সূচনা : ধ্রুপদী গ্রীষ ও রোমানের মিথ বলে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মিথগুলির মত গ্রীক মিথের প্রধান উৎস হলো হোমারের দুই মহাকাব্য ইউনিয়ন ও ওডিসি। এছাড়াও টেলেগোনিয়া কাব্য, সফওক্লএস এবং এউরিপেদেস- এর ট্রআজএডইসমঊহ, আপুলেইয়াসের দ্য গোল্ডেন অ্যআস, পৌসানিয়াসের গাইড টু গ্রিস, প্লাতোর টিমায়েউস প্রভৃতি রচনা। গ্রীক ধ্রুপদী মিথলজির আকার হিসেবে বিবেচিত হয়। গীত মিথ গুলি তুলনায় রোমের মিথগুলিতে কিংবদন্তি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, নৈতিক আদর্শ এবং দেবী শক্তির অনুপ্রবেশ লক্ষ্য করা যায়। রোমান মিথের উৎস হিসেবে ভার্জিলের রচনা লিভির ইতিহাস, ডায়োনিসুস অফ হালিকার্নাসের হিস্ট্রি অব আলী, রোম, ওভিদ, ভারো এবং সন্ত অগআস্তইনএর রচনা হলো উল্লেখযোগ্য।
গ্রীক মিথ
(১) সৃষ্টির কথা
(১) হোমরীয় সৃষ্টি মিথ : গ্রীক সৃষ্টির কথা বিভিন্ন কাহিনীর অবতারণা লক্ষ্য করা যায়। হোমারের ইলিয়াড মহাকাব্যের কাহিনী অনুসারে এক কালো ডানা যুক্ত বিরাট পাখি একটি ডিম প্রসব করে। এই দিনটির দুটি অংশ থেকে অউরানস ও গেইআ জন্ম নেন। এরা ছিলেন স্বর্গ ও মতের রূপ এবং প্রথম জনগণ ও জননী হিসেবে ওকিয়ানস (সমুদ্র) এবং টেথিস (ধাত্রী)- র জন্মদাতা। এরাই পরবর্তীকালে একে জন্ম দেয় ক্রুনস,..রিয়া, ফর্কইস এবং অন্যান্য টাইটানদের।
(২) পেলাসগীয় সৃষ্টি মিথ : পেলাসগীয় সৃষ্টি মিথ অনুযায়ী শুরুতে দেবী ইউরিনোম এর উদ্ভব ঘটে। পা রাখার মতো জায়গা না পেয়ে তিনি আকাশ থেকে সমুদ্রকে আলাদা করে দেন। এরপর তিনি সমুদ্রের ঢেউয়ের ওপর নেমে নেমে দক্ষিণ দিকে এগিয়ে চলেন। তাকে অনুসরণ করে বাতাস। শুরু হয় বিশ্ব সৃষ্টি প্রক্রিয়া। মহা সর্প ওফইয়ন এর সঙ্গে ইউরিনোম মিলিত হয়ে একটি ডিম প্রসব করেন। তা থেকে সূর্য, চন্দ্র, গ্রহ, তারা, পৃথিবী, নদী, পর্বত, বৃক্ষ ও প্রাণ্কূল জন্ম নেয়।
(৩) অলিম্পিয় সৃষ্টি মিথ : এই সৃষ্টি মিথ অনুযায়ী অসীম অন্ধকার (ক্যাওস) থেকে ধরিত্রী মাতা (গেইয়ার) জন্ম নেয়। তিনি নিৃদৃত অবস্থায় পুত্র আউরানসকে জন্ম দেন। অউরানস উর্বর বৃষ্টিপাত ঘটিয়ে ঘাস, বৃক্ষ, পুষ্প, পশুপাখি জন্ম দেন। সৃষ্টি হয় নদী, হদ ও সমুদ্র। এরপর জন্ম হয় টাইটানরা।
(২) মানুষের জন্ম কাহিনী
