবহাওয়ার দ্বারা প্রকাশিত। বাঁধের লৌহযন্ত্র ও ভৈরবমন্দিরের চূড়া বৃহত্তর আবহাওয়ার অংশমাত্র।” মূলত এ নাটকে রবীন্দ্রনাথ যে তাত্ত্বিক ভাবটি প্রতিষ্ঠিত করতে প্রয়াসী হয়েছেন তা প্রকাশিত হয়েছে তার পরিবেশ বা আবহমণ্ডল রচনায়। আর তা হল মনস্তাত্ত্বিক পরিবেশ বা আবহমণ্ডল। নাট্যকার মনে করতেন, মানুষের অস্তিত্বের, ব্যক্তিত্বের সংকট ...
‘মুক্তধারা’ নাটকে যে তিনটি ভিন্নধর্মী ভাবনার চরিত্রের কথা বলা হয়েছে তা ব্যাখ্যা করো।
এ নাটকে যে তিনটি ভিন্নধর্মী ভাবনার চরিত্র সৃজন করা হয়েছে তারা যথাক্রমে যন্ত্রী, মন্ত্রী আর নিজের যন্ত্রে বন্দি মানুষ। পৃথিবী জুড়ে যন্ত্রী উচ্চারণ করে চলেছে— ‘মার লাগিয়ে জয়ী হব। মন্ত্রী বলছে—’হে মন, মারকে ছাড়িয়ে উঠে জয়ী হও। নিজের যন্ত্রে বন্দি মানুষ প্রত্যয়ের সঙ্গে উচ্চারণ করেছে—প্রাণের দ্বারা যন্ত্রের হাত থেকে মুক্তি পেতে হবে, মুক্তি দিতে হবে। ...
“মুক্তধারা’ নাটকের জনতা চরিত্রের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে ব্যাখ্যা দাও।
সমালোচক প্রমথনাথ বিশী বলেছেন—“রবীন্দ্রনাথের অধিকাংশ নাটকেই একাধিক জনতা আছে। কিন্তু মুক্তধারার জনতা অনেক ইহার প্রায় অর্ধাংশই জনতার কথোপকথন । নাটকটি পথের কাহিনি, স্বভাবতই ইহার যোগ্য পাত্রপাত্রী পথিক, মুক্তধারার জনতা পথিক জনতা…মুক্তধারার জনতার ব্যক্ত পরিচয় নাই, কিন্তু চমৎকার সমষ্টি পরিচয় আছে।” অর্থাৎ নাট্যকাহিনির প্রয়োজনে তাদের ভূমিকা যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। রবীন্দ্রনাথ জনতা চরিত্র অঙ্কনে জনজীবনের সাধারণ কথাবার্তা, তাদের ...
