আজাদ হিন্দ বাহিনীর ভারত অভিযানের বর্ণনা দাও?

ভূমিকা

নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু নেতৃত্বে আজাদ হিন্দ বাহিনীর ভারত অভিযান এক স্মরণীয় ঘটনা। নেতাজি চেয়েছিলেন তার আজাদ হিন্দ সেনার পূর্ব সীমান্ত দিয়ে ভারতের প্রবেশ করে দিল্লির লালকেল্লা অধিকার করবে। তিনি সেনাদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন -“যদি ঈশ্বরের ইচ্ছা হয়, শরীরের মৃত্যুবরণ করবো এবং আমাদের শেষ নিদ্রায় সেই পথকে চুম্বন করব, যে পথ ধরে আমাদের সৈন্যদল দিল্লি পৌঁছাবে।”

আজাদ হিন্দ বাহিনীর ভারত অভিযান

১. যুদ্ধ পরিকল্পনা

সুভাষচন্দ্র বসু ও জাপানি সেনাধ্যক্ষ কাওয়াবের মধ্যে এক যুদ্ধ পরিকল্পনা রচিত হয়। এই পরিকল্পনা ঠিক হয় আজাদ হিন্দ বাহিনী সুবাস ব্রিগেড ও ৩১ নম্বর জাপানি বাহিনী মিলিতভাবে আরাকান ফন্টে অভিযান করবে এবং ইম্ফলের দিকে এগিয়ে যাবে। সামরিক অভিযানের সুবিধার্থে ভারতের নিকটবর্তী রেঙ্গুনে প্রধান সামরিক দপ্তর করে তোলা হয়।

২. অভিযানের সূচনা

আজাদ হিন্দ বাহিনীর বিভিন্ন ব্রিগেডের মধ্যে সুবাস ব্রিগেডের প্রথম দলটি তাইপুং থেকে যাত্রা শুরু করে ১৯৪৩ খ্রিস্টাব্দের ৯ নভেম্বর। আজাদ হিন্দ ফৌজ এ দুটি ডিভিশনে কুড়ি হাজার সেনার মধ্যে প্রথম রিভিউ সংটি পরিচালনা করে মেজর জেনারেল জার্মান কায়ানি। দ্বিতীয় ডিভিশনটির পরিচালনা করে কর্নেল শাহন‌ওয়াজ।

৩. রেঙ্গুনে পর্দার্পণ

জাপানি নেতাদের সহযোগিতা, নেতাজির বলিষ্ঠ নেতৃত্ব ও উজ্জীবনী মঞ্চে দীক্ষিত আজাদ হিন্দ সেনার ১৯৪৪ এর জানুয়ারিতে রেঙ্গুনে এসে উপস্থিত হন। রেঙ্গুনে আজাদ হিন্দ সেনা ২৪টি ভাগে ভাগ হয়ে গিয়ে অভিযান শুরু করে।

৪. ভারত সীমান্তে অভিযান

রেঙ্গুন থেকে নদী, পাহাড়, অরণ্য পেরিয়ে পায়ে হেঁটে আজাদ হীন সেনারা ভারত সীমান্তের দিকে এগিয়ে চলে। সেসময় দৈনন্দিন আসি পাউন্ড ওজনের জিনিসপত্র কাধে নিয়ে গড়ে ২৫ মাইল করে হেঁটে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্মী দিকে এগিয়ে চলাই ছিল দৈনন্দিন কাজ। জাপানি সেনা যে পথ পাঁচ দিন অতিক্রম করতো, তাড়াতাড়ি সীমান্তে পৌঁছানোর আগ্রহে আজাদ হিন্দ সেনারা সে পথে দুদিনে অতিক্রম করতে শুরু করে।

৫. সীমান্তে প্রবেশ

কক্রবাজার থেকে ৫০ মাইল দূরে মৌডক ব্রিটিশ ঘাঁটিতে আক্রমণ চালায় আজাদ হিন্দ বাহিনী। অতর্কিত এই আক্রমণে ব্রিটিশ সেনার প্রচুর অস্ত্রশস্ত্র ও গোলা বারুদ ফেলে পালিয়ে যায়, সেগুলি দখল করে নেয় আজাদ হিন্দ সেনারা।

