বাংলার সর্বাধিক প্রসিদ্ধ রামায়ণ রচয়িতার আবির্ভাব কাল ও পরিচয় উল্লেখ করে এই গ্রন্থের সাহিত্যমূল্য ও বাঙালির সমাজজীবনে এর প্রভাব সম্পর্কে আলোচনা কর।
মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের একটি ধারা হল অনুবাদের ধারা। রামায়ণ, মহাভারত, ভাগবত প্রভৃতি সাহিত্যের অনুবাদ হতে থাকে। মহাভারত অনুবাদ করেছিলেন শীরাম দাস। অনুরূপভাবে রামায়ণ অনুবাদ করেছিলেন কৃত্তিবাস ওঝা। তবে কৃত্তিবাসী সাহিত্যকে বাঙালিরা শ্রীরাম ‘পাঁচালী’ বলে থাকে। একথা ঠিক বাল্মীকির রামায়ণ যে অর্থে ভারতী শ্রোতার চিত্তকে কাব্যের হিরন্ময় আবরণের আড়ালে গভীরতম অভিজ্ঞতার সন্ধান দেয় সেই অর্থে কৃত্তিবাসী ...
মিথিলার কবি বিদ্যাপতিকে বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে অন্তর্ভূক্তির কারণ দেখিয়ে বৈশ্বব পদ সাহিত্যে তাঁর অবদান সম্পর্কে আলোচনা করো।
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে বৈশ্বব পদ সাহিত্যে বিদ্যাপতির অবদান বিদ্যাপতি মিথিলার অধিবাসী হয়েও রসিক বাঙালি হৃদয়ে তিনি সুপ্রতিষ্ঠিত। তাঁকে মৈথিলি কোকিল বলা হয়। তিনি বাঙালি ছিলেন না তবুও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তাঁর অবদানের শেষ নেই। বিদ্যাপতি মূলত রাধা কৃষ্ণ বিষয়ক পদ রচনা করেছেন। এছাড়াও তার অনেক গ্রন্থের সন্ধান পাওয়া যায়। তিনি মিথিলাবাসী হয়েও বাঙালির এত প্রিয় হবার কিছু কারণ ...
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যটির কাব্যপরিকল্পনায় কবি বড়ু চণ্ডীদাস যে মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন তার পরিচয় দাও।
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যটির কাব্যপরিকল্পনায় মুন্সিয়ানা বড়ু চণ্ডীদাস রচিত ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ কাব্যটি রাধাকৃষ্ণ লীলা বিষয়ক কাব্য। মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যকে প্রেম, সৌন্দর্য ও দিব্য চেতনার কাব্যতীর্থে উন্নীত করেছে যে বৈশ্বব সাহিত্য, সে-টি জয়দেব রচিত ‘গীতগোবিন্দ’। দুটি সাহিত্যেই মধ্যযুগের রাধা কৃষ্ণ বিষয় কাহিনি। তবে ‘গীতগোবিন্দ’-এর তুলনায় শ্রীকৃষ্ণকীর্তনে নাটকীয়তা অধিক বিবৃত। সাহিত্যের এই অমূল্য সম্পদটি দীর্ঘকাল অনাবিষ্কৃত ছিল। ১৩১৬ বঙ্গাব্দে শ্রীযুক্ত ...
শ্রীকৃষ্ণ কীর্তন কাব্যটির আবিষ্কার ও প্রকাশ সম্বন্ধে আলোচনা করে বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে গ্রন্থটির গুরুত্ব নির্দেশ করো।
বড়ু চন্ডীদাসের শ্রীকৃষ্ণকীর্ত্তন কাব্য আবিষ্কারের পর সাহিত্য জগতে এক প্রবল চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছিল। এটি রাধাকৃষ্ণ লীলা বিষয়ক পুরাতন ধরনের আখ্যান কাব্য। শ্রীকৃষ্ণ কীর্তন কাব্যটির আবিষ্কার ও প্রকাশ : শ্রীকৃষ্ণকীর্তন আবিষ্কার করেন সমুদ্রের নাবিক পণ্ডিত বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্ববল্লভ মহাশয়। ১৩১৬ বঙ্গাব্দে (ইং–১৯০৯) বন-বিষ্ণুপুরের কাছে কাঁকিল্যা গ্রামের জনৈক দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ে বাড়িতে এক গোয়াল ঘরে সঞ্চিত অনেক পুরাতন ...
‘চর্যাপদের আবিষ্কার ও পুঁথি সংক্রান্ত তথ্য বিবৃত করে এর সাহিত্যমূল্য নিরূপণ করো।
চর্যাপদের আবিষ্কার : বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন এই চর্যাপদগুলি। মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী হলেন এগুলির আবিষ্কর্তা। তিনি নেপালের রাজদরবার থেকে চর্যাপদের পুঁথি আবিষ্কার করেন এবং ১৯১৬ সালে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে ‘হাজার বছরের পুরান বাঙ্গলা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা’ নামে প্রকাশ করেন। ‘চর্যাপদের পুঁথিসংক্রান্ত তথ্য : চর্যাপদগুলিতে প্রায় অষ্টম থেকে দ্বাদশ শতক পর্যন্ত বাংলা ...
