‘বীরাঙ্গনা’ কাব্যের নামকরণের সার্থকতা বিচার করো।
‘মেঘনাদবধ’ কাব্যে ও ‘বীরাঙ্গনা’ কাব্য কবি মধুসূদনের বিজয় বৈজয়ন্তী। যদি মেঘনাদবধ কাব্যকে বলা যায় সুমহান, তবে বীরঙ্গনাকে বলতে হয় সুমধুর। প্রথমটির মধ্যে আছে ভাবকল্পনার বিরাটত্ব, দ্বিতীয়টির মধ্যে আছে রসব্যঞ্জনার অভিনবত্ব। একটি জাতির হৃদয়ের ওপর প্রতিষ্ঠিত, অন্যটি ব্যক্তির মর্মরসে অভিষিক্ত। একটিতে গভীর গাম্ভীর্য, অন্যটিতে ললিত লাবণ্য। একটি হিমালয়, অন্যটি তাজমহল। একটি শ্রদ্ধেয়, অপরটি প্রিয়। ‘বীরাঙ্গনা’ কাব্য ...
প্রাচীন ভারতীয় সাহিত্যে যে নারীদের দেখা মিলেছিল বাংলা সাহিত্যে সময়োপযোগী মানবী হিসেবে তাদেরই ‘বীরাঙ্গনা’ কাব্যে মধুকবি চিত্রিত করেছে—পাঠ্যপত্র অবলম্বনে বিশ্লেষণ করো।
পাশ্চাত্য শিক্ষার ঢেউ যখন আছড়ে পড়ল এদেশের বুকে তখন প্রাচ্যপন্থী রক্ষণশীল মানসিকতা ও পাশ্চাত্যপন্থী ভাবধারার দেখা দিল সংঘাত। কিন্তু লক্ষণীয় প্রাচ্য পন্থীর বাংলা ভাষার প্রতি দরদী ছিল না, ছিলেন সংস্কৃত ভাষার প্রতি। ভাষার দারিদ্র্যে তাঁরা লজ্জাবোধ করতেন, কিন্তু সেই লজ্জা মুক্তির জন্য লেখনী ধারণ করতেন না। মধুসূদনের পূর্বে রঙ্গলাল বাংলা ভাষায় এই দারিদ্র্যতা ঘোচাবার জন্য ...
মধুসূদনের ‘বীরাঙ্গনা কাব্যে’র কোথাও ওভিদের প্রভাব লক্ষ্য করা যায় কী? এই মতটি মেনে নিয়ে মধুসূদনের ‘বীরাঙ্গনা কাব্যে’র স্বরূপ বিশ্লেষণ করো।
পৌরাণিক নারী চরিত্রগুলির মধ্যে কবি মধুসূদন এনেছেন আধুনিক কালানুযায়ী বিশিষ্ট মানসিকতা। কিন্তু তা সত্ত্বেও লক্ষণীয় বিষয় এই যে তিনি প্রাচীন প্রেক্ষাপটকে কখনও অস্বীকার করেননি। বীর্য ও সৌন্দর্যের মিলিত পরিচয়ে অদম হয়ে উঠেছে প্রতিটি নারীচরিত্রই। শুধু দেহহীন প্রেমের লাবণ্য বিলাস নয়, কিংবা দেহসর্বস্ব কামনার কালিদহে নিমজ্জমান নয় মধুসূদন দেখিয়েছেন প্রেমের জন্য নারীর কখনও মধুর, বিরহকাতুতরা রূপ ...
বীরাঙ্গনা কাব্যের শৈলী প্রসঙ্গ আলোচনা করো।
বীরাঙ্গনা কাব্যের শৈলী প্রসঙ্গ যে কোনো শিল্পেরই মূলত দুটি দিক–একটি তার বলবার বিষয় বা প্রসঙ্গ, আরেকটি তার বলবার আঙ্গিক বা উপস্থাপনের ভঙ্গি। শৈলী ব্যাপারটি প্রধানত এই দ্বিতীয় দিকটির সঙ্গে জড়িত। নৃত্য, সংগীত, চিত্রকল্প, ভাস্কর্যশিল্পের প্রতিটি বিভাগের ক্ষেত্রেই শিল্পীকে তার শৈলীগত দিক অর্থাৎ উপস্থাপনের ভঙ্গিটির দিকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হয়। একই বিষয়–ভিন্ন ভিন্ন স্রষ্টার প্রকাশ শৈলীর ...
‘পত্রকাব্য কাকে বলে? বৈশিষ্ট্যগুলি আলোচনা করে বিচার করো বীরাঙ্গনা কাব্যকে শ্রেষ্ঠ পত্রকাব্য বলা যায় কিনা।
পত্রাকাব্যের রীতি ও শ্রেণিবিন্যাস এবং গঠন একজন মানুষ অন্যকোনো মানুষের কাছে তার নিজের বক্তব্য কিংবা মনের ভাব প্রকাশ করার জন্য পত্রলেখার প্রয়োজন হয়। এই পত্র সাধারণত মানুষের মনে আনন্দের সঞ্চার ঘটায়। পত্র একজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে বিভিন্ন মানুষের মনে নতুন সৃষ্টির প্রেরণা ও আনন্দ দান করে। তখন সেই পত্র ব্যক্তিগত গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ না ...
