‘ঐতিহাসিক পরিবেশ সত্ত্বেও ‘চন্দ্রশেখর’ ঐতিহাসিক উপন্যাস নয়– মূলত সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস।’ –এই মত কি সমর্থন করো? উত্তরের সাপেক্ষে যুক্তি দাও।
‘চন্দ্রশেখর’ উপন্যাসে ইতিহাসের প্রেক্ষাপট কিয়দংশ উদঘাটিত হলেও তবে তা পুরোপুরি ঐতিহাসিক উপন্যাস নয়। এর কাহিনি গ্রন্থনের গতিপ্রকৃতির দিকে লক্ষ্য রেখে নির্দ্বিধায় মন্তব্য করা চলে ‘চন্দ্ৰশেখর ইতিহাসাশ্রয়ী সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস। চন্দ্রশেখর উপন্যাসে বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব মীরকাসেমের সমসাময়িক যে ইতিহাসটুকু স্থান পেয়েছে তা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ নয়। কারণ মূল কাহিনির সঙ্গে তার বিশেষ সংযোগ অনুভূত হয় ...
‘একটি যুগের ঐতিহাসিক শক্তির ঘাতপ্রতিঘাতে ব্যক্তিজীবন কীভাবে আলোড়িত হয় তার ছবি আঁকাই ঐতিহাসিক উপন্যাস রচনার লক্ষ্য।’– ‘চন্দ্রশেখর’ উপন্যাসটি অবলম্বনে এই মতের সমর্থনে অথবা বিপক্ষে তোমার যুক্তি প্রতিষ্ঠিত করো।
চন্দ্রশেখর উপন্যাস সম্পর্কে বঙ্কিমচন্দ্র একদা মন্তব্য করেছিলেন– “ইহাতে যে সকল ঐতিহাসিক ঘটনার উল্লেখ আছে, তাহার কোনো কোনো কথা সচরাচর প্রচলিত ভারতবর্ষীয় বাঙ্গালার ইতিহাসে পাওয়া যায় না। ‘সয়ের উল মতাক্ষরীণ’ নামক পারস্য গ্রন্থের একখানি ইংরেজি অনুবাদ আছে; ঐতিহাসিক বিষয়ে, কোথাও কোথাও ওই গ্রন্থের অনুবর্তী হইয়াছি।” তা সত্ত্বেও বলতে হয় আলোচ্য উপন্যাসে দলনীর উপাখ্যানটিকে যথার্থ ইতিহাসের মর্যাদা ...
বঙ্কিমচন্দ্র ‘চন্দ্রশেখর’ উপন্যাসে ঘটনার সমাবেশ ঘটিয়েছেন অনেক বেশি। কাহিনিকে এগিয়ে নিয়ে যাবার জন্য যা অত্যন্ত জরুরী। এই ঘটনাধারার মধ্যে এমন কয়েকটি স্মরণীয় মুহূর্ত আছে যা ইতিহাসের দিগন্তকে উদ্ভাসিত করে দেয়।
“বঙ্কিমচন্দ্র ‘চন্দ্রশেখর’ উপন্যাসে ঘটনার সমাবেশ ঘটিয়েছেন অনেক বেশি। কাহিনিকে এগিয়ে নিয়ে যাবার জন্য যা অত্যন্ত জরুরী। এই ঘটনাধারার মধ্যে এমন কয়েকটি স্মরণীয় মুহূর্ত আছে যা ইতিহাসের দিগন্তকে উদ্ভাসিত করে দেয়।”– উদাহরণ সহযোগে আলোচনা করো। বঙ্কিমচন্দ্র তাঁর চন্দ্রশেখর উপন্যাসে একটা বিশেষ আদর্শ স্থাপন করেছেন –“বাল্যপ্রণয়ে কোনো অভিশম্পাত আছে।” এই মতাদর্শে বিশ্বাসী হয়ে তিনি প্রতাপ ও শৈবালিনী ...
দলনী বেগম বঙ্কিমচন্দ্রের অপরূপ সৃষ্টি ; দলনীর পরিচয় ইতিহাসে নেই। বঙ্কিমচন্দ্রের যে কল্পনা আয়েষা সৃষ্টি করেছিল তাই-ই আর এক পা অগ্রসর হয়ে দলনীকে সৃষ্টি করলো। – আলোচনা করো।
বঙ্কিমচন্দ্রের ‘চন্দ্রশেখর’, ঐতিহাসিক উপন্যাস নয়। এটি ইতিহাসাশ্রয়ী মনস্তত্ত্বমূলক উপন্যাস। বাংলার শেষ নবাব মীরকাসেম-এর বেগমরূপে দলনী চরিত্রের স্বরূপ উপন্যাস মধ্যে উদ্ঘাটিত হলেও দলনী অনৈতিহাসিক চরিত্র। ইতিহাসের সঙ্গে তাঁর উল্লেখ নেই। অথচ লেখক অতি নিষ্ঠা ও প্রতিভার গুণে দলনীকে এমনভাবে সৃষ্টি করেছেন তাতে সহজেই মনে হয় দলনী ঐতিহাসিক চরিত্র। একনিষ্ঠ পত্নী ও প্রেমিকা রূপে ‘চন্দ্রশেখর’ উপন্যাসে দলনী ...
‘হাঁসুলী বাঁকের উপকথা’য় নারীচরিত্র রূপে বসন্ত ও গােপীবালার স্বরূপ উদঘাটন করাে।
‘হাঁসুলী বাঁকের উপকথা’য় বসন্ত ও গােপীবালার চরিত্র হাঁসুলী বাঁকের উপকথার নারীরা অধিকাংশই ‘প্রবৃত্তি-প্রধান দুরস্ত হৃদয়াবেগের’ আধার, ব্যতিক্রম শুধু বসন্ত আর গােপীবালা। দুটি চরিত্র খুবই নিষ্ক্রিয় এ উপন্যাসে। তারমধ্যে বসন বা বসন্তকে অন্যভাবে এঁকেছেন তারাশংকর, ঔপন্যাসিকের নিজস্ব এক শ্রদ্ধা এই চরিত্রটির ‘হাঁসুলী বাঁকের বাঁশবাদির কাহা পাড়ায় মানুষদের প্রকৃতি আছে, চরিত্র নাই’। বসনের ক্ষেত্রে এই মত গ্রাহ্য ...
