“শব্দের অর্থ পরিবর্তনের মধ্যে ভাষাসম্প্রদায়ের অতীত ইতিহাস, প্রাচীন সামাজিক রীতিনীতি, বস্তু ব্যবহার ইত্যাদি বিষয়ে অনেক কিছু জানতে পারি।”- উপযুক্ত উদাহরণসহ আলােচনা করে উপরের বিষয়টি বুঝিয়ে দাও।
শব্দমাত্রেরই অর্থ আছে এবং সেই অর্থ যে দেশ-কাল-পাত্রের প্রেক্ষাপটে পরিবর্তিত হয়েই চলছে, যে কোন ভাষায় তার নিদর্শনের অভাব নেই। আচার্য সুকুমার সেন বলেন, “শব্দের অর্থ পরিবর্তন কাহিনী বিচিত্র এবং মনােরম। ইহা হইতে মানবমনের চিন্তাধারার বিবিধ ও বিচিত্র বিবর্তনের নির্দেশ পাওয়া যায়।” মানব-মনের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে শব্দের অর্থ যে কত কী কারণে এবং কতরকমভাবে পরিবর্তিত হয়, ...
শব্দার্থ-পরিবর্তনের কারণসমূহ উদাহরণসহ বর্ণনা কর।
শব্দার্থ-পরিবর্তনের কারণ অর্থবােধক ধ্বনিসমষ্টিকে বলা হয় ‘শব্দ’। অতএব অর্থ বােঝানাের জন্যই শব্দের সৃষ্টি, কিন্তু এমন কোন শব্দ খুঁজে পাওয়া মুস্কিল, চিরকাল যার একটিমাত্র অর্থই প্রচলিত রয়েছে। দেশকালপাত্রের প্রেক্ষাপটে, শব্দের অর্থ নানাভাবে পরিবর্তিত হয়—এই সহজ সত্যটি আর স্বীকৃতির অপেক্ষা রাখে না— ‘পা’ ধাতুর সঙ্গে বিভিন্ন প্রত্যয় যােগে নিষ্পন্ন হাতে পারে তিনটি শব্দ ‘পতি, পাতা, পিতা’—এই তিনটি ...
উপভাষা কাকে বলে? বাঙলা ভাষার রাঢ়ী ও বঙ্গালী উপভাষার প্রচলনস্থান নির্দেশ কর এবং এই দুই উপভাষার বিশিষ্ট লক্ষণাবলীর পরিচয় দাও।
বাঙলা ভাষার উপভাষা ভােষা নদীস্রোতের মতই নিত্য নিয়ত পরিবর্তনশীল। স্থান ও কালভেদে ভাষার নিরন্তর এই পরিবর্তন সাধিত হচ্ছে বলেই যে কোন অঞ্চলে ব্যবহৃত যে কোন ভাষার ক্ষেত্রেও বেশ কিছু বৈচিত্র্য লক্ষিত হয়ে থাকে। এই বৈচিত্র্য সাধারণতঃ ধ্বনিগত, কিছু বা শব্দগত। কখন কখন এই ভাষা-ব্যবহারকারীদের মধ্যে ভাষার সহজবােধ্যতা বজায় না থাকাও সম্ভব। কিন্তু অল্পবিস্তর পার্থক্য থাকা ...
সাধু ও চলিত রীতির বাক্যগঠনগত পার্থক্য দেখাও। সর্বনাম পদ ও অসমাপিকা ক্রিয়ার ব্যবহারে সাধু ও চলিতের মধ্যে কিরূপ পার্থক্য তাহা উদাহরণসহ বুঝাইয়া দাও।
বাঙলা ভাষার সাধুরীতি ও চলিত রীতির মধ্যকার পার্থক্য আধুনিক-পূর্ব যুগে চিঠিপত্রে এবং দলিল দস্তাবেজে বাংলা গদ্যের নিদর্শন পাওয়া গেলেও তাকে কোনক্রমেই সাহিত্যিক গদ্য বলা চলে না। আর সে-যুগের যাবতীয় সাহিত্যই তাে পদ্যে রচিত। বাংলা গদ্য একান্তভাবেই একালের সামগ্রী। ১৮০০ খ্রীঃ ফোর্ট উইলিয়ম কলেজ স্থাপিত হবার পর কেরী সাহেবের প্রবর্তনায় কলেজের পণ্ডিতদের দ্বারা বাঙলা গদ্য সাহিত্যের ...
আধুনিক যুগের বাঙলা ভাষার বৈশিষ্ট্য লক্ষণসমূহ | অন্ত্য-মধ্যযুগের বাঙলা ভাষার লক্ষণসমূহ
অন্ত্য-মধ্যযুগের বাঙলা ভাষার লক্ষণসমূহ প্রায় একালের দোরগােড়ায় এসে দাঁড়ানাে অন্ত্য-মধ্যযুগের ভাষার সঙ্গে একালের ভাষার পার্থক্য বড়দরের নয়। বিশেষতঃ অন্ত-মধ্যযুগে এত সাহিত্য রচিত হয়েছে এবং তাতে এত অবিকৃত রচনার সন্ধান পাওয়া যায় যে, ভাষাতাত্ত্বিক গবেষণার জন্য কোন একটা বিশেষ গ্রন্থের উপর নির্ভরশীল হওয়ার প্রয়ােজন হয় না। বহু গ্রন্থেই ঐ যুগের ভাষার যথাযথ রূপের পরিচয় পাওয়া যায়। ...
