‘অন্নদামঙ্গল’ কাব্যের মানবিক আবেদন | অন্নদামঙ্গল কাব্যে দেবকথার অন্তরালে মানব কথা ব্যক্ত

অন্নদামঙ্গল কাব্যের মানবিক আবেদন মঙ্গলকাব্য মূলত দেবদেবীর মাহাত্ম্য প্রচারের উদ্দেশ্যেই রচিত। এই দেবমাহাত্ম্য প্রচারিত হয়েছে মৃত্তিকাচারী মানুষের দ্বারাই। সুতরাং মঙ্গলকাব্যে দেবতার প্রাধান্য থাকলেও মানব কথা অবহেলিত নয়। দেবদম্পতি মর্ত্যলোকে মানবরূপেই জন্মগ্রহণ করেন এবং মর্ত্যের মানুষের মতই জীবনাচরণ করেন। তাই তাঁরা সাধারণ সুখ দুঃখের অতীত নয়। মৃত্তিকা লগ্ন মানুষের ব্যথা বেদনা, হাসিকান্না, সুখ দুঃখ প্রভৃতি তাঁদের ...

Read more

ভারতচন্দ্র যুগসন্ধির কবি | যুগসন্ধির কবি ভারতচন্দ্র

যুগসন্ধির কবি ভারতচন্দ্র মধ্যযুগীয় যে ভক্তি ভাবনা দৈববিশ্বাসকে অবলম্বন করে, মঙ্গল দেবদেবীর উপাসনাকে আশ্রয় করে প্রবহমান হয়ে চলেছিলো এয়োদশ শতক থেকে শুরু করে ষোড়শ সপ্তদশ শতক পর্যন্ত, অষ্টাদশ শতকে এসে যেন সেই ভক্তি ও দৈববিশ্বাসে লাগলো সংশয়ের আঘাত। এই অন্তর্বর্তীকালে, একদিকে যেমন গৌড়ীয় বৈষ্ণুবধর্মে ও কাব্যে গোস্বামী শাসনের ফলে মানবীয়-আবেগ বিরহিত শুদ্ধ অহৈতুকী ভক্তির আধ্যাত্মিকতায় ...

Read more

অন্নদামঙ্গল : নূতন মঙ্গল | অন্নদামঙ্গল কাব্যকে “​নূতন মঙ্গল” অভিধায় অভিহিত

অন্নদামঙ্গল : নূতন মঙ্গল ‘অন্নদা মঙ্গল’ কাব্যের শুরুতেই দেবী সরস্বতীকে বন্দনা জানিয়ে কবি লিখেছেন—  ‘দয়া কর মহামায়া দেহ মোরে পদছায়া পূর্ণ কর নূতন মঙ্গল।”  এবং পরে আর একবার জানালেন— “নূতন মঙ্গল আশে ভারত সরস ভাষে রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের আজ্ঞায়।”  নিজের রচনাকে এরূপ নূতন বলে উল্লেখ সব মঙ্গল কবিই করেননি। যাঁরা করেছেন তাঁদের সংখ্যা অত্যল্প এবং গভীর ...

Read more

ভারতচন্দ্রের অন্নদামঙ্গল ‘রাজকণ্ঠের মণিমালা’ বিশেষ। আলোচনা করো।

রাজকণ্ঠের মণিমালা ভারতচন্দ্রের অন্নদামঙ্গল রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখেছেন- “রাজসভাকবি রায়গুণাকরের অন্নদামঙ্গল গান রাজকণ্ঠের মণিমালার মতো। যেমন তাহার উজ্জ্বলতা তেমনি তাহার কারুকার্য।” রবীন্দ্রনাথের এই উক্তিটির তাৎপর্য দ্বিমুখী। নঞর্থক ও সদর্থক। নঞর্থকভাবে বোঝানো হয়েছে, ভারতচন্দ্রের কাব্যে নেই সেই সুদূরের মায়ায় ভরা সৌন্দর্যের রহস্যব্যাকুল ছবি ; যে সৌন্দর্য বুকে নিয়ে বৈব কবিদের পদাবলী হয়ে উঠেছে— “বসন্তকালীন অপর্যাপ্ত পুষ্প মঞ্জরীর ...

Read more

মঙ্গলকাব্য ধারায় শিবায়ন কাব্যের বিশিষ্টতা | মঙ্গলকাব্য ধারায় শিবায়ণ এর গুরুত্ব

মঙ্গলকাব্য ধারায় শিবায়ন কাব্যের স্বতন্ত্র প্রাচীন ভারতীয় সাহিত্যে শিব একটি বিচিত্র চরিত্রের দেবতা, একদিকে তিনি ভস্ম বিভূষিত, শ্মশানচারী, যোগীবাহ, আর একদিকে তিনি উমাকাস্ত। কামকে ভস্মীভূত করেছেন তিনি। কখনো কখনো কামাধীন হয়েছেন। তিনি ভিখারী, কিন্তু তাঁর সহধর্মিনী অন্নপূর্ণা ষড়ৈশ্বর্য শালিনী। একদিকে তিনি ধ্যান স্তিমিত, ত্রিগুণাতীত আর একদিকে সর্বধ্বংসী মহাকাল। তাঁর প্রলয় নৃত্যের তালে একদিকে নবজীবন উচ্ছিত ...

Read more