বনওয়ারী চরিত্রটির স্বরূপ উদঘাটন করাে | ‘হাঁসুলী বাঁকের উপকথা’ উপন্যাসে বনওয়ারী চরিত্র
বনওয়ারী চরিত্র নায়কের নাম বনবিহারী, ওরফে বনওয়ারী। কাহিনিতে সে পঞ্চাশাের্ধ হলেও প্রাণশক্তিতে পূর্ণ। সংরাগ আর সংযমের টানাপােড়েন এক ঔৎসুক্যজনক চরিত্র। পিতৃপুরুষের পরম্পরাই শ্রেয় এবং তার থেকে বিচ্যুতি পাপ—এই বিশ্বাসের ওপর দাঁড়িয়েছিল বনওয়ারী। আপ্তবাক্যে কুলকর্মে এবং গােষ্ঠীদেবতার প্রতি তার ভক্তি ও নিষ্ঠার আন্তরিক। গােষ্ঠী ও গাঁয়ের মঙ্গল তার ধ্যান-জ্ঞান-কর্ম, তার পুরুষার্থ। ওই পুরুযার্থের সাধনায় সে যথাসাধ্য ...
‘হাঁসুলী বাঁকের উপকথা’ উপন্যাসটি মূলতঃ উপকথার জগৎ দ্বারা আবিষ্ট নিজের মতামত সহ ব্যাখ্যা করাে।
সাধারণত একটি মিথিক জগৎ কীভাবে ভজনের মধ্য দিয়ে ইতিহাসের জগতে এলাে তার আখ্যান বৃত্তান্তই তারাশংকরের ‘হাঁসুলী বাঁকের উপকথা’। উপন্যাসের শুরুতে কোপাই নদী ও হাঁসুলী বাঁকের প্রসঙ্গ এসেছে উপমায় চিত্রকল্পে নদীতীরস্থ কাহার মানুষদের সঙ্গে তুলনায় দ্বারা। কাহার পাড়ার এক একটা ঝিউড়ি মেয়ের হঠাৎ ক্রোধ ও বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে পড়ার মতােই—ওই ভরা নদী অকস্মাৎ ওঠে ভেসে। তখন ...
‘হাঁসুলী বাঁকের উপকথা’ উপন্যাসে লােকায়ত জীবনের নিত্য ব্যবহার্য যে সকল জিনিস পত্রের উল্লেখ আছে তার বিশদ বিবরণ দাও।
লােকায়ত জীবনের জীবন্ত দলিল রূপে অন্যান্য স্বীকৃতি, তারাশংকরের হাঁসুলী বাঁকের উপকথা, উপন্যাস খানি। আঞ্চলিকতার মন্ত্রে সুগ্রথিত উপন্যাসটিতে বিশেষরূপে প্রতিফলিত হয়েছে লােকায়ত জীবনের নিত্য ব্যবহার্য নানা উপাদান। সমালােচক বরুণ কুমার চক্রবর্তী তাঁর অনুসন্ধিৎসু দৃষ্টি মেলে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য আহর করেছেন। তিনি জানিয়েছেন হাঁসুলী নদীর বর্ণনা উপন্যাসের একেবারে প্রথমেই প্রদত্ত রয়েছে। লেখক সেই বর্ণনায় বলেছেন- “নদীর ...
‘হাঁসুলী বাঁকের উপকথা’ উপন্যাসটিতে প্রবীণ ও নবীনের দ্বন্দ্ব কীভাবে প্রকট হয়ে উঠেছে তার ব্যাখ্যা দাও।
এই কাল ও প্রকৃতিকে ঘিরে যে মানুষগুলি—তাদের জীবন কথাই হল উপন্যাসের মুখ্য বিষয়। এইকথা রূপকথা নয়, উপকথা। এই উপকথায় নরনারীদের দুটি দলএকদল প্রবীণ, অন্যদল নবীন। প্রবীণ পুরুষদের মাতব্বর বনওয়ারী, নবীনের নেতা করালী। প্রবীনদের জগদ্দল পাথর সুঁচাদ, নবীনদের মুক্ত বিহঙ্গ পাখি ও সুবাসী। তারাশংকর চরিত্রগুলিকে সুচিন্তিত ভাবে ভাগ করে নিয়েছেন। নাটকীয় পদ্ধতিতে প্রবীণ নবীনের দ্বন্দ্ব সৃষ্টি ...
‘হাঁসুলী বাঁকের উপকথা’ উপন্যাসে সে জগতের সৃষ্টি হয়েছে যেটি মূলত ‘মিথময়’- ব্যাখ্যা করাে।
মিথ হল মুখে মুখে চলা তারিখহীন স্রষ্টাহীন গল্প, যাতে একটা কাল নিজের সঙ্গে নিজের কথা বলে। মিথের মধ্যে লুকিয়ে থাকে বাস্তবের অজস্র রেণু, বিপরীতের সংশ্লেষে সেই অন্তলীন অভিজ্ঞতা আমাদের চেতনায় ধাক্কা মারে। সমাজ বিবর্তন, শ্রেণি বৈষম্য, বিজ্ঞান চেতনার সংঘাত এ সবই অবচেতনের কার্যকারিতায় মিথের অন্তর্ভূক্ত। মিথের সঙ্গে ধর্মের ও পার্বণের একটা যােগ আছে। আচার মিলিয়ে ...
