‘শিবায়ন’-কে কি মঙ্গলকাব্যরূপে অভিহিত করা চলে? এর বিশিষ্টতা উল্লেখ করে এই কাব্যের একজন প্রধান কবির কৃতিত্বের পরিচয় দাও।
“শিবায়ন কাব্যের বিষয় প্রধানতঃ পৌরাণিক হওয়া সত্ত্বেও লৌকিক জীবনের সঙ্গে এর সম্পর্কই সর্বাধিক ঘনিষ্ঠ।” -উক্তিটির যাথার্থ্য বিষয়ে আলােচনা কর। শিবের উদ্ভব : ‘শিবায়ন’ বা ‘শিবমঙ্গল’ শিবের মাহাত্ম্য প্রচারের উদ্দেশ্যে রচিত হয়েছিল। আবার তিনটি প্রধান মঙ্গলকাব্যের উদ্দিষ্ট দেবতা মনসা, চণ্ডী ও ধর্মঠাকুর মূলতঃ অনার্য সমাজ থেকে আগত, কিন্তু শিব পৌরাণিক দেবতা—এইদিক থেকে শিবায়নের বৈশিষ্ট্য অবশ্যস্বীকার্য। আবার ...
ধর্মমঙ্গল কাব্যের স্বাতন্ত্র্য আলােচনা করে কবির কাব্যকৃতির পরিচয় | ধর্মঠাকুরের স্বরূপ নির্দেশ করে একজন ধর্মমঙ্গল রচয়িতার কাব্যকৃতি সম্বন্ধে আলােচনা কর।
ধর্মমঙ্গল কাব্যের স্বাতন্ত্র্য ধর্মঠাকুরের মাহাত্ম্সূচক কাব্যের নাম ‘ধর্মমঙ্গল কাব্য’। পৌরাণিক দেবতাদের মধ্যে যমকে ধর্ম নামে অভিহিত করা হলেও কাবেব্যাক্ত ধর্মের সঙ্গে নাম সাদৃশ্য ছাড়া এর অপর কোন সম্পর্ক নেই। বৌদ্ধদের ত্রি-শরণ বুদ্ধ, ধর্ম ও সঙঘ— এই ধর্মের সঙ্গেও কাব্যোক্ত ধর্ম-ঠাকুরের কোন সম্পর্ক নেই। এই ধর্মঠাকুর একান্তভাবেই অনার্য দেবতা। মনসা, চণ্ডী-আদি অনার্যদেবদেবীগণ শেষ পর্যন্ত একটা আর্য-আবরণের ...
‘চণ্ডীমঙ্গল’ কাব্যের নামকরণ, উদ্ভব ও বিষয়বস্তু | চণ্ডীমঙ্গল’ কাব্যকর্তারূপে দ্বিজ মাধবের কৃতিত্ব।
চণ্ডীর পরিচয়: দেবী চণ্ডীর মাহাত্ম প্রচারের উদ্দেশ্যে চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের সৃষ্টি। কিন্তু কে এই চণ্ডী? প্রশ্ন দীর্ঘকাল যাবৎ গবেষকদের বিব্রত করে রেখেছে। মার্কণ্ডেয় পুরাণের অন্তর্গত ‘সপ্তশতী চণ্ডী-তে দেবী চণ্ডীর বহু যুদ্ধ বিজয় কাহিনী ও মাহাত্ম্য প্রচলিত রয়েছে। এই চণ্ডী এবং চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের চণ্ডী উভয়ই শিবশক্তি, অতএব মনে হতে পারে, মার্কণ্ডেয় পুরাণের চণ্ডীই চণ্ডীমঙ্গল কাব্যেও স্থান পেয়েছেন। ...
‘মনসামঙ্গল’ কাব্যের নামকরণ, উদ্ভব ও বিষয়বস্তুর পরিচয়। ‘মনসামঙ্গল’ কাব্যের সাধারণ পরিচয় দিয়ে বিজয়গুপ্তের কৃতিত্ব । বাংলা মঙ্গলকাব্যধারায় মনসামঙ্গল কাব্যের বৈশিষ্ট্য
বাংলা মঙ্গলকাব্যধারায় মনসামঙ্গল কাব্যের বৈশিষ্ট্য ভূমিকা (নামকরণ, উদ্ভব ও কাহিনী):- বাংলা সাহিত্যে চৈতন্য-পূর্ব যুগেই যে মনসা মঙ্গল কাব্যের উদ্ভব ঘটেছিল, তার সাক্ষ্য দিয়েছেন চৈতন্যজীবনীকার বৃন্দাবন দাস। তিনি চৈতন্যভাগবত গ্রন্থে চৈতন্য-আবির্ভাব কালের প্রেক্ষাপট বর্ণনা করতে গিয়ে নবদ্বীপের তৎকালিক অবস্থা-সম্বন্ধে লিখেছেন : দত্ত করি বিষহরী পূজে কোন জন। দেবতা জানেন সবে ষষ্ঠী বিষহরী। এই দেবী বিষহরীই দেবী ...
মঙ্গলকাব্যের উদ্ভব, মঙ্গলকাব্য সৃষ্টির কারণ, রূপ ও বিবর্তন এবং মঙ্গলকাব্যের বৈশিষ্ট্য | মঙ্গলকাব্যগুলিতে তৎকালীন মানুষ ও সমাজ-জীবনের পরিচয়
“বাঙলা মঙ্গলকাব্যে শুধু দেবতার মহিমাই কীৰ্তিত হয়নি, মানুষের মহিমারও কীর্তন নাম করা হয়েছে।” বিভিন্ন মঙ্গলকাব্যের কাহিনী অনুসরণ করে এই মন্তব্যের যৌক্তিকতা প্রমাণ কর। মঙ্গলকাব্যের উদ্ভব ও সৃষ্টির কারণ আদি মধ্য যুগ থেকে আরম্ভ করে প্রাগাধুনিক কাল পর্যন্ত বিস্তৃত বাঙলা সাহিত্যের একটি বিশেষ ধারায় মূলতঃ কিছু কিছু অনার্য দেবদেবীর এবং পরে কোন কোন পৌরাণিক দেব-দেবীর, এমন ...
