দলনীর চক্ষু হইতে ক্রোধে অগ্নিস্ফুলিঙ্গ নির্গত হইল। সেই ক্ষুদ্র দেহ উন্নত করিয়া এছতা দাঁড়াইয়া দলনী বলিলেন– ‘সে তোমার মতো পাপিষ্ঠের কাছে প্রাণ দান গ্রহণ করে সে তোমার অপেক্ষাও অধম– বিষ আন।’— দলনী কাকে কেন পাপিষ্ঠা শিন বলেছিল? এই উক্তির আলোকে দলনীর চরিত্রবৈশিষ্ট্য ও ভাগ্যবিড়ম্বিত তব জীবনবৃত্তান্ত লিপিবদ্ধ করো।
দলনী পাপী বলেছিলেন তকি খাঁকে। তকি খাঁ দলনীকে উদ্ধার করতে গিয়ে ইংরাজ সায়েবদের যুদ্ধে হত্যা করেও যখন দলনীর সন্ধান পেলেন না তখন তিনি নবাবের নিকট মহত্ব জাহির করতে মিথ্যার আশ্রয় নেন। নবাবকে পত্রমারফৎ জানালেন– দলনী সম্প্রতি অমিয়টের অঙ্কশায়িনী, নবাবের নিকট ফিরতে নারাজ। নবাব প্রিয়তম পত্নীর এই ব্যাভিচারিতার বিচারবুদ্ধিতে অন্ধ হয়ে গেলেন, এবং ক্রোধে উন্মত্ত হয়ে ...
‘এ সংসারে নবাবি এইরূপ।’- উপন্যাসকারের এই উক্তির কারণ ও ব্যঞ্জনা বিশ্লেষণের সাহায্যে উপস্থিত করো।
ইংরাজদের সঙ্গে নবাবের সমূহ যুদ্ধে বিরত থাকতে দলনী অন্তঃপুর ত্যাগ করে বাদী কুলসমকে নিয়ে রাতের অন্ধকারে সেনাপতি এবং ভ্রাতা গুরগন খাঁর নিকট এসেছিলেন, কিন্তু গুরগন খাঁর সঙ্গে সাক্ষাতের পর তিনি বুঝলেন সেনাপতি সম্প্রতি নবাবের সঙ্গে চক্রান্তে লিপ্ত হয়েছেন। সংবাদটি তিনি নবাবের নিকট পৌঁছে দেওয়ার জন্য দ্রুত দূর্গাভিমুখে ধাবিত হলেও গুরগনের নির্দেশে দ্বাররক্ষক ফটক বন্ধ করে ...
“চিন্তার ফলে তাহার জীবন-নদীতে প্রথম বিপরীত তরঙ্গ বিক্ষিপ্ত হইল।” –কার জীবন-নদীতে কী অবস্থায় বিপরীত তরঙ্গ বিক্ষিপ্ত হয়েছে? প্রথম বিপরীত তরঙ্গ বলার কারণ কী? এর ফলে চরিত্রটির কী পরিণতি হল?
শৈবালিনীর জীবন-নদীতে বিপরীত তরঙ্গ বিক্ষিপ্ত হয়েছে। লরেন্স ফষ্টরের নৌকা থেকে অপহ্তা শৈবালিনীকে ইংরাজের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়ে শৈবালিনীকে উদ্ধার করার অপরাধে প্রতাপ ইংরাজ কর্তৃক আক্রান্ত হয়ে বন্দি হয়েছিলেন। পরে শৈবালিনী নবাবের সহায়তায় ছদ্মবেশে বন্দি প্রতাপকে ইংরাজ নৌকা থেকে মুক্ত করতে সমর্থ হয়েছিলেন। প্রতাপ, ও শৈবালিনী ইংরাজ নৌকা থেকে গঙ্গাবক্ষে ঝাঁপ দিয়ে পলায়ন করেছিলেন। তাঁরা গঙ্গার ...
চন্দ্রশেখর উপন্যাসে ইতিহাসের যুগসন্ধিক্ষণের সৃষ্ট ইংরাজ চরিত্রগুলি: ভূমিকা ও বৈশিষ্ট্য আলোচনা করো। উপন্যাসটিকে ইংরাজ সম্পর্কে লেখকের কোন বিশেষ মানসিকতা প্রতিফলিত হয়েছে।
‘চন্দ্রশেখর’ এ গ্রথিত গৌণ কাহিনিটি প্রধানত গড়ে উঠেছে বাংলার শেষ নবাব মীরকাসেমের সঙ্গে বণিক ইংরেজের সংঘাতকে কেন্দ্র করে। এই সংঘর্ষের বর্ষণসূত্রে উপন্যাসকার বঙ্কিমকে বর্তমান আখ্যায়িকায় কয়েকটি ইংরাজ চরিত্রের অবতারণা করতে হয়েছে। অবশ্য তারা অপ্রধান ভূমিকায় অবতীর্ণ। তাদের আলেখ্য নির্মাণের মাধ্যমে বঙ্কিম এদেশে সমাগত তৎকালীন ইংরেজের যে চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন তাতে ইতিহাসের সমর্থন আছে। ...
জ্ঞান তাপস চন্দ্রশেখর কখন, কেমন করে প্রেমিক চন্দ্রশেখরে রূপান্তরিত হলেন? চন্দ্রশেখর উচ্চ আদর্শের প্রতিরূপ অথবা মানবিক মহিমায় দীপ্ত?– এ বিষয়ে তোমার মতামত দাও।
‘চন্দ্রশেখর’ উপন্যাসে লেখকের দৃষ্টিতে চন্দ্রশেখরই আদর্শ চরিত্র। তাই বোধ হয়, কাহিনির প্রধানতমা চরিত্র শৈবালিনী কিংবা প্রধানতম পুরুষ চরিত্র প্রতাপের নামাংকে লেখক গ্রন্থটির নামকরণ করেননি। আদর্শ চরিত্র চন্দ্রশেখরের নামেই উপন্যাসের নামকরণ করা হয়েছে। চন্দ্রশেখর উদার মহৎ চরিত্রের অধিকারী। গীতায় যে নিষ্কাম কর্মসাধনার আদর্শ প্রকাশ পেয়েছে– চন্দ্রশেখর চরিত্রকল্পনায় তারই উপস্থাপনা। অবশ্য সুস্পষ্টভাবে নয় আভাস ব্যঞ্ছনার মধ্য দিয়ে ...
