ব্যালাড বা গাথা কবিতা
ব্যালাড বা গাথা কবিতা ইতালীয় ‘বালারে’ শব্দ থেকে ‘ব্যালাড’ শব্দটির উৎপত্তি। যার আক্ষরিক অর্থ নাচা, ফলে মানতেই হয় উৎপত্তি সূত্রে ব্যালাডের সঙ্গে নৃত্যের একটি সংযোগ ছিল। আধুনিককালে • যে জনপ্রিয় নৃত্যানুষ্ঠান ব্যালে (ballet) এ থেকেই এসেছে। সুতরাং আখ্যান, নৃত্য এবং সংগীত এই নিয়েই ব্যালাড, বাংলায় এই ধরনের আখ্যান কাব্যকে বলা হয় গাথাকবিতা। সমালোচক হার্ডসনের মতে ...
শোকগীতি বা এলিজি
শোকগীতি বা এলিজি কোনো বন্ধু, আত্মীয় বা অতি নিকট জনের বিয়োগ ব্যথাকে উপলক্ষ্য করে কবির ব্যক্তিগত শোক ভাবনাকে বলা হয় শোকগীতি বা এলিজি (Elegy)। তবে সমালোচক জেব তাঁর প্রাইমার অব গ্রীক লিটারেচার’ গ্রন্থে এই শোকগীতি সম্বন্ধে মন্তব্য করেছেন—এর বিষয়বস্তুর ব্যাপ্তি অত্যন্ত বেশি। যুদ্ধ বিগ্রহ, পরাধীনতার যন্ত্রণা, রাজনৈতিক ব্যঙ্গবিদ্রুপ আদর্শ জীবনযাত্রা সম্বন্ধে কবির ধারণা, মৃতের প্রতি ...
ওড় বা স্তুতি কবিতা।
ওড় বা স্তুতি কবিতা ওড হল গীতি-কবিতার প্রাচীনতম ও অন্যতম শাখা। বাংলায় যাকে স্তুতিমূলক কবি রূপে আখ্যাত করা হয়। প্রাচীন গ্রিসে ওড ছিল প্রধানত একধরনের সম্মেলক গান বা কোরাস, তবে একক কণ্ঠের ওডও তখন একেবারে অপ্রচলিত ছিল না। পুরনো ওড়-এ পর পর তিনটি স্তবক থাকত। সম্মেলক গায়কগণ প্রথমে মঞ্চের বাঁদিকে ঘুরে প্রথম স্তবক গাইতেন, একে ...
গীতিকাব্যের স্বরূপ বিশ্লেষণ করে উদাহরণসহ তার বৈশিষ্ট্যগুলি লিপিবদ্ধ করো।
ইংরেজি ‘lyrical poetry’ শব্দ থেকে বাংলায় গীতি-কবিতাটির সৃষ্টি হয়েছে। অর্থাৎ lyric শব্দের মূলে আছে লায়ার নামক বীণাজাতীয় বাদ্যযন্ত্র, এই যন্ত্র সহযোগে যে গান গাওয়া হত তাকে lyric বা গীতি-কবিতা বলে। এরই নিরিখে সমগ্র বিভিন্ন ইউরোপের আখ্যানকাব্য ও ইলিয়াড ওডিসিকে এই অবিধায় ভূষিত করা হত কারণ এগুলি বাদ্যযন্ত্র সহযোগে গান করা হত। অনুরূপ বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগে ...
সনেটের সংজ্ঞা ও নির্মাণ রীতির আলোচনা করে বাংলা সনেটের স্বরূপ ও বৈশিষ্ট্যের পরিচয় দাও।
বাংলা সনেটের প্রবাদ পুরুষ প্রমথ চৌধুরী একদা সনেট সম্পর্কে বলেছিলেন : “ভালোবাসি সনেটের কঠিন বন্ধন শিল্পী যাহে মুক্তি লভে অপরে ক্রন্দন।” গীতি-কবিতার যেসব শাখা একটি বিশেষ রূপকৃতি বা শিল্প রূপের বন্ধনকে স্বীকার করে নিয়েছে এবং সেই রূপকৃতি হিসাবেই খ্যাতি লাভ করেছে তাদের মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য সনেট বা চতুর্দশপদী কবিতাবলি। এখানে গীতি-কবিতার আবেগকে চোদ্দো পঙ্ক্তির সীমিত ...
