‘সোনার তরী’ কাব্যের ‘বসুন্ধরা’ কবিতা অবলম্বন করিয়া প্রকৃতির প্রতি রবীন্দ্রনাথের দৃষ্টিভঙ্গির বিশিষ্টতা ব্যাখ্যা করিয়া বুঝাইয়া দাও।
রবীন্দ্রনাথ কেবল মানবপ্রেমিকই ছিলেন না, ছিলেন প্রকৃতি প্রেমিকও। এই প্রকৃতি তাঁর আনন্দের অথবা নিছক অবসর বিনোদনের সঙ্গী নয়, তাঁর আলস্যের নিষ্ফলা ক্রীড়াসহচরী নয়। এই প্রকৃতি তাঁর জীবনদায়িনী, তাঁর ব্যক্তি আর ভাবসত্তার মূলাধাররূপী জননী। বিশ্বের কবিদের কাছে প্রকৃতি নানার রূপে আর বর্ণে নিজেকে ধরা দিয়েছে ; কাউকে আনন্দ দিয়েছে, কাউকে করেছে বিষণ্ণ। ইংরাজ কবি ওয়ার্ডসওয়ার্থের কাছে ...
যেতে নাহি দিব কবিতার কাব্যশৈলী বিচার করো।
বিংশ শতকের ভাষাবিজ্ঞান ও আধুনিক সমালোচনা পদ্ধতির যৌথ ফসল শৈলীবিজ্ঞান। সাহিত্যে আমাদের ভাবের প্রকাশ ঘটে থাকে, ভাষা তার অনুযায়ী হয়। কিন্তু দৈনন্দিন কথাবার্তায় Communication ঘটে, সাহিত্যে ঘটে Expression । কবিগণ ভাষায় Foregrounding ঘটান সচেতন বা অবচেতন ভাবেই, মূল লক্ষ ভাবের বিস্তার ঘটানো। টার্নারের মতে-রবীন্দ্রনাথের ‘যেতে নাহি দিব’ কবিতাটি আখ্যান আশ্রয়ী, আটটি স্তবকে পরিব্যপ্ত এই কবিতা ...
যেতে নাহি দিব আখ্যানধর্মী বিন্যাস ব্যাখ্যা করো।
‘সোনার তরী’র একমাত্র আখ্যানধর্মী কবিতা এটি। কবিতাটি ১২৯১ বঙ্গাব্দে ১৪ কার্তিক জোড়াসাঁকোতে বসে লেখা। ১৭৬টি পঙক্তি আটটি স্তবকে সজ্জিত কবিতায় ধ্বংসমৃত্যময় পৃথিবীর উপর মৃত্যুঞ্জয়ী প্রেমের আসন নির্দেশ করেছেন। বিশ্বপ্রকৃতি ক্রমশ ধ্বংসের এগিয়ে চলেছে, মানুষের সাথে মানুষের সম্বন্ধ প্রতি মুহূর্তে ছিন্ন হচ্ছে নিষ্ঠুর মৃত্যুর করাল গ্রাসে। কিন্তু মানুষের স্নেহপ্রেম ভালোবাসা মৃত্যুর দ্বারা বাধা পেতে চায় না। ...
‘যেতে নাহি দিব’ কবিতার জীবন প্রীতির সঙ্গে বিরহচেতনার যে দ্বন্দ্ব দেখা যায় তা আলোচনা করো।
জীবন মানেই দ্বন্দ্ব সংঘাতের সমন্বিত রূপ। একদিকে জীবনের প্রতি নিবিড় ভালোবাসাবোধ অন্যদিকে নৈকট্যজনিত পরিবেশ পরিস্থিতি বিঘ্নিত হলে তার জন্য বিরহ যন্ত্রণা—এই দ্বিবিধ দিক নিয়েই জীবনের সম্পূর্ণতা। রবীন্দ্রনাথ অনুভূতিপ্রবণ জীবনের মানবিক অনুভূতিকে যথেষ্ট মর্যাদা দিয়েছেন তার সৃষ্টি সম্ভারে। জীবন প্রীতিকে তিনি গভীর মূল্যের আসনে বসিয়েছেন বলেই বিরহ চেতনার অনুভূতি তাঁর চিত্তে এতখানি প্রকট হয়েছে। ‘যেতে নাহি ...
‘যেতে নাহি দিব’ কবিতাটির তাৎপর্য ব্যাখ্যা করিয়া রবীন্দ্রনাথের মর্ত্যপ্রীতির আলোচনা করো।
‘যেতে নাহি দিব’ কবিতাটির মূল বক্তব্য রবীন্দ্রনাথ ছিলেন প্রকৃতিপ্রেমিক। প্রকৃতি তাঁর কবিসত্তার মূল ধরে টান দিয়েছিল সেকথা সত্যি ; কিন্তু তিনি মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা, বিরহ-বেদনা, প্রেম-প্রীতিকেও অস্বীকার করেননি ; অথবা, মানুষের সমস্ত মানবিক অনুভূতিকে তিনি শ্রদ্ধা করতেন ; তার চেয়েও বড়ো কথা হচ্ছে, ভালোবাসতেন। তাই তিনি মানব-প্রেমিক। ‘যেতে নাহি দিব’ কবিতাটিতে তাঁর সেই নিগূঢ় মানবপ্রেমেরই অপূর্ব ...
