ধর্মমঙ্গল কাব্যকে ‘রাঢ়ের জাতীয় মহাকাব্য’ বলা হয়—উক্তিটি কতটা যুক্তি যুক্ত আলোচনা করো।

রাঢ়ের জাতীয় মহাকাব্য ধর্মমঙ্গল কাব্য মধ্যযুগীয় মঙ্গলকাব্য ধারায় ধর্মমঙ্গল কাব্যখানি বিশিষ্ট স্থানের অধিকারী এবং স্ব-মহিমায় উজ্জ্বল। ফেলারাম চক্রবর্তী এই আখ্যান কাব্যকে ‘গৌড়কাব্য’ হিসাবে আখ্যাত করলেও কথাটা নানা দিক দিয়ে উল্লেখযোগ্য। এ কাহিনি নানা বৈচিত্রময় ও বীর রসাত্মক হওয়া সত্ত্বেও শুধু রাঢ়ভূমি ব্যতীত বাংলা দেশের অন্যত্র প্রচলিত হয়নি। উত্তরবঙ্গে মনসামঙ্গলের গোড়ার দিকে সৃষ্টি প্রক্রিয়া বর্ণনায় ধর্মের ...

Read more

মুকুন্দরামের কাব্যে সমাজ বাস্তবতা | কবি মুকুন্দের কাব্যে আধুনিকতা তথা অভিনবত্বের দিক

মুকুন্দরামের কাব্যে সমাজ বাস্তবতা যে কয়টি বৈশিষ্ট্যের জন্যে মুকুন্দরাম ষোড়শ শতাব্দীর কবিকুল তথা সমগ্র মঙ্গল কাব্যের ধারায় অবিসংবাদিত শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছেন তার অন্যতম হল কবির বহুব্যাপ্ত অভিজ্ঞতা এবং সেই অভিজ্ঞতাকে কাব্যে রূপায়িত করার দুর্লভ কবি প্রতিভা। মুকুন্দরাম সমকালীন জীবন ও জগৎকে দুচোখ মেলে দেখেছেন, তার অভ্যন্তরস্থ জীবনবোধ ও কর্ম প্রেরণাকে গভীর অন্তর্দৃষ্টি দিয়ে উপলব্ধি করেছেন ...

Read more

চণ্ডীদাস ও জ্ঞানদাসের মধ্যে তুলনা | জ্ঞানদাস কে চন্ডীদাসের ভাবশিষ্য বলা হয় কেন

চণ্ডীদাস ও জ্ঞানদাসের মধ্যে তুলনা চণ্ডীদাসের ভাবশিষ্য রোমান্টিক কবি জ্ঞানদাসের সঙ্গে চণ্ডীদাসের কবি-বৈশিষ্ট্যের মিল থাকলেও ঈষৎ পার্থকও বিদ্যমান। চণ্ডীদাসের– “দেশে দেশে ভরমিব যোগিনী হইয়া” এবং জ্ঞানদাসের— “পরিয়া অরুণবাস যোগিনী হইব।” উভয় উচ্চারণের মধ্যে প্রথমটি ব্যাকুল, শেষোক্তটি বাসনা রঙিন। চণ্ডীদাসের যেখানে ধ্বনি— “কানের ভিতর দিয়া/মরমে পশিল গো/আকুল করিল মোর প্রাণ।” সেখানে— জ্ঞানদাসের “হৃদয়ে পশিল রূপ পিঞ্জর ...

Read more

বিদ্যাপতি ও গোবিন্দ দাসের কবি ধর্মের তুলনা।

বিদ্যাপতি ও গোবিন্দ দাসের কবি ধর্মের তুলনা গোবিন্দ দাস ছিলেন বিদ্যাপতির ভাবশিষ্য। শিল্প গুরু গোবিন্দ দাস দ্বিতীয় বিদ্যাপতি হিসাবে দিকে দিকে নন্দিত হয়েছিলেন, এই দুই কবির কাব্যে ভাবের এবং রূপের এক সাদৃশ্য লক্ষ্য করা যায়। বিদ্যাপতির কবি-ব্যক্তিত্বের নেপথ্যে ছিল সংস্কৃত অলংকার শাস্ত্র, জয়দেবের মধুর কান্ত পদাবলীর ঐতিহ্য এবং রাজসভার বিলাস-কলা-সমুজ্জ্বল পরিবেশ। তাই মণ্ডন কলা নিপুণতা, ...

Read more

অভিসার পদরচনায়—গোবিন্দদাস | অভিসার পর্যায়ের শ্রেষ্ঠ কবি

অভিসার পদরচনায় গোবিন্দদাস রবীন্দ্রনাথ তাঁর ‘বৈষ্ণব কবিতায়’ একদা প্রশ্ন করেছেন— “পূর্বরাগ, অনুরাগ, মান, অভিমান অভিসার, প্রেম লীলা, বিরহ, মিলন বৃন্দাবন গাথা এই প্ৰণয় স্বপন…  একি শুধু দেবতার ?” —বস্তুত বৈশ্বব পদাবলী মর্ত্য জীবনের জবানীতে অলৌকিক দিব্য জীবনের সংবাদ হলেও মর্ত্যলোকের বিরহ, মিলন, মান, অভিমান, প্রণয়ে ব্যাকুলতার কথা এখানেই প্রাধান্য লাভ করেছে। সংসার বন্ধনে বন্দিনী নারীর ...

Read more