৬.মৈরাং এ জাতীয় পতাকা উত্তোলন

একে একে কোহিমা দুর্গ ও ডিমাপুর কোহিমা রোডের একটি ক্যান্টনমেন্ট দখল করে আজাদ হিন্দ সেনারা ১৯৪৪ খ্রিস্টাব্দের চার এপ্রিল। মনিপুরের অন্তর্গত পূর্ণিমা শহরটি ও তারা দখল করে নেয়। মনিপুরের মৈরাং এ জাতীয় পতাকা তোলা হয় ১৯৪৪ খ্রিস্টাব্দে ১৪ই এপ্রিল। শুরু হয় মনিপুরে রাজধানী ইম্ফল দখলের লড়াই।

৭. আত্মসমর্পণ

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের কোন ভাষা পরিস্থিতি এবং প্রত্যাবর্তনের আজাদ হিন্দ বাহিনীর সেনারা যায়। এদিকে তীব্র বর্ষা নেমে যাওয়ায় এবং নূন্যতম প্রয়োজনীয় খাদ্য ও যুদ্ধ সরঞ্জামীর অভাবে আজাদ হিন্দ সেনারা বাধ্য হয় পিছু হতে। ইম্ফল বা মনিপুর সীমান্ত ব্রিটিশ সেনাপতি স্লিম ও স্কুনের নেতৃত্বে ব্রিটিশ সেনারা এগিয়ে আসে। ব্রিটিশের ভারী ট্যাংকর, কামান এবং বিমান বাহিনী আক্রমনে আজাদ হিন্দ সেনাদের অগ্রগতি ব্যাহত হয়। অবশেষে জাপান মিত্রশক্তির কাছে আত্মসমর্পণ করলে ১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দে ১৫ আগস্ট আজাদ হীন সেনারা অস্ত্র ত্যাগ করতে বাধ্য হয়। সহকর্মীদের পরামর্শ নেতাজি আত্মসমর্পণ থেকে বিরত থাকেন।

৪. নেতাজির অন্তর্ধান

আজাদ হিন্দী সেনাদের আত্ম সমর্পণের ফলে নেতাজীর দিল্লি দখল অধরা থেকে যায়। কিন্তু তিনি ভেঙ্গে না পড়ে, দুচোখে নতুন স্বপ্ন নিয়ে বার্মা এখানকার মায়া নামার থেকে সয়গন এ পৌঁছন। কথিত আছে, যে এরপর ফরমজার কাছে তাই- হোকুতে এক বিমান দুর্ঘটনার তার মৃত্যু হয়। সিঙ্গাপুর আজাদ হিন্দ সেনাদের অবদানকে স্বীকার করে যে স্মৃতিফলক স্থাপন করা হয়েছে, তাতে ঐক, বিশ্বাস ও আত্মোৎসর্গ শব্দ গুলি উল্লেখিত আছে। আজও আজাদ হিন্দ যোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাই।

উপসংহার

আজাদিন সোনাদের দিল্লি পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেনি বটে, কিন্তু তাদের ভারতের অভিযানের সামগ্রিক প্রচেষ্টা মূল্যহীন নয়। ভারতে পরাধীনতার ওজনের লক্ষ্যে আজাদ হিন্দ সেনাদের ভারত অভিযান সমকাল ও পরবর্তীকালে প্রজন্মকে গভীর দেশাত্মবোধে উদ্বুদ্ধ করে। নেতাজির মতো নেতৃত্বের আদর্শ ও মূল্যবোধ চিরকালীন। আজাদ হিন্দ সেনাদের ভারত অভিযানের মূল্যায়নে শাহানাওয়াজ খান বলেছেন ‌- “নানা অসুবিধার সত্ত্বেও এই অভিযান আমরা ভারতের অভ্যন্তরে ১৫০ মাইল অগ্রসর হয়েছিলাম, কোনরকম রণ ক্ষেত্রেই আমরা পরাজিত হইনি।

উচ্চমাধ্যমিক ইতিহাস বইয়ের সমস্ত প্রশ্নের উত্তর

Leave a Comment