বঙ্কিম সৃষ্ট নারী চরিত্রগুলির মধ্যে শৈবালিনী কীভাবে বিশিষ্ট্য হয়ে উঠেছে- আলোচনা করে দেখাও।
বঙ্কিমচন্দ্রের আবির্ভাবকালে বাংলার চিরায়ত সমাজ নবযুগের নতুন চিন্তার প্রভাবে প্রবলভাবে আলোড়িত হয়ে উঠেছিল। পুরাতন সমাজ তখন ভাঙনের মুখে। এ হেন সময়ে সমাজকে একটি সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর স্থাপনের গুরুদায়িত্ব বঙ্কিমচন্দ্রের ওপর বর্তেছিল। তাই তিনি পুরুষের সংযম, বিবাহিতা নারীর সতীত্ব ও বিধবার ব্রষ্মচর্য পালনকে সমাজ-সংরক্ষণের পক্ষে সেদিন আবশ্যক মনে করেছিলেন। যদিও বিধবার অন্য পুরুষের প্রতি আকর্ষণ, বিবাহিতা ...
উনিশ শতকে রচিত (চরিত্র) চন্দ্রশেখর উপন্যাস মানবিক প্রেমের ব্যতিক্রমী চিত্র রচনা করেছে। -এ বিষয়ে তোমার মতামত দাও।
‘চন্দ্রশেখর’ উপন্যাসে আদর্শবাদী, নীতিবাদী বঙ্কিমচন্দ্র যদিও দাম্পত্য প্রণয়ের জয়গৌরব ঘোষণা করেছেন, কিন্তু কবি বঙ্কিম, স্রষ্টা বঙ্কিম শৈবালিনীর যে জীবনকথার পরিচয় দিয়েছেন তা নিঃসন্দেহে আধুনিকতার বাণীমন্ত্রবাহী। আধুনিক যুগ হল ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদ প্রতিষ্ঠার যুগ। নারীমুক্তি, স্বাধীন হৃদয়বৃত্তির পরিচয় প্রকাশে সেই ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদেরই জয়গৌরব ঘোষিত হয়েছে। অবৈধ অসামাজিক প্রণয়কথা আধুনিক সাহিত্যের বৈশিষ্ট্যস্বরূপ। তবে শুধুমাত্র বন্ধনহীন প্রণয়ালেখ্য চিত্রণে বিশেষ কোনো অভাবনীয়তার ...
বঙ্কিমচন্দ্র চন্দ্রশেখরের শৈবালিনী-প্রতাপ চরিত্র তিনটির মধ্য দিয়ে নরনারীর জটিল ও বৈচিত্র্যময় সম্পর্কে প্রতিফলন ঘটিয়েছেন– আলোচনা করো।
‘চন্দ্রশেখর’ উপন্যাসমধ্যে প্রতাপ ও শৈবালিনী ছিল বাল্য হতে প্রেমিক প্রেমিকা। কিন্তু, প্রতাপ অস্তকরণে জেনেছিলেন– শৈবালিনীর সঙ্গে তাঁর বিবাহ হবে না। কারণ, শৈবালিনী তাঁর জ্ঞাতি কন্যা। কিন্তু শৈবালিনী জানতেন প্রতাপের সঙ্গে তাঁর বিবাহ হবে। যখন প্রতাপের নিকট ক্রমেই অবগত হল– ইহজীবনে প্রতাপের সঙ্গে তাঁর বিবাহ অসম্ভব, তখন শৈবালিনী বুঝলেন, প্রতাপ ভিন্ন তাঁর ইহজীবনে সুখ নেই। কাজেই ...
শৈবালিনী চরিত্রের প্রায়শ্চিত্য অংশ কী নীতিবাদী বঙ্কিমের ভাবনাজাত অথবা শিল্পী বঙ্কিমের চেতনাপ্রসূত? -এ বিষয়ে তোমার বিশ্লেষণধর্মী মতামত দাও।
চন্দ্রশেখর উপন্যাসের চতুর্থ খন্ডের নাম ‘প্রায়শ্চিত্য’। এই অংশে শৈবালিনীর নরক দর্শনের চিত্রটি বর্ণিত হয়েছে। এই অংশটি সম্পর্কে জনৈক সমালোচক যথার্থ মন্তব্য করেছিলেন– “শৈবালিনীর নরকদর্শন বর্ণনা এমন শক্তিশালীতার পরিচায়ক যে, পড়িতে পড়িতে শিহরিয়া উঠিতে হয় এবং মেরী কলেরীর ‘Sorrows of the Satan’ এরটি বহুজনাদৃত ও ভীষণ সৌন্দর্য্যপূর্ণ অংশ মনে পড়ে। বঙ্কিম মনুসংহিতা ও পুরাণ হইতে নরকের ...
চন্দ্রশেখর উপন্যাসের বেশ কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা ঘটেছে রাত্রির প্রেক্ষাপটে —এইরকম তিনটি ঘটনা অবলম্বনে বিশ্লেষণ করে দেখাও রাত্রির ব্যবহার উপন্যাসে কীভাবে গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যময় হয়ে উঠেছে।
উপন্যাসের পাত্রপাত্রীর মানসলোক উদ্ঘাটনে প্রকৃতি বর্ণনা একান্ত বাঞ্ছনীয়। প্রকৃতির সংকেতময়তা ফুটে ওঠে চরিত্রের অন্তর্লোকের রহস্য। কাজেই মানসজগতকে যথাযথভাবে রূপ দিতে গেলে প্রকৃতির জগতের দ্বারস্ত হতে হয়। চন্দ্রশেখর-এর মধ্যে ঐতিহাসিক উপাদান যথাযথভাবে সংস্থাপিত হলেও তবে তা মূল ঘটনা বহির্ভূত। মূল ঘটনার চরিত্রগুলি অনৈতিহাসিক। তাঁদের মানসলোকের চিত্র উপন্যাস মধ্যে স্বতোৎসারিত ভাবে উপস্থাপিত হয়েছে। তাই চন্দ্রশেখর ঐতিহাসিক উপন্যাসরূপে ...
