‘চন্দ্রশেখর’ উপন্যাসের দ্বিতীয় খণ্ডের সপ্তম পরিচ্ছেদ কীভাবে শৈবালিনী ও না দলনী বেগমের জীবন-গতির নিয়ন্ত্রক হয়ে উঠেছে? সমগ্র উপন্যাসের পরিপ্রেক্ষিতে ওই পরিচ্ছেদটির গুরুত্ব বিচার করো।
বেদগ্রামের ভীমা পুষ্করিণীতে স্নানরতা শৈবালিনীকে দেখে তাঁর রূপে মোহমুগ্ধ হয়ে কুঠিয়াল লরেন্স ফষ্টর শৈবালিনীকে অপহরণের ছক কষেন। একদা এক রাত্রে তা কার্যে পরিণত করতে ফষ্টর লাঠিয়ালদের নিয়ে শৈবালিনীকে অপহরণ করেন এবং তিনি শৈবালিনীকে নিয়ে মুঙ্গের যাত্রা করেন। সহজ সরলা পল্লিবালা শৈবালিনী এখান থেকেই কুলত্যাগিনী রূপে আঘাত হন। ননদী সুন্দরী তাঁকে উদ্ধারের জন্য শত প্রচেষ্টা চালালেও ...
“চন্দ্রশেখর উপন্যাসে নদী ও মানব জীবনের সংযোগ রচিত হয়েছে।”–বিশ্লেষণের সাহায্যে এই বিষয়ে তোমার অমিত প্রতিষ্ঠা করো।
প্রত্যেকটি মানুষের জীবন খরস্রোতা নদীর মতো। পাহাড়পর্বত খরস্রোতা বন্ধুর পথ অতিক্রম করে যেমন নদী সমুদ্রে গিয়ে মিলিত হয়, প্রতিটি মানুষ তেমন সুখ-দুঃখ ব্যথাবেদনা উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে জীবনের শেষ অধ্যায়ে গিয়ে উপনীত হয়। সমালোচ্য ‘চন্দ্রশেখর’ উপন্যাসের চরিত্রগুলিও নদীর ধারার মতো প্রতিভাত হয়েছে। নানান উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে জীবন ধারণ করেছে অবশেষে তারা এক সুষ্ঠু সমাধানে পর্যবসিত হয়েছে। ...
‘এ জলের তো তল আছে আমি যে অতল জলে ভাসিতেছি।’ –বক্তা কে? কী প্রসঙ্গে সে এই উক্তি করেছে? উক্তিটির তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো।
আলোচ্য উক্তিটির বক্তা হলেন শৈবালিনী। উপন্যাসের তৃতীয় খণ্ডের ষষ্ঠ পরিচ্ছেদে ‘অগাধ জলে সাঁতার’ অংশে এই উক্তিটি করেছেন। প্রবল বিক্রমে ফক্টরের নিকট হতে অপহুতা শৈবালিনীকে উদ্ধার করার পর প্রতাপ ইংরাজদের রোষে পড়েছিলেন। এবং অতর্কিতে আক্রান্ত হয়ে তিনি ইংরাজদের নিকট বন্দি হলে শৈবালিনী তাঁকে উদ্ধারের জন্য তৎপর হয়ে ওঠেন। এবং নবাব মীরকাসেমের সহায়তায় তিনি ছদ্মবেশে বন্দি প্রতাপের ...
‘পাপিষ্ঠা এই কথা বলিবার জন্যই আসিয়াছিল।’ –পাপিষ্ঠা কেন? কেন তাঁকে পাপিষ্ঠা বলা হয়েছে? সে কী কথা বলবার জন্য কোথায় এসেছিল? সত্যই কী সে পাপিষ্ঠা?
এখানে পাপিষ্ঠা বলতে শৈবালিনীকে নির্দেশ করা হয়েছে। উপন্যাসের তৃতীয় খণ্ডের দ্বিতীয় পরিচ্ছেদে নূতন পরিচয় অংশে বিষয়টি বর্ণিত হয়েছে। নবাব মীরকাসেমের নিকট উপস্থিত হয়ে শৈবালিনী প্রতাপের সম্যক পরিচয় দানের পর তিনি নিজের সম্পর্কে মিথ্যার আশ্রয় নেন। তিনি নিজেকে প্রতাপের স্ত্রী রূপসী রূপে পরিচয় দিলেন। এই কারণে তাঁকে পাপিষ্ঠা বলা হয়েছে। ইংরাজ অতর্কিতে প্রতাপে গৃহ আক্রমণকে দলনীসহ ...
“তাও করিতাম — কেবল স্ত্রী হত্যার ভয় করি নাই, কিন্তু তোমার মরণ ভালো।” –কে কাকে এই কথা বলেছে? বক্তা কী করতো? সে কেন মৃত্যু কামনা করেছে? উক্তির মধ্য দিয়ে বক্তার কোন্ চরিত্র প্রকাশিত হয়েছে?
এই কথাগুলি বলেছেন প্রতাপ। উপন্যাসের দ্বিতীয় খণ্ডের ষষ্ঠ পরিচ্ছেদে বজ্রাঘাত অংশে এই বিষয়টি অভিব্যক্ত হয়েছে। প্রতাপ উক্ত কথাগুলি পাপিষ্ঠা শৈবালিনীকে বলেছিলেন। অপহূতা শৈবালিনীকে ফষ্টরের নৌকা হতে বীরবিক্রমে যুদ্ধ করে উদ্ধার করার পর, নিজগৃহে এনে প্রতাপ ক্ষণিকের জন্য ঘুমন্ত শৈবালিনীকে বিহ্বল হয়ে পড়েছিলেন পূর্ব স্মৃতির কথা ভেবে। কিন্তু পরক্ষণেই শৈবালিনী জেগে উঠলে তাঁকে তিনি ঘৃণাভরে বলতে ...
