‘ভবিতব্য কে খণ্ডাইতে পারে? যা ঘটিবার তাহা অবশ্য ঘটিবে।’ বক্তা কে? কী প্রসঙ্গে উক্তিটি করা হয়েছে? ভবিতব্য বলতে কী বোঝানো হয়েছে? অবশ্যই কী ঘটিবে?

উক্তিটি ব্রষ্মচারী রূপী চন্দ্রশেখরের। উপন্যাসের দ্বিতীয় খণ্ডের তৃতীয় পরিচ্ছেদে বিষয়টি বর্ণিত হয়েছে। নবাবের সঙ্গে ইংরাজদের আসন্ন যুদ্ধকে থামিয়ে দিতে নবাবের অগোচরে রাতের অন্ধকারে দলনী বেগম ও কুলসম অন্তপুর থেকে এসেছিলেন সেনাপতি গুরুগন খাঁর ঘরে। কিন্তু নিরাশ হয়ে তিনি ফিরেছিলেন। তবে বিপদের দিনে ভাই হয়ে গুরগন খাঁ না এগিয়ে আসায় দলনী তাঁকে শত্রুরূপে প্রতিপন্ন করেছিলেন। নিজের ...

Read more

“ঈশ্বর আমার বিচারকর্তা আমি অন্য বিচার মানি না।”–কে, কাকে, কোন্ প্রসঙ্গে এ কথা বলেছেন? এই উক্তির দ্বারা বক্তার মানসিকতার কী পরিচয় পাওয়া যায়?

এ উক্তিটি নবাব মীরকাসেমের উপপত্নী-দলনী বেগমের। যার সম্পূর্ণ নাম দেলিতউন্নিসা। দলনী বেগম এ কথাগুলি বলেছিলেন তাঁর প্রিয়বাদী কুলসমকে। উপন্যাসের দ্বিতীয় খণ্ডের তৃতীয় পরিচ্ছেদে ‘দলনীর কী হইল’ অংশে উপরিউক্ত কথাগুলি ব্যক্ত হয়েছে। দলনী বেগম রাতের আঁধারে কুলসমকে সঙ্গে নিয়ে অন্তপুর ত্যাগ করে এসেছিলেন সেনাপতি গুরগন খাঁর নিকট। উদ্দেশ্য ইংরাজদের সঙ্গে নবাবের আসন্ন যুদ্ধকে থামিয়ে দিতে। এই ...

Read more

‘চন্দ্রশেখর’ উপন্যাসের উপক্রমণিকা অংশের সার্থকতা বিচার করো।

‘উপক্রমণিকা’ শব্দের আভিধানিক অর্থ হল– সূত্রপাত বা মুখবন্ধ, বা প্রস্তাবনা। অর্থাৎ কোনো বিষয়ের সামগ্রিক রূপ পরিস্ফুটনের পূর্বে তার সূচনা বা প্রথামাংশে পরবর্তী ঘটনার ইঙ্গিত দেওয়া থাকে, এই অংশটিকে উপক্রমণিকা রূপে চিহ্নিত করা হয়। তবে সর্বক্ষেত্রে এই ‘উপক্রমণিকা’ অংশটি থাকবে এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। এটা লেখকের সম্পূর্ণ নিজস্ব ব্যাপার। ‘চন্দ্রশেখর’ উপন্যাসে লেখক বঙ্কিমচন্দ্র মূল কাহিনির অবতারণার ...

Read more

‘চন্দ্রশেখর উপন্যাস ইতিহাস ও কাল্পনিক কাহিনির আশ্চর্য সমন্বিত রূপ।’– আলোচনা করো।

প্রথমেই বলে নেওয়া ভালো, চন্দ্রশেখর কোনো ঐতিহাসিক উপন্যাস নয়, ইতিহাসাশ্রিত সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস। ইতিহাস এখানে যতটুকু প্রভাব বিস্তার করেছে তা কাহিনি নির্মাণের প্রয়োজনে, ইতিহাস রস সৃষ্টির জন্য নয়। এর মূল কাহিনি নির্মিত হয়েছে প্রতাপ-শৈবালিনী চন্দ্রশেখর প্রভৃতি সামাজিক চরিত্রকে নিয়ে। যে সকল ঐতিহাসিক চরিত্র স্থান পেয়েছে কার্যকারণসূত্রে তাঁরা উপন্যাস মধ্যে তেমন প্রভাব বিস্তার করতে পারেনি। ...

Read more

‘চন্দ্রশেখর’ উপন্যাসে দেখা যায় সে যুগের যে রাজনৈতিক ঝড় শৈবালিনীকে সুরক্ষিত সমাজজীবন ও শান্ত গৃহকোণ থেকে বিচ্যুত করেছে– তার প্রকৃত উৎস ছিল তার নিজের অশান্ত হৃদয় গভীরে। চরিত্রটি অবলম্বনে এ বিষয়ে তোমার মতামত ব্যক্ত করো।

বঙ্কিম সাহিত্যে শৈবালিনী নারী চরিত্র অপূর্ব সৃষ্টি। ইতিহাসের প্রেক্ষাপটে যে উপন্যাসের কাহিনি বয়ন, সেই ‘চন্দ্রশেখর’-এর একজন সামাজিক পারিবারিক নারীচরিত্র রূপে শৈবালিনী যেভাবে আপনাতে আপনি বিকশিত হয়ে উঠেছেন তাতে সতঃতই বিস্ময়ের উদ্রেক করে৷ প্রবাদে আছে– “স্ত্রীয়াশ্চরিত্রম দেবা ন জানন্তি, মনুষ্য কতঃ।” শৈবালিনী সেই বৈশিষ্ট্যে সমাসীন। বাল্য হতেই প্রতাপকে সে ভালোবাসতো। একসাথে ভাগীরথীর তীরে খেলতে খেলতে ভালোবাসতে ...

Read more