মানুষের জন্ম তথা মানব জাতির বিকাশ নিয়ে গ্রিসের নানা ধরনের মিথের প্রচলন লক্ষ্য করা যায়। অ্যাথেনীয়দের ধারণা অনুযায়ী পৃথিবী আদি মানুষ কেক্রপ্স এথেন্সের মাটি থেকে জন্ম নেয়। বোয়েশীয়রা মনে করে আদি মানব আলালকোমেনেউস কাপেই হদের মাছের আকারে জন্ম নেয়। আর্কাদিয়ার জনগোষ্ঠীর বিশ্বাস বিশ্বের প্রথম মানুষ হল পেলাসগসই। অন্যমতে অলিম্পসের দেবতা জেউস-এর আদেশে এই জিনার দ্বীপের পিঁপড়ে গুলো মানুষের আকার ন্যায় এবং তারা রাজা আইয়াকোস এর প্রজা হয়।
(৩) সভ্যতার সূচনার ধারণা
গ্রীক মিথের সভ্যতার সূচনার কাহিনী রয়েছে। গ্রীক আর্গীকরা মনে করত তাদের আদি পুরুষ ফোরেনেউসই মানুষের সম্প্রদায়গতভাবে বাস করতে শিখিয়েছিলেন। তারা আরো মনে করেন যে তিনি আবার্গীয়দের ধারণায় তাদের জাতিভুক্ত পেলাসগসই মানুষের প্রথম কুঠির তৈরি করতে এবং জন্তুর চামড়া থেকে পোশাক তৈরি করতে শিখিয়েছিলেন। এছাড়াও তিনি পশুর মত জীবন ধারণের পরিবর্তে মানব জীবনের রীতি নীতিগুলি শেখান।
(৪) মহাপ্লাবন
প্রাচীন সুমেরীয়দের মতে গ্রিকরা ও মহাপ্লাবন কাহিনীতে বিশ্বাস করতো। এই কাহিনী অনুযায়ী দেবতা, জিউস ব্রোঞ্জ যুগের মানুষদের পাপের অপরাধে ধ্বংস করার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি পৃথিবীতে একটানা বৃষ্টিপাত ঘটায়। প্রবল বর্ষণ সমস্ত মানুষ ভেসে যায়। কয়েকজন পাহাড়ে গিয়ে আশ্রয় নেয়। একদিকে-দিউকালিয়ন পিতা প্রমেথেউসের আদেশ মেনে যে সিন্দুক তৈরি করেছিলেন তার ওপর সে আর তার স্ত্রী পিরহা ভেসে রইল। বর্ষণ বন্ধ হলে দিউকালিয়ন জিও এর কাছে এক নতুন মানবজাতির প্রার্থনা করলেন। জিউস তার প্রার্থনায় সাড়া দিয়ে দিউকালিয়ন কে ভুমি থেকে কিছু পাথর কুড়িয়ে তার মাথার উপর দিয়ে ছড়ার আদেশ দিলেন। এই পাথরগুলি থেকে জন্ম নিলেন পুরুষেরা। দিউকালিয়ন এর স্ত্রী পিরহা এরকমভাবে পাথর ছুড়লে জন্ম হয় নারীদের।
রোমান মিথ
(১) রোমান সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠার কাহিনী
প্রাচীন রোমান পৌরাণিক কাহিনী অনুযায়ী টাইগার নদীর তীরে ৭টি পাহাড় ছিল। এর মধ্যে অন্যতম ছিল এলবান পাহাড়ের শাসক প্রোকাশের দুই ছেলে লুমিটার এবং এমুলিয়াস। এমুলিয়া সিংহাসন দখল করে লিমিটারের একমাত্র ছেলেকে খুন করলেন। নোমিটারের মেয়ে সিলভিকাকেও বিবাহ করতে দিলেন না। কিন্তু মার্চ দেবতার বরে সেলভিকা জমজ সন্তানের জন্ম দেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে এমুলিয়াস সিলভিকাকে হত্যা