যােড়শ শতাব্দীতে বৈষ্ণব কবিদের সুবর্ণযুগ বলে গণ্য করা হয়। এই অভিমতের যৌক্তিকতা উপযুক্ত বিশ্লেষণসহ বিচার কর। চৈতন্য-পূর্ববর্তী এবং চৈতন্য-পরবর্তী পদাবলীর মধ্যে ভাবগত পার্থক্য
চৈতন্য-পূর্ববর্তী এবং চৈতন্য-পরবর্তী পদাবলীর মধ্যে ভাবগত পার্থক্য বৈষ্ণবধর্মের সঙ্গে বৈষ্ণব পদাবলী অভিন্নভাবেই যুক্ত—এই অনুমানের ভিত্তিতে অনেকেরই ধারণা বৈষ্ণবপদসাহিত্য একান্তভাবেই চেতন্যোত্তর কালের সৃষ্টি। কিন্তু এই অনুমান এবং অনুমান নির্ভর ধারণা—দুটিই অতিশয় ভ্রান্ত। বৈষ্ণবধর্মের সঙ্গে বৈষ্ণব পদের যােগটা অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত নয় বলেই বিদ্যাপতির মতাে পঞ্চোপাসক স্মার্ত ব্রাহ্মণ সন্তান এবং মুর্তজা, বশির, আলাওলা প্রভৃতির মতাে মুসলমান কবিগণও বৈষ্ণব ...
বৈষ্ণব পদাবলীর অপ্রধান অথচ বিশিষ্ট কয়েকজন কবির পরিচয় দান কর।
বৈষ্ণব পদাবলীর বিশিষ্ট কবির পরিচয় বলরামদাস : বৈষ্ণব পদকর্তাদের প্রধান চতুষ্টয়কে বাদ দিলে যাদের কথা প্রথমেই মনে হয়, তাদের মধ্যে বলরামদাসের নাম সর্বাগ্রে উল্লেখযােগ্য। অন্যান্য পদকর্তাদের পরিচয় নিয়ে বারবার যে সমস্যা দেখা দিয়েছে, বলরামকে নিয়েও আমাদের সেই সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে—এককথায় একে বলা চলে কবির পরিচয় সমস্যা। গৌরপদতরঙ্গিনী’র সম্পাদক বলরামদাস সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন, “বলরামদাসকে লইয়া সাহিত্যজগতে বিষম ...
গােবিন্দদাসকে দ্বিতীয় বিদ্যাপতিরূপে অভিহিত করবার সার্থকতা | গােবিন্দদাসকে ‘বিদ্যাপতির ভাবশিষ্য’ বলবার কারণ।
“বাঙালী কবিদের মধ্যে ব্রজবুলি ভাষায় পদ রচনায় গােবিন্দদাসের শ্রেষ্ঠত্ব অনস্বীকার্য।”- আলােচনা কর। ব্রজবুলি ভাষায় বৈষ্ণব পদ-রচয়িতা বাঙালী কবিদের মধ্যে গােবিন্দদাসের শ্রেষ্ঠত্ব একবাক্যে স্বীকৃত হয়ে থাকে। কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে মধ্যযুগে বাঙলা সাহিত্যে কবিদের নামসাদৃশ্য এত বেশি লক্ষ্য করা যায় যে কোন নির্দিষ্ট কবিকে পৃথকরূপে চিহ্নিত করা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। বৈষ্ণব কবিতার ক্ষেত্রে বিদ্যাপতি, চণ্ডীদাস এবং জ্ঞানদাসকে ...
“বৈষ্ণব পদ রচয়িতা কবি জ্ঞানদাস ছিলেন আধুনিক মনের অধিকারী।”- জ্ঞানদাসের কৃতিত্ব বিচার-প্রসঙ্গে উক্তিটির সার্থকতা বিচার কর।
কবি জ্ঞানদাসকে চণ্ডীদাসের ভাবশিষ্য বলবার সার্থকতা মধ্যযুগের কবি জ্ঞানদাসের রচনায় যে আধুনিক যুগােচিত মানসিকতার প্রতিফলন ঘটেছে, তার বিবেচনায় সেকালের কবিকুলের মধ্যে তাঁর জন্য একটি বিশেষ আসন চিহ্নিত করে রাখা চলে। মঙ্গলকাব্যের সংখ্যাতীত কবির মধ্যেও কবিকঙ্কণ মুকুন্দ চক্রবর্তী এবং রায়গুণাকর ভারতচন্দ্র যে কারণে ভাস্বর হয়ে আছে, সেই একই কারণে মধ্যযুগের বৈষ্ণব কবিদের মধ্যে রাজচতক্রবর্তীরূপে বিবেচিত না ...
পদকর্তা হিসাবে চণ্ডীদাসের কৃতিত্ব বিচার কর।
চৈতন্যজীবনীকার উল্লেখ করেছেন যে মহাপ্রভু চণ্ডীদাস বিদ্যাপতি রায়ের নাটক-গীতি শ্রদ্ধার সঙ্গে শ্রবণ করতেন। এদের মধ্যে বিদ্যাপতির পদ এবং রায় রামানন্দের নাটক বাঙলা ভাষায় রচিত হয়নি। ফলতঃ চণ্ডীদাসই একমাত্র বাঙালী কবি যার পদাবলী মহাপ্রভুর আস্বাদ ধন্য। বাঙলা সাহিত্যে চৈতন্য-আস্বাদিত চণ্ডীদাসের পদ নিয়ে মহা সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। শ্ৰীকৃষ্ণকীর্তন-রচয়িতা বড়ু চণ্ডীদাস চৈতন্য-পূর্ব যুগেই বর্তমান ছিলেন- মােটামুটিভাবে এই সিদ্ধান্ত ...