করে তার যমজ সন্তানদের নদীর জলে ভাসিয়ে দিলেন। কথিত আছে একটি বাঘিনী শিশুর শিশু দুটিকে উদ্ধার করে নিজের শাবকের মতো পালন করতে থাকে। এরপর এক চাষী তাদের নদীর থেকে উদ্ধার করে বড় করলেন। এদের একজন রোমুলাস ও অপরজন রিমাস। দুই ভাই মিলে এমুলিয়াস কে হত্যা করে লুমিটারকে পুনরায় সিংহাসনে বসালেন। এরপর সেই রাজ্যে না থেকে দুই ভাই টাইবার নদীর তীরে অন্য এক পাহাড়ে বসবাস শুরু করলেন এবং এক নতুন শহরের প্রতিষ্ঠা করলেন। শহরের নামকরণ নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে সংঘর্ষণ বাধলো। এতে রিমাস কে হত্যা করে রোমুলাস জয়ী হলেন। রোমুলাস এর নাম অনুসারে শহরটি নাম হলো রোম। প্রতিষ্ঠা হল রোম সাম্রাজ্যের।
(২) সৃষ্টির রহস্য
এক্ররীয় মিথলজিতে বিশ্ব তত্ত্ব তথা সৃষ্টির রহস্যের উল্লেখ মেলে। এই তত্ত্বে বলা হয় স্রষ্ঠা বারটি সহস্রাবাতকে বিশ্ব সৃষ্টির কাজে লাগানো এবং সেগুলিকে বারটি রাশির চিহ্ন দেন। এক একটি সহস্রাবাদে এই বিশ্বের এক একটি উপাদান তৈরি হয়। প্রথম সহস্রাবাদে বিশ্ব স্রষ্ঠা তৈরি করেন স্বর্গ ও পৃথিবী। এরপর একে একে দ্বিতীয় সহস্রাব্দে সূর্য ও নক্ষত্র মন্ডল, পঞ্চম সহস্রব্দে বাতাস, ষষ্ঠ সহস্রব্দে মানুষ সৃষ্টি হয়। বলা হয় ছয় সহস্রব্দে জুড়ে এরা টিকে থাকবে এবং তারপরে ধ্বংস হয়ে যাবে। এক্রএরঈয় মিথলজিতে প্রথম কিভাবে মানুষ তৈরি হলো তার বর্ণনা রয়েছে। বলা হয়েছে প্রথম মানুষ ছিলেন টাগেস। যিনি লাঙ্গলের ফলায় ওটা কাদা থেকে সৃষ্ট হন।
(৩) ভার্জিলের ঈনিড
ভার্জিলের ঈনিড কাব্যে স্ট্রোজান বংশে আইয়েনিয়াসের ভ্রমণ কাহিনীকে মূল বিষয় হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। কাহিনীটি সংক্ষেপে একরকম-আইনেয়াস হলো আনকিসেস ও ভীনাস এর পুত্র। ট্রয় নাগরী ধ্বংস হওয়ার পর সে তার পিতা ও ছোট পুত্র জুনুসকে নিয়ে এক দীর্ঘ অভিযান চালায়। দেবতা অ্যআনএলওর মন্দিরে দৈব বাড়ি থেকে সে জানতে পারে তাদের পূর্বপুরুষের ঠিকানা খুঁজে বের করতে পারলে সেখানেই তাদের নতুন আবার আবাসভূমি গড়ে উঠবে। এইভাবে বহু উত্থান পতনের মধ্যে দিয়ে আইয়েনিয়াস একসময় ট্রাইবার নদীর মোহনায় আসেন। এই অঞ্চলের তখন রাজা ছিলেন লাতিনুস। রাজা আইয়েনিয়াসের সঙ্গে নিজের কন্যা লাভিনিয়ার বিবাহ স্থির করেন। লাভিনিয়ারকে বিয়ের পর আইয়েনিয়াস লাতিউমে এক নতুন নগরী লাভিনিয়ম গড়ে তোলেন।